সোমবার ২১শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং , ৮ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

যানজট এড়াতে কর্ণফুলীতে ওয়াটার বাস নামাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

জানুয়ারি ১১, ২০১৯ | ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

।।স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।। 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: যানজট এড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরীর মূল পয়েন্ট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত যাতায়াত সহজ করতে ওয়াটার বাস চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এজন্য নগরীর সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীতে নতুন একটি নৌরুট চালু করা হচ্ছে।

মূলত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের সুবিধায় এই ওয়াটার বাস চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের কর্মকর্তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে না পারলে ওয়াটার বাস চালুর পদক্ষেপে সুফল আসবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয় জিইসি মোড়কে। এই স্পট থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। নগরীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট মোড় থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।

দুটি স্পট থেকে বিমানবন্দরে যেতে স্বাভাবিকভাবে আধাঘন্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু দুটি স্পট থেকেই বিমানবন্দর পর্যন্ত অন্তত ৭-৮টি স্পটের যানজট এড়াতে হয়। বিশেষত নগরীর দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়, কাস্টম মোড়, ইপিজেড মোড়ের যানজটে আটকে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।

সিভিল এভিয়েশন সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মিলিয়ে ২৮টির মতো ফ্লাইট অপারেট করা হয়। গড়ে ২৮টি ফ্লাইটে সাড়ে চার হাজারের মতো যাত্রী থাকেন। গত বছর এই বিমানবন্দর দিয়ে ১৫ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছেন।

এই বিশাল সংখ্যক ফ্লাইটের যাত্রীর দুর্ভোগ যানজটের কারণে চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। নগরীর সদরঘাট থেকে ওয়াটার বাসে করে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত গেলে যানজটপ্রবণ এসব স্পট এড়ানো যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, সদরঘাটে আমরা একটি টার্মিনালের মতো নির্মাণ করছি। এর কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। ওয়াটার বাসগুলো একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটাও খুব দ্রুতই পাব বলে আমরা আশা করছি। ওয়াটার বাসটি চালু হলে ফ্লাইট যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে আমরা মনে করছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় একটি জেটি নির্মাণেরও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে ওয়াটার বাসগুলো অবস্থান নেবে। এছাড়া ওই জেটি এলাকায় বিমান সংস্থাগুলোর অফিস করার চেষ্টা চলছে। যাত্রীরা জেটিতে পৌঁছেই তাদের লাগেজ সেই অফিসে জমা দেবেন। সেখান থেকেই লাগেজ তল্লাশি করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে ফ্লাইটে।

প্রাথমিকভাবে চারটি ওয়াটার বাস নির্মাণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের বেসরকারি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিনকে দায়িত্ব দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওয়াটার বাস চালুর প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে বলে মনে করছেন বন্দরের কর্মকর্তারা।

‘পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের’ সহ-সভাপতি সুভাষ বড়ুয়া বলেন, সদরঘাট থেকে ওয়াটার বাসে নির্বিঘ্নে যাওয়া যাবে, ঠিক আছে। কিন্তু সদরঘাট পর্যন্ত যাবে কিভাবে ? সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না আনলে ওয়াটার বাস চালুর সুফল তো পাওয়া যাবে না।

সারাবাংলা/আরডি/আইই

যানজট এড়াতে কর্ণফুলীতে ওয়াটার বাস নামাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর
যানজট এড়াতে কর্ণফুলীতে ওয়াটার বাস নামাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর
যানজট এড়াতে কর্ণফুলীতে ওয়াটার বাস নামাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর