মঙ্গলবার ১৯ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৫ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে রাজশাহী

ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮ | ১:৩১ অপরাহ্ণ

।। ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

রাজশাহী: তাপমাত্রার পারদ ক্রমশই নিচে নামছে। গেলো কয়েকদিনে টানা শীতে কাঁপছে রাজশাহীর জনজীবন। শরীরে একটু উত্তাপ পাবার আশায় চায়ের দোকান, কিংবা রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত কাটানোর চেষ্টা চলছে।

গেলো দুদিনে রাজশাহীর তাপমাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) ছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তা আরো কমে শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) দাঁড়িয়েছে ৬ ডিগ্রিতে। যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুরো রাজশাহী জুড়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আরো দু’একদিন এমন অবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মূলত, উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া আর সঙ্গে কুয়াশা থাকাই এই হাড়কাঁপানো শীতের কারণ।

কনকনে শীতের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের ছিন্নমূল মানুষ। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে এসব মানুষরা শীতে কাতর হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের কাছে হাঁকাচ্ছেন বেশি দাম। তারপরেও সাধ্যমতো শীত পোশাক কিনতে চেষ্টা করছেন সবাই।

তবে সরকারিভাবে এখনও রাজশাহীতে শীতবস্ত্র বিরতণ কার্যক্রম শুরু হয়নি রাজশাহীতে।

দুদিন থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে, বেলা গড়িয়ে সূর্য উঠলেও উত্তাপ ছড়ানোর আগেই শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যা পেরোতেই ফাঁকা হতে শুরু করে নগরীর অলি-গলি-রাজপথ। মহাসড়কগুলোতেও কমে যায় যান চলাচল।

ঠাণ্ডা এড়াতে সড়কের পাশে বা বাড়ির সামনে খড়কুটো জ্বালিয়ে সাময়িকভাবে প্রশান্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।

মহানগরীর ছোট বনগ্রাম বস্তির বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ‘শীত তো ছিলই না। দুদিন ধরে হঠাৎ করে এলো। কিন্তু এই শীত থেকে রক্ষা পাবার জন্য তেমন গরম কাপড় নাই।’

গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকার কাইজার জানান, হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবার বোরো ধানের বীজতলা ও আলু নিয়ে চিন্তিত তিনি। এমন অবস্থা আরো কয়েকদিন থাকলে সমস্যা হবার আশঙ্কা করছেন।

তবে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, এমন শীতে রবি ফসলের তেমন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই।

মহানগরীর চা বিক্রেতা রিমন জানান, শীতের কারণে গত দুদিন ধরে তার চা বিক্রি তুলনামূলক বেড়েছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ তেমন দেখা যায়না। ফলে চা পান করে শরীর গরম করতে চেষ্টা করেন অনেকে। কেউ কেউ তো এক বসাতেই দুই তিন কাপ শেষ করেন।

সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে শীত পোশাক কিনতে এসেছিলেন আশফাক। তিনি সারাবাংলাকে জানান, শীত বেড়ে যাবার কারনে উলের সোয়েটার কিনতে এসেছেন। কিন্ত দাম বেশি এখন।

গণকপাড়ার ফুটপাতে গরমকাপড় বিক্রেতা লিমন জানান, এবার শীতের শুরু থেকেই গরম কাপড় বিক্রি হচ্ছে ভাল। তবে গত দুদিন থেকে শীত বেড়ে যাবার কারনে গরম কাপড়ও বিক্রি হচ্ছে বেশি। একটি গরম কাপড় বিশেষ করে সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৭৫ টাকা পর্যন্ত দামে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আশরাফুল আলম জানান, ‘চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শীত বাড়তে শুরু করে। মূলত আকাশে মেঘ থাকার কারণে শীতের মাত্রা বেড়েছে। সেই সাথে রয়েছে বাতাস। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য হয়। ৮ ডিগ্রির নিচে নামলে তা মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ।’

রাজশাহীতে এখন মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ চলছে উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, এ অবস্থা আরো দু’একদিন থাকতে পারে।

সারাবাংলা/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন