শুক্রবার ২০ জুলাই, ২০১৮, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ, ১৪৩৯

মেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮ | ৬:৪৮ অপরাহ্ণ

এসএম মুন্না:

বছর পাঁচেক আগের কথা কথা। তখন কোনো স্টল বা বইয়ের তথ্য পেতে মেলায় নানাজনকে জিজ্ঞেস করতে হতো। এখন আর সেই অবস্থা নেই। নির্দিষ্ট কোনো স্টল খুঁজে না পেলে এখন কাউকে জিজ্ঞেস না করলেও চলবে। ‘গুগল স্ট্রিট ভউ’ জানিয়ে দেবে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্টলের অবস্থান। কোনো বইয়ের তথ্য জানতে চান? তাও জানা যাবে আঙুলের ছোঁয়ায়। ওয়েব ঠিকানা: www.amarekushegranthamela.com সশরীরে যারা মেলায় আসছেন তারা তাদের পছন্দের বইটি খুঁজে নিচ্ছেন। কিন্তু যারা ব্যস্ততার কারণে মেলায় আসতে পারেন না, কিন্তু নতুন বইয়ের খোঁজ রাখতে চান, তাদের জন্য  মেলায় আছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, যেমন-রকমারি ডটকম, বইপোকা ইত্যাদি। যারা আপনার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে কাঙ্ক্ষিত বইটি।

এখন পর্যন্ত মেলায় তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক নতুন বই আসার খবব দিতে পারেনি বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র। তবে একাধিক প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বইয়ের পাশাপাশি আগে প্রকাশিত তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক বই কিনছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে প্রোগ্রামিং, ফ্রিল্যান্সিং ও প্রযুক্তির বিভিন্ন কলাকৌশলের প্রশিক্ষণমূলক বইয়ের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। আদর্শ, জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, সিসটেক পাবলিকেশনস, তাম্রলিপি, মুক্তদেশ প্রকাশন, শব্দশৈলী, নওরোজ কিতাবিস্তান, অন্যরকম প্রকাশনী এবং দ্বিমিক প্রকাশনীতে খোঁজ নিলে তথ্য-প্রযুক্তির বই পাওয়া যাবে।

এটুআইয়ের ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচির একটি স্টল রয়েছে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ আমতলায়। এখান থেকেই জানা যাচ্ছে মেলায় কোথায় কোন স্টলটি আছে। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কি কি নতুন বই এসেছে সেটাও জানা যাচ্ছে এখানে। পাশাপাশি তুলে ধরা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য। এটুআই’র কিশোর বাতায়ন (www.konnect.edu.bd)) থেকে শিশু-কিশোররা তাদের পছন্দের বই পড়তে পারবে। নিজেদের নাম নিবন্ধনের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা প্রকাশ করতে পারবে তাদের নিজেদের লেখা গল্প, কবিতা ও ছবি। রয়েছে কুইজ প্রতিযোগিতা। যেখানে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জিতে নেওয়া যাবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এটুআইর স্টল পরিদর্শন শেষে ‘কিশোর বাতায়ন’ এবং ‘একসিসেবল ডিকশনারি’ উদ্বোধন করেন। একসিসেবল ডিকশনারি মূলত ডিজিটাল ডিকশনারি, যেখানে একজন শিক্ষার্থী যে কোনো শব্দের ইংরেজি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ করতে পারবেন।

রকমারি ডট কম: মেলার প্রথম দিন থেকে প্রকাশিত বইগুলো দিনেরটা দিনেই রকমারি ডট কমে (www.rokomari.com) প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বইমেলায় প্রকাশিত হওয়া প্রায় দুই হাজারের বেশি বইয়ের সবগুলোই পাওয়া যাচ্ছে রকমারিতে। পাঠক ঘরে বসেই তার প্রিয় লেখকের বই অর্ডার করে সংগ্রহ করে নিতে পারছেন। মেলা উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ২৭ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। সেই সঙ্গে পেমেন্ট বিকাশ এ করলে রয়েছে ১০ শতাংশ ছাড়। নির্দিষ্ট নিয়মে অর্ডার করলে ঘরে বসেই পাবেন পছন্দের বই।

