রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৬ ফাল্গুন, ১৪২৪, ১ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

Live Score

মেলার মূল আকর্ষণ মাছ

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ | ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বগুড়া: মেলায় বড় মাছ কিনতে চলে জামাই শ্বশুরের মধ্যে প্রতিযোগিতা। কোন বাড়ির জামাই কতো বড় মাছ কিনলো, এ নিয়ে চলে প্রতিবেশীদের আলোচনা। আত্মীয়রা যেন মুখিয়ে থাকে বাড়িতে জামাই বাবুর বড় মাছের আশায়। এ মেলার মূল আর্কষণ হচ্ছে বড় মাছ। মাছের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বিক্রি হয়।

বুধবার বগুড়ার গাবতলিতে ইছামতি নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হল পোড়াদহ মেলা। আড়াই শ’বছরের পুরনো মেলায় ২০ গ্রামে চলছে উৎসবের আমেজ। বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ এ গ্রামীণ মেলা।

জানা গেছে, বগুড়ার গাবতলিতে প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজন করা হয় পোড়াদহ মেলা। অনেকের কাছে এটি সন্ন্যাস মেলা হিসাবেও পরিচিত। মেলা উপলক্ষে এলাকায় জামাই উৎসবও চলে প্রায় সপ্তাহব্যাপী। মেলার প্রথম দিন জামাই বরণ এবং দ্বিতীয় দিন বউমেলার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। মেলায় বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বৃহৎ আকারের মাছ মেলার অন্যতম আকর্ষণ। তাই এটি এখন মাছের মেলা হিসাবে বেশি পরিচিত লাভ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে , অন্য বছরগুলোর মত এবারও সবার দৃষ্টি ছিল মাছপট্টির দিকে। মেলায় এবার সবচেয়ে বড় বাঘার মাছটির ওজন ১০০ কেজি। মেলার সব্বোর্চ এ মাছের দাম হাকা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার। ১২শ টাকা কেজি দাম হাকা হয়েছে। এছাড়া মেলায় উঠেছে ১০ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ, ২০ কেজি ওজনের কাতল মাছ, ১০ কেজি ওজনের রুই মাছ ও ১৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ।

গাবতলী উপজেলার মড়িয়া গ্রামের মাছ বিক্রেতা ইসলাম জানান, এবারের মেলায় তিনি ২০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ নিয়ে এসেছেন। মাছটির দাম হাকা হয়েছে ২ হাজার টাকা কেজি দরে ৪০,০০০ টাকা। মেলায় বিভিন্ন সাইজের মাছ রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা কেজি পর্যন্ত।

জানা গেছে , এ মেলায় মাছ, মিষ্টি, ফর্নিচার, বড়ই, পান শুপারী, তৈজস পত্র, খেলনা থাকলেও কালক্রমে মাছের জন্য বিখ্যাত হয়ে আসছে। মেলাকে ঘিরে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে থাকে। বিশেষ করে মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি চলে আনন্দ উৎসব। মেলায় যেমন মাছের আকর্ষন তেমনি বাড়ি বাড়ি জামাই আকর্ষণ। কোন জামাই কত বড় মাছ কিনেছে তা নিয়েও চলে প্রতিযোগিতা।

মেলা পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণা হয়ে থাকে এ মেলায়। আশপাশের ২০ গ্রামের মানুষের কাছে ঈদের পর এটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব। মেলাকে কেন্দ্র করে জামাই ও মেয়েসহ আত্মীয় স্বজনদের দাওয়া দেয়া হয়ে থাকে।

বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাসার জানান, মেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মেলার কয়েকদিন আগে থেকেই বিক্রেতারা ভিড় করতে থাকে। এ কারণে থানা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সন্ধ্যার পরই মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়।

সারাবাংলা/ এমএইচ