শনিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

‘বিড়ালের ইঁদুর ধরা দেখে মানসিকভাবে অসুস্থ খালেদা জিয়া’

জুন ১৭, ২০১৮ | ১:০১ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: কারা কক্ষে ইঁদুর, বিড়াল, বিছা, ছারপোকা, তেলাপোকাসহ নানা ধরনের পোকা-মাকড়ের ‘শিউড়ে ওঠা’ উপদ্রবের বর্ণনা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিড়ালের ইঁদুর ধরার দৃশ্য দেখার পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন খালেদা জিয়া।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডাম এখন অনেক বেশি অসুস্থ। গতকাল পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখেছেন, আগে তিনি নিজে হেঁটে আসতেন। এখন তিনি সাহায্য ছাড়া হেঁটে আসতে পারছেন না। তাকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, ধরতে হচ্ছে। তারপর তিনি হেঁটে আসতে পারছেন।’

রোববার (১৭ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘শত বছরের পুরনো ওই কারাগারে বড় বড় ইঁদুর দৌড়ায়। এতগুলো বিড়াল ওখানে, যারা ইঁদুর ধরে। আপনারা শুনলে হতবাক হবেন, ম্যাডামের ঘরের মধ্যে একটি বড় ইঁদুরকে ধরেছিল একটি বড় বিড়াল। তারপরই ম্যাডাম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উনি তো এসব দেখে অভ্যস্ত নন। তেলাপোকা, ছারপোকা কমন ব্যাপার—আছে বড় বড় বিছা।’

‘আমরা বহুবার বলেছি, একটা পরিত্যক্ত, জরাজীর্ণ শত বছরের পুরনো কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে— যেটা কোনো সভ্য সমাজে রাখা হয় না। তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ। তিনি ছাড়া ওই কারাগারে আর কোনো বন্দি নেই। যে কয়েকজন কারা কর্মকর্তা, কর্মচারী রয়েছেন, তারা তাদের কাজ অনুযায়ী সবসময় দূরে দূরে থাকেন। আমাদের এখানে সবারই কারা অভিজ্ঞতা আছে। সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে, এটা তো একটা ভূতুড়ে জায়গা’—বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘গতকাল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে স্বজনরা আমাদের যা জানিয়েছেন তাতে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। আমরা মনে করছি যে, এটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন সাধারণ নাগরিক নন। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা বলেন যে, সব কিছু জেলকোর্ড অনুযায়ী হবে।’

‘সি ওয়াজ ফর্মার প্রাইম মিনিস্টার ফর থ্রি টাইমস। দুইবার তিনি বিরোধীদলের নেতা ছিলেন। ২৫টি আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন। কোনো দিন কোনো নির্বাচনে তিনি পরাজিত হননি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি নির্যাতিত হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়েছেন— এ কথা আমি অনেকবার বলেছি।’

ফখরুল বলেন, ‘উনি সোনার চামচ মুখে নিয়ে রাজনীতিতে আসেননি। রাজপথে লড়াই করে রাজনীতিতে এসেছেন। সেই নেত্রীর সঙ্গে সরকার যে আচরণ করেছেন, তা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ দেশের মানুষ কোনোদিনও সরকারকে ক্ষমা করবে না।’

‘আমরা যদি বুঝতাম যে, শুধুমাত্র মামলার জন্য তাকে আটকে রাখা হয়েছে— তা তো নয়। মামলায় তো জামিন পেয়ে গেছেন তিনি, আইনের মাধ্যমে— দয়ায় নয়। সেই জামিনও দেওয়া হচ্ছে না বিভিন্নরকম কৌশলে। লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটাই, দেশনেত্রীকে জনগণের কাছে আসতে না দেওয়া। দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা’— বলেন বিএনপির মহাসচিব।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা তার সঙ্গে এ আচরণ কেন করছেন। এটা তো সভ্য আচারণ নয়। অসভ্য বর্বরদের আচরণ। উনি রাজনৈতিক বন্দি। তার সঙ্গে রাজনৈতিক আচরণ করবেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেই রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ করেননি। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলছেন পিজিতে পাঠাব— সবচেয়ে ভাল ভাল ডাক্তার সেখানে। তারপর বলছে, সিএমএইচে পাঠাবো— এর চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো এ দেশের মানুষ। আমরা ভাল করে জানি, সিএমএইচে কী ধরনের চিকিৎসা হয়। কথাটা বলছি এই জন্য যে, তাদের ইনটেশনটা কী? ইনটেশনটা হলো, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দেওয়া এবং এখন পর্যন্ত তারা খালেদা জিয়াকে কোনো চিকিৎসা দেয়নি।’

‘কালবিলম্ব না করে যে হাসপাতালে তিনি চাচ্ছেন সেই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করা দরকার। শুধু ভর্তির ব্যাপার নয়, তাকে তো চিকিৎসার ব্যাপার আছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘উনার ব্যক্তিগত ডাক্তাররা বলেছেন, যে কোনো মুহূর্তে উনি প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন। এই দায় কে নেবে। এই দায় সরকারকে নিতে হবে। কারণ, উনি সরকারের কাস্টডিতে আছেন।’

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে শিপট করা দরকার উল্লেখ করে ফকরুল বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলছেন কেন। আমার আস্থাটা ওখানে। আপনারা রোগীর আস্থা দেখবেন না। আমরা তো সব ডাক্তারের কাছে যাই না। যে ডাক্তারের কাছে আস্থা থাকে সেই ডাক্তারের কাছে যাই। আমাদের আস্থা হলো ইউনাইটেড হাসপাতালে।

সিএমএইচে ভর্তির ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ নো, আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি সিএমএইচে ম্যাডামকে ভর্তি করা হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহীন, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, আবেদ রাজাসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এজেড/একে

‘বিড়ালের ইঁদুর ধরা দেখে মানসিকভাবে অসুস্থ খালেদা জিয়া’
‘বিড়ালের ইঁদুর ধরা দেখে মানসিকভাবে অসুস্থ খালেদা জিয়া’
‘বিড়ালের ইঁদুর ধরা দেখে মানসিকভাবে অসুস্থ খালেদা জিয়া’