সোমবার ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

ভোটের তারিখ ঘোষণা: খুশি আ.লীগ, ক্ষুব্ধ বিরোধীরা

নভেম্বর ৮, ২০১৮ | ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

।। আজমল হক হেলাল, নৃপের রায়, মেহেদী হাসান।।

ঢাকা: জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-জোটের সংলাপে ‘দৃশ্যমান মীমাংসা’ না হওয়া এবং তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত দিনক্ষণ অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে এক ভাষণের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা তফসিল ঘোষণা করে জানান ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  এই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের ‘ধোঁয়াশা’ কেটে গেছে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের দাবি এই তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। এটি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তফসিল ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ের বাইরে আনন্দ মিছিল ও উল্লাস প্রকাশ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে স্লোগানে স্লোগানে তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানান। এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল করে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরের প্রায় সব এলাকাতেই এই আনন্দ মিছিল হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুগ্ম সাধারণ মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আশা করি, তফসিল অনুযায়ী সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে। একটা উৎসবমুখর পরিবেশে একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যে ধোঁয়াশা দুই একটি দল সৃষ্টি করেছিল, সেই ধোঁয়াশাটা কেটে গেল।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিক্রিয়ায় তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘ইসিকে স্বাগত জানাই। জাতীয় পার্টি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে। জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে।’

১৪ দলীয় জোটভুক্ত দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেছেন, তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের অবসান হলো। এর মাধ্যমে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে দেশ এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকল।’

এদিকে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম অংশীদার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ( জেএসডি) আ স ম আবদুর রব।

তিনি বলেন, দেশের প্রধান বিরোধী পক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সরকার যখন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সংলাপ অনুষ্ঠান এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার একপাক্ষিকভাবে তফসিল ঘোষণা করে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তফসিলে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন ঠিক করা হয়েছে। সরকারি ছুটি বাদ দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে মনোনয়ন আহ্বান, প্রার্থী বাছাই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ১৯ তারিখের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়া একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে যে কোনো মূল্যে এ তফসিল পেছাতে হবে।’

তফসিল ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকটের সমাধান ছাড়া এবং সংলাপের সমগ্র প্রক্রিয়া শেষ না হতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। এ ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

তিনি বলেন, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিরোধীদলীয় জোটসমূহের পক্ষ থেকে তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার দাবিকে অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষণা নির্বাচন কেন্দ্র করে সরকারি ছকেরই অনুসরণ হিসাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। সরকারি দল ও জোটের বাইরে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ। তাদের অবস্থান ও মতামতকে বিবেচনায় না নিয়ে একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের সরকার অনুগত ভূমিকাকেই আরো একবার প্রমাণ করল।

তিনি বলেন, তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে কারণে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতা উদ্যোগ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তফসিল স্থগিত রাখার দাবি জানান।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ (সোমবার) নভেম্বর। এরপর আগামী ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন। বাছাই শেষে কমিশন যাদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবে, তারা ২৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।

২৩ ডিসেম্বর (রোববার) অনুষ্ঠিত হবে ভোট। সে হিসাবে তফসিল ঘোষণার ঠিক ৪৫ দিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সারাবাংলা/একে

আরও পড়ুন

২৩ ডিসেম্বর ভোট

শহরাঞ্চলে অল্প কিছু স্থানে ইভিএম: সিইসি

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

নির্বাচনের তারিখ নিয়ে ইসির বৈঠক শেষ

যেসব বিষয় থাকতে পারে সিইসি’র ভাষণে

Tags: , ,

ভোটের তারিখ ঘোষণা: খুশি আ.লীগ, ক্ষুব্ধ বিরোধীরা
ভোটের তারিখ ঘোষণা: খুশি আ.লীগ, ক্ষুব্ধ বিরোধীরা
ভোটের তারিখ ঘোষণা: খুশি আ.লীগ, ক্ষুব্ধ বিরোধীরা