বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই, ২০১৮, ৪ শ্রাবণ, ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ, ১৪৩৯

শারমিন শামস্-এর গল্প ‘অনুসরণ’

জানুয়ারি ৪, ২০১৮ | ২:৪৭ অপরাহ্ণ

তোমাকে আমি দূর থেকে দেখি। কোন কোন বিকেলে তুমি একটা কফিশপে এসে বসো। এটা আবিস্কার করার পরই মাঝে মাঝে আমিও চুপচাপ এসে বসি ঐখানে, একটু দূরে একটা জানলাঘেষা টেবিলে এককাপ কালো কফি নিয়ে।  তোমাকে আমি খুব মন দিয়ে দেখি। মানে যতটুকু পারি আর কি। দূর থেকে- একটা দূরবর্তী ছায়ার মত থাকি আর দেখি তোমার সাদা হয়ে আসা চুল, কপালের ভাঁজ। তুমি এককাপ কফি আর একটা বই হাতে নিরবে বসে থাকো ঘণ্টাখানেক। তারপর বিল মিটিয়ে কোথায় চলে যাও কে জানে! তুমি চলে গেলেই আমিও ধীরে-সুস্থে বেরিয়ে আসি। গত মাস চারেক ধরে তোমাকে এরকম গোয়েন্দা অনুসরণ করে চলেছি। কেন কে জানে!

বাড়িতে ফিরে ছেলের ঘরে উঁকি মারি। ছেলে ব্যস্ত যথারীতি। কাল বাদে পরশুই হোস্টেলে ফিরে যাবে। আবার শুরু হবে আমার একার জীবন। নিজের ঘরে ঢুকে পোশাক পাল্টে বিছানায় কাৎ হয়ে শুই। মনটা বিক্ষিপ্ত বড়। এলোমেলো সব ভাবনা জড়ো হয়, আবার ফিরেও যায় তারা। নিজেকে নিয়ে ভাবি। ছেলেকে নিয়েও। আমি মা হয়েছি সতেরো বছর বয়সে। পুরা বিষয়টাই ছিল একটা আচমকা আঘাতের মত। এমন সেই আঘাত, আমি হাসবো না কাঁদবো সেটাও বুঝি নাই। কিন্তু আজ এই সাঁইতিরিশে এসে বুঝি, সেই আমার অস্থিরতার শুরু। এরপর আরো বিশটা বছর শুধু ছুটেই বেড়ালাম, মনে মনে। কী যেন নেই কী যেন নেই। বিয়ের পর থেকে যে অসীম শূণ্য হতাশাকে বুকের ভিতরে চেপে ধরে নিজের ভিতরে ডুবে গিয়েছিলাম, ছেলে হবার পর খেই হারিয়ে ফেললাম। নিজেকে আর খুঁজেই পাইনা। আসলে কী খুঁজি তাও জানি না। মহা মুশকিল।

ছেলে ঘরে এসে ডাক দেয়, মা চলো খাই, খিদে পেয়েছে। আরে! মনেই নাই যে ভাত চড়াতে হবে। দাঁড়া বাপ, বিশটা মিনিট সময় দে। ছেলে টিভি ছেড়ে বসে পড়ে ভাতের অপেক্ষায়। আমি রান্নাঘরে ছুটি, খাবার গরম করি। এসবের মাঝেই তোমাকে মনে পড়ে। খুব ক্লান্ত আর দুঃখী একটা মানুষ যেন তুমি। যদিও পেছন থেকেই দেখি। অথবা কিছুটা পাশ থেকে কখনো সখনো, খুব সাবধানে। যেন টের না পাও, যেন বুঝে না ফেল।

