সোমবার ২৮ মে, ২০১৮ , ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫, ১১ রমযান, ১৪৩৯

‘ব্যাংকের বিপদ মানে সবার বিপদ’

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭ | ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

তুহিন সাইফুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

পাঁচশ’ বছর আগেও গোটা পৃথিবীর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিলো ২৫০ বিলিয়ন ডলার বা তারও কম। বর্তমান পৃথিবীতে হিসাবটা এসে দাঁড়িয়েছে একশ ট্রিলিয়ন ডলারে! সেসময় মানুষের মাথা পিছু উৎপাদন ছিল প্রতি বছর ৫৫০ ডলার। এখন তা কমপক্ষে ১০,০০০ ডলার। আশ্চর্যজনক এই বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। তবে গোটা দুনিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থা যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে সেই পুরনো অন্ধকারে। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল পরিচালনার কারণে সাম্প্রতিককালে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে বেশক’টি দেশীয় ব্যাংক। বেশকিছু ব্যাংক হাঁটছে দেউলিয়া হওয়ার পথে! ব্যাংকিং খাতে এই বিপর্যয়ের কী কারণ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত সারাবাংলাকে জানালেন তার বিস্তারিত।


  • শুরুতেই এনআরবি ব্যাংক-এর প্রসঙ্গ

এনআরবি ব্যাংক তো বেশ সময় নিয়েই করা হয়েছে, হঠাৎ করে এনআরবি ব্যাংক হয় নাই। ওদের একটা অভিযোগ হচ্ছে, বিদেশ থেকে যেসব টাকা পয়সা বাংলাদেশে আসে, সেটা তাদের মাধ্যমে আসবে। সেটা হয়নি। কারণ বিদেশ থেকে যারা টাকা পাঠান তারা যেকোন ব্যাংকের মাধ্যমেই পাঠাতে পারেন। তাই হয়। রেমিটেন্সের টাকা যেটা আসে, এটা বেশ বড় অ্যামাউন্ট বিশ বা পঁচিশ বিলিয়ন ডলার হবে। কারণ হুন্ডি-হাওলা হয়েও তো আসে, সেটাও তো রিয়েল মানি। সরকার হিসেব দেখায় সেটা পনের-ষোল বিলিয়ন ডলার। আমার হিসেবে সেটা বিশ-বাইশ বা পঁচিশও বিলিয়নও হয়। এনআরবি ব্যাংকের একটা ধারণা ছিল, এই টাকাটা ওদের মাধ্যমে আসবে। এটা একটা আবদার। তবে এটা ভাল আবদার না কারণ যিনি বিদেশে থেকে টাকা উপার্জন করেন, সেই টাকা তিনি কোন ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাবেন সে সিদ্ধান্ত তার। আপনি জোর করে বলতে পারেন না, ‘আমি এনআরবি ব্যাংক খুলেছি আপনি আমার ব্যাংকে টাকা পাঠান।’