সেইবই অ্যাপ: এই অ্যাপটির মাধ্যমে পাঠকরা কিছু বই পড়ার সুযোগ পাবেন বিনামূল্যে। অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোনের জন্য গুগল প্লে-স্টোর (goo.gl/nMl7ep) থেকে এবং আইফোনের জন্য আইটিউন্স (goo.gl/gysBQQ) থেকে অ্যাপটি নামিয়ে ব্যবহার করা যাবে। টেলিকম প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের ই-বুক রিডার ‘বাংলালিংক বই ঘর’ ইবি সলিউশন লিমিটেড। এই ই-বুক রিডারের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ডিভাইসে পাতা উল্টে উল্টে বই পড়ার স্বাদ নিতে পারছেন পাঠকরা। এ সুবিধা নিতে প্রতিটি ই-বুকের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫-১০ টাকা চার্জ নেয়া হয়। অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ২৫০টি ই-বই বিনামূল্যে পরিবেশন করছে সেই বই।

ডিজিটাল পেমেন্ট:  বিকাশ ও কার্ড পাঞ্চ সুবিধা রেখেছে বিভিন্ন প্রকাশনা। স্টলগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে পজ মেশিন। হিসাব রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশেষায়িত সফটওয়্যার। বইমেলায় বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সুব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউটের ব্যবস্থা আছে। মেলায় বই কিনে বিকাশের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে মেলার ২৫ শতাংশ ছাড়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ছাড় মিলছে। যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড রয়েছে তারা সহজেই মেলায় ‘আইপে ওয়ালেট’ খুলতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আইপে ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেবে। আইপে দিয়ে বই কিনলেই মিলছে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ মানি ব্যাক।

বইপোকা:  মোবাইল, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপে বই পড়ার জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে বইপোকা ডট কম। বই পড়তে হলে মেলায় বইপোকা ডট কমের স্টলে গিয়ে পাঠককে প্রথমে তার নাম নিবন্ধন করতে হবে। তবে বই পড়ার জন্য পরিশোধ করতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। অর্থ  পরিশোধ করা যাবে বিকাশ কিংবা অন্য মাধ্যমে। তারপরই পাঠক পছন্দের বইটি পড়ার সুযোগ পাবেন।

অ্যাপে আবহাওয়ার পূর্বাভাস: প্রথমবার মেলায় অংশ নিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিভিন্ন দুর্যোগের সময়ে করণীয় কী, সেসব বিষয়ে ধারণা দেয়া হচ্ছে স্টল থেকে। পাশাপাশি গুগল প্লে-স্টোরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অ্যাপ নামে তাদের একটি অ্যাপ রয়েছে। যে অ্যাপটির মাধ্যমে দেশের ৪২টি স্থানের আবহাওয়ার খবর পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে এলাকাভিত্তিক সর্বশেষ বাতাসের চাপ, গতি, তাপ, বৃষ্টির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেবে অ্যাপটি। পাওয়া যাবে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা ও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস।

বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইট : সারা বছরই বই প্রকাশ করলেও মেলায় বই প্রকাশ করে না বাংলা একাডেমি। তাই গত বছর একাডেমি থেকে যে বইগুলো প্রকাশ হয়, সেগুলো গণ্য হয় নতুন বই হিসেবে। সেই বিচারে এবার নতুন বই এসেছে ১৩৫টি। একাডেমির ওয়েবসাইটে (banglaacademy.org.bd) বিইয়ের তালিকা পিডিএফ ফাইল আকারে রাখা আছে। এ ছাড়া মেলায় প্রকাশিত প্রতিদিনের নতুন বইয়ের তালিকাও প্রকাশ করা হচ্ছে ওয়েব সাইট থেকে।

ওয়াই-ফাই সুবিধা : মেলায় বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা আছে। ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে নিরাপদ মিডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

বাংলা লাইব্রেরি ডটকম : এখানে পাঠক তার প্রিয় লেখক কিংবা কবির বই পাবেন। রয়েছে ছড়া, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতাসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট।

ছবি: আশীষ সেনগুপ্ত

সারাবাংলা/পিএ

Tags:

মেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার
মেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার