বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ , ১২ বৈশাখ, ১৪২৫, ৮ শাবান, ১৪৩৯

রোহিঙ্গা গণহত্যার চিহ্ন ধুয়ে মুছে সাফ করছে মিয়ানমার

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | ১০:২০ অপরাহ্ণ

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রোহিঙ্গা গণহত্যার স্মৃতি-চিহ্ন ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলেছে মিয়ানমারের জান্তা-বাহিনী। মিয়ানমার সরকার গত সপ্তাহে দেশটিতে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের রাখাইন অঞ্চল ভ্রমণ করার অনুমতি দেয়। বিদেশি কূটনীতিকরা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন যে মাঠে এক সময় চাষ হতো, যেখানে শিশুরা খেলা করত, যেখানে রোহিঙ্গাদের বসত-ভিটা ছিল তা বুলডোজারের চাপায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

মিয়ানমারে কর্মরত পশ্চিমা দেশের এক কূটনীতিক জানান, এর আগে যখন তিনি রাখাইনে যান তখন সেখানে অনেকগুলো গ্রাম ছিল। চাষের ক্ষেত ছিল। মানুষের বসত-ভিটা ছিল। ছেলে-মেয়েদের খেলার মাঠ ছিল। কিন্তু এবার! না, এবার এগুলো কিছুই দেখতে পাননি।

তিনি জানান, হেলিকপ্টারে ভর করে যখন রাখাইনের উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন দেখলেন যে আগের দেখা গ্রামগুলো সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর দেখেন, ওই অঞ্চলটি যে কয়েকদিন আগেই বুলডোজার দিয়ে পিষে ফেলা হয়েছে তার সদ্য প্রমাণ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার যে নির্যাতন চালিয়েছে, গণহত্যার মতো যে জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে তার স্মৃতি-চিহ্ন মুছে ফেলতেই রাখাইন অঞ্চলে বুলডোজার চালিয়ে সব সমান করা হয়েছে।’

মিয়ানমারে কর্মরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান স্মিথ বলেন, ‘রাখাইন অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের জন্য খুবই সমৃদ্ধ। অঞ্চলটি খুবই সম্পদশালী কিন্তু এখন সেখানে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাখাইন অঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম যে অনেকগুলো গ্রামের উপর দিয়ে বুলডোজার চালানো হয়েছে। যা খুবই মর্মান্তিক।’

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান স্মিথ বলেন, ‘অনেক মন্তব্যই করা যায়। কিন্তু আমি একটি কথা আবার বলতে চাই, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর আগেও বলেছে। সেটা হচ্ছে মিয়ানমারে আনান কমিশনের সুপারিশ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হোক। এ ছাড়া শান্তি আসবে না।’

এদিকে, মিয়ানমারের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দল রাখাইন যেতে চাইলে মিয়ানমার তাতে রাজি হতে পারে। আর এ কারণেই মিয়ানমারের গণকবর ও পুড়িয়ে-গুড়িয়ে দেওয়া বাড়ি ঘরগুলোর নিশানা নিশ্চিহ্ন করতে সেখানে বুলডোজার চালিয়ে সমতল করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ঘাস লাগিয়ে বা কৃষি জমির মতো অন্যরকম পরিস্থিতি তৈরির কাজ করছে দেশটির সেনাবাহিনী।

রাখাইন প্রদেশে গত বছরের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবর্ণনীয় নির্যাতন শুরু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল শুরু হয়। নতুন করে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখে পৌঁছেছে। এর আগে থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১১ লাখ। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক সমাজের তীব্র সমালোচনার মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাহানা দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে দেশটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থনের কারণে মিয়ানমার এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে পাত্তা দিচ্ছে না।

সারাবাংলা/জেআইএল/এমএস/আইজেকে

আরও পড়ুন