  • দ্রুতই চরিত্র হারিয়েছে এনআরবি

এনআরবি কর্তৃপক্ষ একটা অভিযোগ করে, রেমিট্যান্স না আসায় তাদের ডিপোজিট কম। সাধারণ ব্যাংক যেমন জনতা, সোনালী… এদের ডিপোজিট তো খারাপ না। ফারমার্স ব্যাংক এটা নিয়ে এমন বিপদে পড়লো যে এক পর্যায়ে ডিপোজিটরদের টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেললো। এটা প্রমাণ করে যে ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভালো না। এনআরবি ব্যাংক বিদেশ থেকে বাঙালিদের বিনিয়োগ আনার কথা বলেছিলো। ধরেন এনআরবি ব্যাংক বা এমন যে কয়েকটা আছে সবাই মিলে যদি বলতো, আমরা পদ্মাসেতু করে দেবো। কথার কথা। এটা অসম্ভব কিছু না। অর্থনৈতিক সমিতির পক্ষ থেকে ২০১২ সালে চল্লিশ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট করে, এক বছর খেটে আমরাই প্রথম বলেছিলাম নিজস্ব অর্থে পদ্মাসেতু সম্ভব। সেখানে বলা হয়েছিল, বিদেশে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের জন্য পদ্মাসেতুর প্রকল্পে দীর্ঘ মেয়াদী আলাদা বন্ড ইস্যু করা, যে বন্ডে সভেরেন গ্যারান্টি বা রাষ্ট্রীয় সাপোর্ট থাকবে। সেক্ষেত্রে সরকার বদল হলেও তাদের টাকা মার যাবে না। এই আইডিয়াকে শুরুতে এনআরবি ব্যাংকও স্বাগতম জানিয়েছিল। ওরা তখন বলছিল, সভেরিন গ্যারান্টি নিয়ে আসতে পারবে। তখন আমাদেরও আগ্রহ বাড়লো যে এরা যেহেতু পারবে তো এদেরকে একটা বা দুইটা ব্যাংক দিলে অসুবিধা কি! কিন্তু এরা সেটা পারেনি। আমরা ভেবেছিলাম এনআরবি বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জমানো টাকার একটা অংশ দেশে ফিরিয়ে আনবেন, এবং সিকিউর্ড ইনভেস্টমেন্ট এর নিশ্চয়তা দেবেন। কিন্তু এরা সেটা না করে অন্যান্য ব্যাংকগুলোর মতো করেই পরিচালনা শুরু করলো, এটা যে একটা স্পেশালাইজড নন রেসিডেন্ট ব্যাংক সেই চরিত্রটা তারা হারিয়ে ফেললো।

  • বাকী ব্যাংকদের কী অবস্থা…

শুধু ফারমার্স ব্যাংক বা এনআরবি ব্যাংক না, যদি ঠিক মতো হিসাবপত্র করা হয় তাহলে দেখা যাবে বাংলাদেশের বহু ব্যাংকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তবে এটা কিন্তু সমস্যাও না। এই জন্য যে, পৃথিবীতে বহুদেশে শতশত ব্যাংক শুরু হয়, আবার বন্ধও হয়। বন্ধ যখন হয় তখন আমানতকারীর টাকা মার যায় না। ওই গ্যারান্টি কিন্তু রাষ্ট্র দেয়। আবার অনেক ব্যাংক মারা যাওয়ার মতো হয়েও টিকে যায়। কেন টিকে যায়? অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একিভূত হয়ে টিকে যায়। এতে অসুস্থ ব্যাংকের শেয়ার মূল ব্যাংকের কাছে চলে আসে ফলে তার প্রাণ রক্ষা হয়। এমন আরো পদ্ধতি আছে। আর এটা ফ্রি মার্কেট ইকোনমিতে এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আমরা হা-হুতাশ করি। সাধারণ ডিপোজিটর কিন্তু তার ব্যাংকের ভেতরের খবর কোনদিনও জানে না। যতোই আপনি ট্রান্সপারেন্ট করেন না কেনো! কারণ তাকে ব্যালান্সশিট ধরে কথা বলা হয়। তো ব্যালান্সশিটটাই যদি ঠিক মতো না হয়! যে কথাটা আমি আগেও বলেছি যে, ব্যালেন্সশিটের ভেতরে ঢুকে যদি হিসাব করা হয়, তাহলে দেখা যাবে অনেক ব্যাংকের অবস্থাই সঙ্গীণ।

