শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, ৭ মাঘ, ১৪২৪, ২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

Live Score

শিক্ষার্থীদের খুলি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি হাজি মকবুলের (ভিডিও)

জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ | ৫:০৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘আমার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সরকার। যারাই ইতরামি করবে, তাদের খুলি উড়িয়ে দেব।’ পুলিশের উপস্থিতিতে এভাবেই এমএইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীদের শাসাচ্ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হাজি মকবুল হোসেন।

একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বহিষ্কার প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবিতে রাজধানীর তেঁজগাও শিল্প এলাকায় রোববার বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির সামনে বিক্ষোভ করছিলেন এর শিক্ষার্থী-চিকিৎসকরা।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্য শিক্ষার্থীদের টানা হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। নারী শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হোস্টেলে গেলে দেখে নেবেন বলে শাসান তিনি।

এসময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার ঘোষণা দিলে, হাজি মকবুল বলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সরকার। পরে অবশ্য শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থানের মুখে তাদের দাবি মেনে নেন এই সাবেক সংসদ সদস্য।

সকাল ৮টার দিকে তেজগাঁওয়ের লাভ রোডে কলেজটির সামনের রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

সকালে সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে হাজির হন হাজি মকবুল। এসময় তিনি আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার কথা বলে নোংরা ভাষায় শাসাতে থাকেন।  এ পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর ও নাম ধরে ডেকে বহিষ্কারের হুমকি দেন।

তাতেও যখন শিক্ষার্থীরা দমছিলেন না, তখন কয়েকজন শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নাম ধরে ধরে শাসাতে থাকেন। এক শিক্ষার্থীকে হোস্টেলে গেলে দেখে নেবেন বলেও হুমকি দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা কলেজের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেসব আমলে আনছে না বরং অনিয়মের অভিযোগ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসক লিমনকে বহিষ্কার করে। এ কারণে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

ইন্টার্ন ওই চিকিৎসককের বহিষ্কার বাতিল দাবির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে- ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা করা, প্রতিবছর মাসিক বেতন বাড়ানো বন্ধ করা, ফাইনালে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের থেকে বিএনডিসি-র নিয়ম বহির্ভূত ৭৮ হাজার টাকা নেওয়া বন্ধ করা, যে কোনো পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি এর বাইরে বাড়তি ফি নেওয়া যাবে না, মাসিক বেতন দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ প্রতিমাসে ১০ তারিখ করা, সকল শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ল্যাব পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা এবং সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিকিৎসা ও ল্যাব পরীক্ষায় ৬০ শতাংশ ছাড় দেওয়া প্রভৃতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। সব সরকারি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ১৫ হাজার শুধু তাদের এখানেই ভাতা ১০ হাজার। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি যখন তখন বেতন বাড়ায়, যে কোনো অজুহাতে মোটা অঙ্কের জরিমানা নেয়। এগুলো বন্ধ করতে তারা বাধ্য হয়ে প্রতিবাদে নেমেছিলেন।

আরও পড়ুন:

আট দফা দাবিতে রাস্তায় শমরিতার শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিলো শমরিতা কর্তৃপক্ষ

সারাবাংলা/জেএ/এনএস/এমএম