বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৪ আশ্বিন, ১৪২৫, ৮ মুহররম, ১৪৪০

যে কারণে হারিকেন ‘ফ্লোরেন্স’কে প্রলয়ঙ্করী বলা হচ্ছে!

সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে প্রচণ্ড শক্তিশালী হারিকেন ‘ফ্লোরেন্স’। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এটি নর্থ ক্যারোলিনার উইলমিংটনে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। হারিকেনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে ১৭ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প হারিকেন ফ্লোরেন্সকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে অনেক বছরের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে একে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করেছে। যে চার কারণে হারিকেন ফ্লোরেন্সকে এমন বিধ্বংসী বলা হচ্ছে-

১. ভয়ঙ্কর শক্তি

হারিকেন ফ্লোরেন্স কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে ‘ক্যাটাগরি দুই’ থেকে ‘ক্যাটাগরি চার’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ক্যারোলিনার দিকে অগ্রসর হতে হতে এটি আরও শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএন’র আবহাওয়াবিদ চ্যাড মিয়ার্স বলেছেন, ভুমিধস ঘটানোর আগে ঝড়টি তার সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছুতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার এর গতিবেগ মাপা হয়েছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় এটি ‘ক্যাটাগরি পাঁচ’ মাত্রার কাছাকাছি চলে যেতে পারে এবং তখন এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫৭ কিলোমিটারের মতো।

২. পানির মারাত্মক মহাপ্রাচীর

বিস্ময়কর গতির বাতাস ফোরেন্সের ভয়াবহতার একমাত্র কারণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা বলছে, সর্বাধিক প্রাণহানি ঘটানোর সর্বোচ্চ সক্ষমতা রয়েছে ঝড়টির। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা ব্রুক লংয়ের ধারণা, এটি সমসাময়িক যেকোনো ঝড়ের ক্ষয়-ক্ষতির রেকর্ড ভেঙ্গে দিতে পারে।

এটিকে পানির এক মারাত্মক মহাপ্রাচীর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিশাল উপকূল এলাকা প্লাবিত করে দিতে পারে। মিয়ার্স বলেন, এর কারণে ২০ ফুট উঁচু ঢেউ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির জাতীয় হারিকেন সেন্টারের প্রধান কেন গ্রাহাম বলেছেন, সাধারণত কোনো ঝড় ১২ ফুট উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি করলেই তাকে ‘প্রাণঘাতী’ বলা হয়।

৩. ব্যাপক অভ্যন্তরীণ বন্যার সম্ভাবনা

ফোরেন্সের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলসহ অভ্যন্তরীণ বিশাল এলাকাজুড়ে বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বেশ কয়টি শহরাঞ্চলকেও আক্রান্ত করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাপক ভুমিধস ঘটিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি থেমে যাবে।

এর প্রভাবে ক্যারোলিনা ও ভার্জিনিয়াসহ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটতে পারে। ফলে এটি আর কোনো উপকূলীয় ঝুঁকি হয়ে থাকবে না, এটি গোটা দেশের জন্যই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে, বলেন লং। কোনো কোনো অঞ্চলে ২০ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত ঘটবে বলে জানিয়েছেন মিয়ার্স।

৪. এমন বৃহৎ হারিকেন মোকাবিলায় অভ্যস্ত নয় স্থানীয়রা

হারিকেন ফ্লোরেন্সের কারণে যেভাবে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ‘ক্যাটাগরি চার’ মাত্রার অন্য যেকোনো ঝড়ের মতোই এটি। কিন্তু গত ২৯ বছর আগে হারিকেন ‘হুগো’ ছাড়া তেমন প্রলয়ঙ্করী ঝড় মোকাবিলা করতে হয়নি এ অঞ্চলের মানুষকে।

তবে সে সময় সাউথ ক্যারোলিনা ও নর্থ ক্যারেলিনার মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়েছিল। যদিও হারিকেন হুগোর কারণে ভয়াবহ ভুমিধস এবং ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতিসহ অনেক প্রাণহানি ঘটেছিল, বলেন মিয়ার্স।

সারাবাংলা/এএস

 

যে কারণে হারিকেন ‘ফ্লোরেন্স’কে প্রলয়ঙ্করী বলা হচ্ছে!
যে কারণে হারিকেন ‘ফ্লোরেন্স’কে প্রলয়ঙ্করী বলা হচ্ছে!