মঙ্গলবার ২২ মে, ২০১৮ , ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫, ৫ রমযান, ১৪৩৯

ম্যালেরিয়া নির্মূলে বড় চ্যালেঞ্জ ‘ক্রস বর্ডার’

এপ্রিল ২৫, ২০১৮ | ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

।। জাকিয়া আহমেদ,স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

বান্দরবান থেকে ফিরে : এপার-ওপার সীমান্তের আন্তঃসংযোগের কারণে ম্যালেরিয়া নির্মূলে চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। এ কারণে সীমান্তবর্তী ১৩ জেলা ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন ১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো না হলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব কমানো যাবে না।

জাতীয় ম্যালেরিয়া ও এডিস মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্যমতে- ২০১৭ সালে দেশে ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হন ২৯ হাজার ২৩৭ জন আর মারা যান ১৩ জন। যেখানে ২০১৬ সালে মোট ২৭ হাজার ৭৩৭ জন আক্রান্ত হন আর মারা যান ১৭ জন। অপর দিকে ২০১৫ সালে ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৯ হাজার ৭১৯ জন এবং মারা যান ৯ জন। ২০০৮ সালের তুলনায় ম্যালেরিয়াতে মৃত্যুহার কমেছে প্রায় ৯২ শতাংশ, আর আক্রান্ত হবার হার কমেছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।

এরপরও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রয়েছে, যদিও আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ম্যালেরিয়া নির্মূল করার জন্য জোরালোভাবে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়াতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যে কাজ করে গেলেও তিন পার্বত্য জেলা-বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত জরিপ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের ১৩টি উপজেলার ১৭ টি উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রার্দুভাব বেশি। এর মধ্যে কেবলমাত্র বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতেই ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হার শতকরা ৯৩ শতাংশ। আর বান্দরবানেই এ হার শতকরা ৬০ শতাংশ। বান্দরবানের লামা, আলীকদম, রুমা এবং থানচি উপজেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। একইসঙ্গে ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও এ তিন পার্বত্য এলাকাতেও নব্বই শতাংশ।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন অংশু প্রু মারমা সারাবাংলাকে বলেন, বান্দরবান জেলার প্রধান সমস্যা ম্যালেরিয়া। আর বেশিরভাগ সময় গভীর জঙ্গলে জুম চাষিরা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। তারা যেমন চিকিৎসা পান না আবার প্রতিকূল পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরাও চিকিৎসা দিতে সেখানে যেতে পারেন না। ফলে জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া এসব অঞ্চলে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়। আর এজন্য যতদিন ক্রস বর্ডার কোলাবোরেশন (আঞ্চলিক সহযোগিতা) না হবে, ততদিন ম্যালেরিয়ার প্রার্দুভাব কমানো যাবে না। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত করে। একইসঙ্গে মিয়ানমার ও ত্রিপুরার সঙ্গেও যাতায়াত রয়েছে আমাদের। আর ত্রিপুরাতে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। কিন্তু ত্রিপুরাতে সেভাবে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা নেই, ওখানকার মানুষ আমাদের দেশে এসে চিকিৎসা নেয়।

অপরদিকে, মিজোরাম এবং রাখাইনেও ম্যালেরিয়ার রোগী রয়েছে। তারা ম্যালেরিয়ার জীবাণু নিয়ে আসে। তাই বাংলাদেশ, ভারত এবং মিয়ানমার-এই তিন দেশের সমন্বয় এবং সহযোগিতা দরকার। কীভাবে তিন দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে ম্যালেরিয়া কার্যক্রম সেবার আওতায় আনা যাবে-সে নিয়ে ভাবতে হবে তিনদেশকে একসঙ্গে, কাজ করতে হবে একসঙ্গে বলেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

জাতীয় ম্যালেরিয়া ও এডিস মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম এম আক্তারুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ২০১৭ সালে দেশে ২৯ হাজার ২৪৭ জনের ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হবার তথ্য পাওয়া গিয়েছে, এর মধ্যে ৯৩ শতাংশই বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির।

এসব এলাকাতে কেন ম্যালেরিয়ার প্রার্দুভাব রয়ে গেছে জানতে চাইলে এম এম আক্তারুজ্জামান বলেন, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা, বনাঞ্চল এবং বৃষ্টিপাতের কারনে এসব এলাকাগুলোতে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে তেমন সফল হওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এ তিন পার্বত্য এলাকা ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকা, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব, জুম চাষ, গভীর বনাঞ্চলে যাতায়াত এবং ভাষাগত সমস্যাও ম্যালেরিয়া নির্মূলের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সারাবাংলা/জেএ/একে

** দ্রুত খবর জানতে ও পেতে সারাবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Sarabangla/Facebook

আরও পড়ুন