  • রাষ্ট্রের কোন পলিসির দায় রয়েছে কিনা…

একটা আছে। যখন ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেয়া হচ্ছে মোস্টলি রাজনৈতিক বিবেচনাতেই পাচ্ছে। এটা কিন্তু আমি নতুন বলিনি, একাও বলছি না। এমটা সবাই মনে করে। কারণ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত লোকদের নাম দেখলেই বুঝা যায় এটা রাজনৈতিক বিবেচনায় পাওয়া। তো এই লোকটা কেন? এই লোকের একটা ইন্ডাস্ট্রি আছে, একটা বড় ট্রেডিং আছে, একটা এয়ারলাইন্স আছে, এর আবার ব্যাংকের কি দরকার? এখন প্রশ্ন হচ্ছে- রাষ্ট্র যখন, রাষ্ট্র মানে বাংলাদেশ ব্যাংক, একটা ব্যাংকের অনুমতি দেয়, অনুমতি কি বাংলাদেশ ব্যাংক দেয়? নাকি বিবেচনাটা অন্য কোন জায়গা থেকে আসে? তবে অনুমতি যেই দিক, বা যেখান থেকে আসুক দায়দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকেরই। এই ব্যাংক যেন চলে সেটা দেখার দায়িত্বও বাংলাদেশ ব্যাংকের। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দেয়া হলেও, তার পরের কাজটা তো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপরই বর্তায়। প্রতিষ্ঠানটিতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাতটা ইন্ডিকেটরে কমপ্লায়েড হলো কিনা সেটা দেখবে, না দেখে অনুমতি দেবে না। এমনটাই হওয়া উচিত।

এই জন্য বলছি, পৃথিবীর যেকোন জায়গায় সেন্ট্রাল ব্যাংক হয় দুইরকম, একটা হচ্ছে সরকার পরিচালিত, আরেকটা ইন্ডিপেনডেন্ট বা স্বাধীন। আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী স্বাধীন। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি স্বাধীন হয় তাহলে সরকার অনুমতি দিলেও স্বাধীনভাবে ওই পাঁচ সাতটা ইন্ডিকেটরে দেখে চেক করে বলবে, ‘ওকে উই আর কনফিডেন্ট নাউ, এখন তোমরা ব্যাংকিং করতে পারো।’ একটা নিয়ম রয়েছে, যেমন কোনও ব্যাংকের টোটাল ডিপোজিটের ১৯ পারসেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকেই রাখতে হয়। এটা কেন? কারণ, যেকোন সময় একটা ব্যাংক বিপদে পড়লে ওই ১৯ পারসেন্ট কাজে লাগবে।

  • ব্যাংকের বিপদ কি শুধুই ব্যাংকের বিপদ…

ব্যাংকের বিপদ মানে আমানতকারীরও বিপদ। ব্যাংক বিপদে পড়া মানে যিনি টাকা লোন নিয়েছেন তারও বিপদ। ধরুন, কেউ একটা ব্যাংক থেকে একটা ইন্ডাস্ট্রি বানানোর টাকা নিলেন, তো ইন্ডাস্ট্রি করার পর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয়াটাও কিন্তু সেই ব্যাংকেরই দায়িত্ব। আপনি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিতে পারবেন না তাহলে ইন্ডাস্ট্রি বানানোর টাকা দিবেন কেনো? এই বিষয়গুলো সব দেখার দায়দায়িত্ব সেন্ট্রাল ব্যাংকের। আমি যদি বলি বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতি ছিলো তাহলে কিন্তু ভুল বলা হবে না। এবং অর্থমন্ত্রী মহোদয় যে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছেন জানার জন্য, এটা উনি ঠিকই করেছেন।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতি…