টেবিলে খাবার সাজিয়ে ছেলেকে ডাকি। সিদ্ধা আসো। ছেলের নাম সিদ্ধার্থ। ছোট করে সিদ্ধা ডাকি। দু’বছর পর গ্রাজুয়েট হবে। ছোট থেকেই হোস্টেলে রেখে পড়াতে হয়েছে। বহু কষ্টে যোগার করেছি ওর পড়ার খরচ। তবু এটাই আমার জন্য সুবিধের ছিল। নাহলে জীবনযুদ্ধ করতে গিয়ে কখন ওকে সময় দিতে পারতাম? কীভাবেই বা খেয়াল রাখতাম ওর পড়ালেখা আর বাদবাকি সবের? তাই এই ছিল ভালো ব্যবস্থা। কনভেন্টে পড়েছে। শুধু প্রতিমাসে খরচের চিন্তাটা ছাড়া আর বিশেষ কিছু ভাবতে হয়নি আমাকে। কিন্তু বুকজুড়ে শূণ্যতা ছিল। আস্ত একটা দুনিয়াদারিতে ও ছাড়া আর তো কেউ ছিলনা আপন। তাই ওকে দূরে রাখার বেদনা একটা ঢাউস পাথরের মত বুকের ওপর আসন গেড়ে থাকতো।

সেই ছেলে আজ বড় হয়েছে। মাকে ছাড়াই থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু মায়ের সংগ্রামটা বোঝে। এই যেমন কাল বলছিল, মা আমি এলে এত অস্থির হও কেন? আমি এত কিছু খাই না। তুমি বরং একটু রেস্ট নাও। সারাদিন এতো ছোটো কেন মা?

বাহ! বড্ড আরাম পাই ছেলের কথা শুনে।  জীবন আমাকে শিখিয়ে দিয়েছে, কখনো কারো কাছে কিচ্ছু নেই প্রত্যাশা করার। এমনকি নাড়িছেঁড়া ধনের কাছেও। কিন্তু এমন আচমকা এইসব কথা যখন বলে, তখন বুকের ভিতরে রিনরিনে ব্যথা মাখানো ভালোলাগা টের পাই। ছেলের মাথার চুল এলোমেলো করে আদর করি। বলি, ওরে আমার গুটুলি পুটুলি রে। কত্ত বোঝো তুমি! ছেলে বেদম লজ্জা পায়। একটু রাগ দেখিয়ে সরে যায়।

-মা তুমি কী সব বলো!

-কী বলি?

-এই যে কী সব শব্দ… গুটুলি পুটুলি…

– এহ… আসছে পাকনা… মেরে তক্তা বানাবো তোমাকে।

-মা… আআআআ…..

আমি হাসি। ছেলেও হাসে। ছুটিতে বাড়িতে এলে এইসব খুঁনসুটি হয়।

খেতে খেতে মা ছেলে টুকটুক গল্প করি। তারপর ছেলে চলে যায় নিজের ঘরে। গুছিয়ে গাছিয়ে আমিও নিজের ঘর লাগোয়া বারান্দায় বসি। আকাশে তারা ফুটেছে। কাল ছুটির দিন। স্কুল বন্ধ। ছেলেকে সময় দেব সারাদিন। হয়তো বিকেলে আবার একবার ঢুঁ মারবো ওই কফির দোকানে। ব্যাপারটা কেমন বয়ঃসন্ধি টাইপ হয়ে যাচ্ছে কি?

হঠাৎ খুব ক্লান্ত লাগে আমার। এইসব ভাবনা ভেবে। নাহ, আর ভাববো না কিছু। সারাটা জীবন ভেবে ভেবেই গেল। যখন এত ভাবনাচিন্তার বয়স নয়, তখনো ভাবতে হয়েছে। সিদ্ধার্থর বাবা যেদিন বাড়ি থেকে বের করে দিলো, তখন পরনে ত্যানা ত্যানা একটা কামিজ, স্পঞ্জের স্যান্ডেল, ব্যাগে আঠারো টাকা আর কোলে সিদ্ধার্থ। সেই ঝড়-জলের দিনে কোথায় যাই কী করি, মাথায় কিচ্ছু আসেনি। পায়ে পায়ে হেঁটে কোথায় যে পৌঁছেছিলাম কখন- আজ সব কেমন ধোয়াশা হয়ে গুলিয়ে যায়। শুধু এইটুকু মনে আছে আমার বয়স তখন উনিশ। তারপর বাবার বাড়িতে, ভাইয়ের বাড়িতে, হোস্টেলে, পথে, বাসে, ফুটপাথে যেখানেই যাই, যেখানেই থাকি, শুধু ভেবেই চলেছি।

