রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৬ ফাল্গুন, ১৪২৪, ১ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

Live Score

শক্তিশালী হচ্ছে বিআইএম, বাড়ছে প্রশিক্ষণের সুবিধা

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮ | ৪:৫০ অপরাহ্ণ

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)। নির্মাণ করা হবে ১২তলার একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং কমপ্লেক্স। এর মধ্যদিয়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সুবিধা বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনে ‘ঢাকাস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-কে শক্তিশালীকরণ’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৪৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

বিআইএম-এর ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা উত্তম কুমার দত্ত সারাবাংলাকে এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অনুষদ সদস্য ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ই-গভর্ননেন্স, প্রকল্প ব্যবস্থপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ব্যবস্থাপনা, ডেভলপমেন্ট স্টাডিস, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সাপ্লাইচেইন, আয়কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, অফিস ব্যবস্থাপনা কমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।’

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ক্রমবিকাশমান অর্থনীতির যথাযথ চাহিদার সঙ্গে কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনের প্রয়োজনে ১৯৯৭ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কেন্দ্র (বিএমডিসি)-এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) করা হয়। দেশের শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি গত ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে  কাজ করে যাচ্ছে। ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন শাখায় স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এক বছর মেয়াদি ও ৬ মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সসহ অন্যান্য বিশেষায়িত কোর্সের আয়োজন ও পরামর্শ সেবা দেওয়ার মাধ্যমে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ধীন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা দেন।

উত্তম কুমার দত্ত বলেন, ‘ক্রম অগ্রসরমাণ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো রাজধানীকেন্দ্রিক না করে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের নতুন কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দ্রুত পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগে একটি করে মোট ৭টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা ও পরিষেবা সম্পন্নকরণ, বর্তমানে ব্যবহৃত পুরাতন ভবন সংস্কার ও মেরামত, অনুষদ সদস্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নযন সর্বোপরি বিআইএম-এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারকরণের জন্য এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে— আইটি ও প্রোডাক্টিভিটি ল্যাব, ডিজিটাল শ্রেণী কক্ষ, ই-লার্নিং প্লাটফর্ম, ডিজিটাল লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, শ্রেণী কক্ষ, আবাসিক হল, মাল্টিপারপাস হল, প্রশাসনিক ব্লক, অনুষদ সদস্যদের দফতর, কনভেশন হল, কার পার্কিং, ক্যান্টিন ও নামাজের স্থান করা হবে।’

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বিআইএম-এর কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে বিআইএমকে শক্তিশালীকরণ করা হবে ফলে বিআএম-এর বর্তমান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিআইএম আরও অধিকতর সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এর ফলশ্রুতিতে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।’

সারাবাংলা/জেজে/আইজেকে