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর যারা সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন, তারা যেহেতু এখন গভর্নর না অনেক কথাই তারা বলতে পারেন। এখন যে কথাগুলো তারা বলেন বেশ ভালোই লাগে তা শুনতে, মনে হয় যেন খুব সত্য কথা বলছেন! আমার প্রশ্ন হচ্ছে ওনারা নিজেরা গভর্ণর থাকা অবস্থায় এই কথাগুলো বলেছেন কি? এটা হচ্ছে বাংলাদেশের একটা প্যারাডক্স। যে আপনি যখন জায়গায় বসে আছেন তখন আপনার কথাবার্তা একরকম, আর যখন আপনি ওখানে নাই তখন আপনি ফেরেশতা। একটা ব্যাপার বুঝতে হবে, ব্যাংক চালায় ম্যানেজমেন্ট, তারাই ব্যাংকের বোর্ড পলিসি ঠিক করে। যে পলিসি নির্ধারণ করা হয় সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি, সার্কুলার, দেশের প্রচলিত আইন সবমিলিয়ে সেটা নির্ধারিত হয়। ম্যানেজমেন্ট এমডি থেকে শুরু করে একদম গ্রামের সাধারণ ব্যাংকারসহ তারা এটাকে ইম্পলিমেন্ট করে। এখন যদি পলিসি নির্ধারণে ভুল হয়, তাহলে ভুলটাই ইম্পলিমেন্টেড হবে। আর পলিসি যদি সঠিক হয় তাহলে তারা সঠিকটা চেষ্টা করতে পারে, আবার না-ও পারে। পলিসি রিলেটেড দায়-দায়িত্ব প্রাক্তন গভর্নরদেরও কারণ পলিসি তাদের বানানো। তাহলে আজকে প্রাক্তন গভর্নররা যদি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই করা উচিৎ সেই করা উচিৎ, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে আপনার সময় আপনি এটা করেননি কেন? নাকি আপনার সময় সমস্যা ছিলো না? সমস্যা যদি না থেকে থাকে তাহলে উনি বললে ঠিক আছে। কিন্তু সমস্যা তো ছিলো, যেমন হলমার্ক!

  • আলোচনায় এলো বিতর্কিত হলমার্ক কেলেঙ্কারী!

হলমার্কের ঘটনায় কে দায়ী? এটা যদি ভালোভাবে গবেষণা করা হয় শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে বাংলাদেশ ব্যাংক দায়ী। এরা ২০১০ সালে বুঝতে পেরেছে যে হলমার্কের একটা ঝামেলা আছে। সেটা ২০১৩-১৪ সালে এসে কেন বলতে হবে? এতো সময় কেন লাগলো? তাদেরও তো ইন্ডাস্ট্রি ছিলো, সেই ইন্ডাস্ট্রি গুলোও বন্ধ করে দিয়েছেন! এটা সমাধান হতে পারে না। হলমার্কওয়ালারা বলছে, সামনে আরো বলবে। তারা বলছে, ইন্ডাস্ট্রিগুলো বন্ধ করে আপনারা যে ক্ষতিসাধন করছেন এতে পাঁচহাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, আমি চুরি করছি তিনহাজার কোটি এখন আমাকে দুইহাজার কোটি টাকা দিয়ে দেন। তাই হবে কিন্তু!

  • সত্যিই এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

একশত ভাগ আছে। এবং আমি মনে করি, এটা ন্যায়সঙ্গত। আমি চোর, আমার দশটা ইন্ডাস্ট্রি আছে, কিন্তু আমি ফাঁকফোকর দিয়ে তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছি, আপনি আমাকে ‘ডাকাত’ বলে ধরে আমার ইন্ডাস্ট্রিগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। আমি চোর আমার দোষ আছে, আমার ইন্ডাস্ট্রিগুলোর তো কোন দোষ নেই! আমার ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে আপনি এডমিনিস্ট্রেটর বসিয়ে দেন, বন্ধ করবেন কেন? এখন পাঁচ-ছয় বছরে আমার ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা, আমি চুরি করছি তিন হাজার কোটি তাহলে আমি আপনার কাছে দুই হাজার কোটি টাকা পাই। এটা বললে আপনি কি করবেন?

  • এমনটা হওয়ার কি কারণ…

এই সমস্যাগুলো হয় কারণ, যে ঘটনার ব্যাংকিং সল্যুশন হতে পারত, আমরা হিরো হওয়ার জন্য সেটার নন-ব্যাংকিং সল্যুশনের দিকে চলে যাই। একসময় এটি করে হিরো হলেন যারা, তারপর তারো জিরোও হয়েছেন! বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে টাকা চলে গেলো সেটা একটা বিরাট উদাহরণ হয়ে গেলো না? হলমার্ক-টলমার্ক সবই তো চাপা পড়ে গেলো।