বারান্দার চেয়ার ছেড়ে উঠে ছেলের ঘরের দরজার নিচে তাকালাম। নাহ, আলো জ্বলছে না। হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে আজ সকাল সকাল। প্যাসেজের বাতি টাতি নিবিয়ে আমিও শুয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিই। কাল ঘুমাবো অনেক্ষণ। মাঝে মাঝে খুব ক্লান্ত হয়ে যাই। তখন মনে হয় আমি বোধহয় পথের ধারে পড়ে থাকা নূরি। আমাকে কেউ ঠেলে দিয়েছে আর আমিও পথে পথে শুধু গড়াচ্ছি আর গড়াচ্ছি। পথের ধারে কোথাও কোন আপনজন নেই যে পথ থেকে তুলে নিয়ে মুছে দেবে আমার শরীরে লেগে থাকা ধুলো কাদা। নিজেকে একটা গড়াতে থাকা নুড়ি ভেবে কেমন বিষাদ নেমে আসে। আমি একা একাই ফুপিয়ে কাঁদি বালিশে মুখ রেখে। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়ি! সকালে উঠে দেখি রাতের কান্নার ছাপ স্পষ্ট চোখেমুখে। চোখের কোল ফুলে ঢোল। মাথায় চাপা ব্যথা। এরকম প্রায়ই হয়। ছেলেও কি খেয়াল করে মায়ের ফোলা চোখ, চুপসে যাওয়া মুখ? করে হয়তো। তাই আচমকাই বলে, চলো মা, বইয়ের দোকানে যাই। কতদিন তুমি আমি যাই না! চলো মা।

বাহ! নিমেষেই মন ভালো আমার। আমার ছেলের এতো ক্ষমতা! গেলাম সেজেগুজে শাহবাগে। সার সার বইয়ের দোকানে ছেলের পাশে পাশে হেঁটে হেঁটে বই খোঁজা, বইয়ের গন্ধ শুঁকে, বুকে চেপে ধরে ধরে দেখা। তারাপদ রায় আর রণজিৎ দাশের কবিতার বই, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস আর সিদ্ধার্থের পছন্দের ড্যান ব্রাউন কিনে বাড়ি ফিরলাম। পুরো বিকেল ভুলেই থাকলাম তোমার কথা। একবারো মনে পড়লো না।

ছেলে কাল চলে যাবে। ব্যস্ত হয়ে গেলাম ওর গোছগাছে। কত টুকিটাকি যে দিতে ইচ্ছে করে! নতুন দুইটা শার্ট প্যান্ট জোর করে কিনে ভরে দিয়েছি ব্যাগে। আর ছোটবেলা থেকে যা যা খেতে ভালোবাসতো- বুটের ডালের হালুয়া, কুলের আচার থেকে শুরু করে পার্লে জি বিস্কিটের বড় বড় প্যাকেট! সিদ্ধার্থ চ্যাচায়, মা তুমি কী! এই বিস্কুট আর খাই না আমি।

-কেন খাস না? ছোটবেলায় কত খেতি! আমাকে এই বিস্কুট কত ঝামেলা করে কিনতে হত। সহজে পাওয়াই যেত না…