  • শোনালেন সমাধানের গল্পও…

আমরা একটা উঠতি ক্যাপিটালিজম সিস্টেমে বাস করছি। এখানে চোখের সামনে আপনি বড় বড় শিল্পদ্যোক্তাদের দেখুন, এদেরকে কোনও ইস্যুতে চেপে ধরলে শিল্পায়ন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এদের সবাইকে আপনি পছন্দ নাই করতে পারেন কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে এরা ইন্ডাস্ট্রি করছে। কর্মসংস্থানের জন্য ইন্ডাস্ট্রি ইজ মাচ মোর ইমপরট্যান্ট দ্যান ট্রেডিং।

  • স্মল ইন্ডাস্ট্রি, মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে বাড়বে?

ব্যাংকে টাকা রাখেন প্রায় এককোটি ডিপোজিটর, এখন এই টাকার ৮৫ শতাংশ টাকা নিয়ে যান হাতে গোনা পনের জন লোক। আমার ইন্টারেস্ট কোথায় হওয়া উচিত? ডিপোজিটরের স্বার্থটা শতভাগ সংরক্ষণ করা। আর ৮৫ শতাংশ টাকা যে ১৫ জন নিয়ে গেলেন সেই সংখ্যাটা ১৫০০তে উন্নীত করা। তাতে করে কর্মসংস্থান বাড়বে। বৈষম্য কমবে। স্মল ইন্ডাস্ট্রি, মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রি আরো আরো ডেভেলপ করবে।

আমাদের টেক্সটাইলে ভ্যালু এডিশন খুব কম। তার কারণ আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি নেই। বহুবছর ধরে আমরা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি বানানোর কথা বলছি। তা না হলে টেক্সটাইলে ডিপেন্ডেন্সি থেকে যাবে। যতই টেক্সটাইল গড়ে তোলেন না কেনো সত্তর শতাংশ যদি বিদেশি ইমপোর্ট হয় তাহলে আপনার ভ্যালু এডিশন হবে মাত্র তিরিশ শতাংশ। আর যদি ওই সত্তর শতাংশের বেশি অংশ দেশের ভেতরেই করা যায় তাহলে হবে শিল্পায়ন। তখন গায়ে হাত বুলিয়ে বলতে হবে ‘ভাই ইন্ডাস্ট্রি করেন’। এটা যতটা না ব্যক্তিস্বার্থে করতে হবে তারচেয়ে বেশি করতে হবে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে।

  • দেশের স্বার্থটা বুঝতে বেশি দিন লাগবে না…

সত্তর সালেও আমরা কিন্তু বুঝিনি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ আসবে। আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা, সত্তর সালেও কিন্তু আমি বুঝিনি যে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হবে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর টের পেলাম যে যুদ্ধ হচ্ছে। কারণ উনি যেহেতু বলেই ফেলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’। তার মানে চূড়ান্ত লড়াই। একইভাবে দেশের স্বার্থ বুঝতেও খুব বেশিদিন লাগবে না আমাদের। এই মুহুর্তে আমরা কেউই হয়তো বুঝছি না, অথবা প্রশ্ন করছি আদৌ বুঝবো কিনা! আমি মনে করি বাংলাদেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি দেশ, আর এখানের বেশিরভাগ মানুষ ভালো। ঢাকায় এক-তৃতীয়াংশ লোক বস্তিতে থাকে এরা কি খারাপ? এক-তৃতীয়াংশ লোক লো ইনকাম সেটলমেন্টে থাকে এরা কি খারাপ? বাকী যে এক শতাংশ আছে আসলে তারা খারাপ। প্যাঁচ করে তো তারা! হয়তো আমি এবং আপনি উপরের বিশ শতাংশে পড়ি। প্রবলেমটা আমাদের। বেশিরভাগ মানুষই ভালো। বাংলাদেশের মানুষ একবার ক্ষেপে গেলে এরা কিন্তু কিছুই মানে না।

সারাবাংলা/টিএস/এমএম

আরও পড়ুন