-উফ আমি তখন ছোট ছিলাম। এটা বাচ্চাদের বিস্কুট।

-তুমি এখনো বাচ্চাই আছো।

-তোমাকে বলেছে! ছেলে হাসে। আমিও হাসি। গোটা পৃথিবীতে এই আমার একমাত্র আপন। ভাবা যায়! অবাক লাগে আমার, কেউ নাই আমার? এত্ত বড় পৃথিবী। এই এতো এতো মানুষের গাদাগাদি ভিড়। তবু ছেলেটা ছাড়া একটা মানুষ থাকলো না পাশে থাকার। এইসব ভাবনা আর ভাবতে ইচ্ছে করে না। পরদিন ভোরে ছেলেকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে স্কুলে যাই। ছুটির পর ফিরে আসি ক্লান্ত। যেন কতদিন ঘুম নাই। দুপুরে স্নানের পর সেই ঘুম দিয়ে যখন উঠি, বিকেল তখন শেষ। আধশোয়া হয়ে নতুন বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখি।

যে হাত ধরেছ তুমি, সেই হাত যুদ্ধের দেবীর/ পাড়ার মেয়েটি ভেবে তুমি তাকে ট্যাক্সিতে তুলো না/ ভুলক্রমে তুমি তাকে মৃদুকণ্ঠ গায়িকা ভেবো না/ আইসক্রীম নয়, তাকে অস্ত্র কিনে দাও/পঞ্চাশটি রক্তপদ্ম দিয়ে তাকে সম্মান জানাও/ যে হাত ধরেছো তুমি রোগা ও লাজুক মেয়েটির/ তোমার প্রাণের রক্ষী সেই হাত যুদ্ধের দেবীর।

এই লোকটা কী! এই রণজিৎ বাবু! অসম্ভব অসম্ভব সব কবিতা লিখে রাখে। ছোট্ট পাতলা বইটা নিমেষে শেষ। আবার পড়বো। যখন ইচ্ছে হবে। আমার তো তাই হয়। যখন যার নেশায় পেয় বসে আমাকে, তাকে নিয়েই দিন কাটে। এখন এই রণজিৎ।

বাথরুমে গিয়ে চোখেমুখে পানি দেই। আয়নায় নিজেকে দেখি। একটা দুবেনি করা কিশোরীর সেই হারিয়ে যাওয়া মুখ একটা পোড় খাওয়া মুখের ফ্রেমে আটকে পড়ে ছটফটাচ্ছে। বাথরুম থেকে প্রায় ধুঁকতে ধুঁকতে এসে বসি আরাম চেয়ারটায়। এটা আমার নতুন কিছু না। হঠাৎ করে এক তীব্র বিষন্নতার ধাক্কা খেয়ে আমি কাহিল হয়ে একেবারেই লুটায়ে পড়ি যেন। মাথাটা দু’হাতে চেপে ধরে নিজেকে সামলাই। একের পর এক স্থূল স্থূল স্মৃতি এসে ধাই ধাই করে বাড়ি মারছে মাথার ভিতরে। বুকের ক্ষত টনটনাচ্ছে। কী আজব এই ফিরে আসা। সেই মফস্বল শহর, খেলার মাঠ, বিকাল বেলার আলো, বিষন্ন বারান্দা, টিয়া পাখি- সব ফিরে আসছে আবার। এমনকি বুকের ভিতরের ধুকপুক শব্দটা পর্যন্ত! আমি শুধু দৌড়ে দৌড়ে মাঠটা পেরিয়ে, বড় রাস্তাটার পাশ দিয়ে কখন কোনমতে শুধু পৌঁছে যেতে চেয়েছিলাম তোমার কাছে।

আরাম চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজি। একটা সবুজ মাঠের মত বিশাল বিস্তীর্ণ কিছু। আমি জানতাম না এর শেষ কোথায়। প্রত্যাখানের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমি ফিরে এসেছিলাম বটে, কিন্তু বুকের ভিতরে ওই আস্ত মাঠ কখন ঢুকে গেল, টেরই পেলাম না। এরপর ছোট্ট এঁদো শহরে কানাকানি, চাপাচাপি। চলে যেতে হলো তোমাকে কলেজের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে। আর আমার কলংক ঘোচাতে লাল শাড়ি আর গয়নায় মুড়ে পাঠিয়ে দেয়া হলো এমন এক বাড়িতে, যেখানে সন্ধ্যা নামলেই বুকজুড়ে হিম নামতো আমার, আমি সারারাত শুধু কাঁপতাম আর কুঁকড়ে থাকতাম। এমনকি ছেলেটা এলো কোলজুড়ে, তবুও এই হিম পড়া থামলো না এতটুকু। ওই হিমের কাঁপনে আমি স্তব্ধ, কথাহীন, জড়ভরৎ। তাই নিয়ে দিনরাত বকাঝকা, দুমদুম কিল চড়-ঘুষি। আর আমার কলঙ্কিত কৈশোর- মা, বাবা, ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ। চলছিলো এভাবেই। তারপর ত্যানা ত্যানা কামিজে স্পঞ্জের স্যান্ডেলে ছেলেকে কোলে নিয়ে কোন এক কালবোশেখীর বিকেলের অন্ধকার হয়ে আসা পথে নেমে পড়তে হলো।

আমি ভাবতে চাইনি। তবু স্মৃতিরাই মানুষের শত্রু । দু’হাতে মাথা চেপে ধরে বিশ্রাম নিতে চাই। খুব অস্থির আবার একইসাথে অবসন্নও হই। সন্ধ্যার মুখে মুখে ঐ কফিশপের দিকে রওনা হই পায়ে হেঁটে। আমার বাসা থেকে হাঁটা দূরত্বে। তোমার বাসাও নিশ্চয়ই আশেপাশেই কোথাও হবে। তুমি কি একা থাকো? নাকি আর কেউ থাকে তোমার সঙ্গে? এইসব এলোমেলো ভাবি। ভাবনাগুলো কোন পরিনতি পায় না। কিন্তু পৌঁছে যাই। কাঁচের ভারি দরজা ঠেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানটায় ঢুকে প্রথমেই চোখ যায় সেই নির্দিষ্ট টেবিলে। হ্যাঁ, আছো। সেইরকম স্থির, ধ্যানী ভঙ্গিতে, সামনে কফির মগ আর একখানা খোলা বই।

আমি খুব অস্থির আর এলোমেলো আজ। কেমন বিহ্বল চোখে আশেপাশে তাকাই। ওয়েটার আসে ঝটপট। আমি আমার সেই টেবিলটা দেখিয়ে বলি, ওটা ফাঁকা নাই।

-জি আপা। স্যরি। আপনাকে আরেকটা ভালো টেবিল ঠিক করে দেই?

-দেন

লোকটা খুঁজে খুঁজে ছোট একটা টেবিল বের করে। ঠিক তোমার মুখোমুখি। কী আশ্চর্য! লোকটা জানলো কী করে আমি আজ তোমার মুখোমুখি হতে চাই!

নিজেকে গুছিয়ে বসে পড়ি। কফি আসে। আলুভাজা আসে। আমি তোমাকে দেখি। সেই শ্যামল শান্ত মুখ। ভারি চশমায় ঢাকা। উদাস তাকিয়ে জানালার বাইরে। আমি কি গিয়ে বসবো তোমার টেবিলেই? আমি কি বলবো তোমাকে, আমি রুনু? চিনেছো আমাকে?

কফির কাপ শক্ত করে ধরে বসে থাকি। আটটা বেজে বিশ মিনিটে উঠে পড়ো বইটা গুছিয়ে। অন্যমনস্ক। আমার টেবিল ঘেঁষে হেঁটে চলেছো দরজার দিকে। তোমার শরীরের ঘ্রাণ পেতে কুকুরের মত খাঁড়া করি নাক। চোখ বুঁজি। বুঁজেই থাকি। এক দুই তিন চার পাঁচ… দশ গজ দূরের কাঁচের দরজা পেরোতে একজন ব্যর্থ বৃদ্ধের কতটা সময় লাগে?

শারমিন শামস্-এর গল্প ‘অনুসরণ’
শারমিন শামস্-এর গল্প ‘অনুসরণ’