মঙ্গলবার ২২ মে, ২০১৮ , ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫, ৫ রমযান, ১৪৩৯

শিশু কিশোরদের পর্ণ আসক্তি- এ কোন অসুস্থ যাত্রা!

এপ্রিল ১৯, ২০১৮ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা।।

অর্ণব রাজধানীর একটি নামকরা বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। ওর বাবা মা দুজনেই চাকরিজীবী। একটা ছোট কাজের মেয়ে আর অর্ণব সারাদিন একা থাকে বাসায়। স্কুলের সময়টা বাদ দিয়ে বাকি সময় সে কম্পিউটারেই পড়ে থাকে। একদিন ওর অনার্স পড়ুয়া খালা বেড়াতে আসে। নানাসময়ে অর্ণবের কিছু আচরণ ও কথাবার্তায় নারী পুরুষের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ব্যপারে সে কিছু জানে এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় তার খালার সন্দেহ হয়। কৌশলে অর্ণবের সাথে কথা বলে তিনি জানতে পারেন যে অর্ণব আরও এক বছর আগে থেকেই পর্ণ মুভি দেখে। এসব কোথা থেকে পেয়েছে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় এলাকার ক্লাস এইট পড়ুয়া বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পেন ড্রাইভে নিয়ে এসে পিসিতে দেখেছে। অর্ণবকে সাথে বসিয়ে ওর খালা প্রত্যেকটা ভিডিও ডিলিট করে আর ভাগ্নেকে বুঝিয়ে বলে যে এসব দেখা ঠিক না। কিন্তু নিজের বোনকে সংকোচে বলতে পারেনি এটা নিয়ে। শুধু বলেছে ছেলেকে যেন একটু সময় দেয় বা তার কম্পিউটার ব্যবহারের দিকে আরেকটু নজর রাখে।

একইভাবে ১৯ বছরের সুমাইয়া একদিন তার ইংরেজি মাধ্যমের নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট ভাইকে দেখে রুমের দরজা আটকে ব্রডব্যান্ড কানেকশন দেওয়া কম্পিউটারে বসে পর্ণ বা অ্যাডাল্ট মুভি দেখছে। ওদের বাবা-মা দুজনেই কর্মজীবী তাই সারাদিন বাসায় থাকেন না। আর সুমাইয়ার এ সময়ে বাড়িতে ফেরার কথা না সেই সুযোগে ওর ছোট ভাই দিব্যি নিজের শোবার ঘরের দরজার সিটনিকি না দিয়েই এসব দেখছিল। মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় সে ভাইকে গিয়ে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দেয়। কিন্তু শাসন করাই কি সব। সে যে আবারও এসব দেখবে না তার নিশ্চয়তা নাই কোন যদি না অভিভাবক সচেতন হন।

পর্ণ বা  অ্যাডাল্ট মুভি আসলে কী আর এর উৎপত্তিই বা কীভাবে!

যখন থেকে মোশন পিকচাররের উদ্ভব তখন থেকেই পর্ণগ্রাফিক মুভি বানানোও শুরু হয়েছে। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রোথেলে দেখানো হত এগুলো আর বাইরে বিক্রি করা ছিল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের প্রভাব পড়ে মুভি তৈরিতেও। এভাবে কয়েক দশকের মাঝে পর্ণগ্রাফিক মুভি তৈরির আইনগত বাধাগুলোও ফিকে হতে থাকে আর নব্বইয়ের দশকে ডিভিডি ও ইন্টারনেটের কল্যাণে এ ধরণের অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট সারা পৃথিবী জুড়েই সহজলভ্য হয়ে যায়।

পর্ণগ্রাফিক মুভি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য বানানো হয়। সববয়সী দর্শকের জন্য না। কিন্তু উপরের দুটো কেস স্টাডিতেই উঠে এসেছে আমাদের দেশের শিশু কিশোররা এ ধরণের মুভি দেখছে নিয়মিত।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তাদের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে আমাদের দেশের ৭৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্ণ দেখে। আর এগুলো দেখতে তারা ব্যবহার করছে মোবাইল, ল্যাপটপ ও ট্যাবের মত সহজলভ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। আর ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড আর ওয়াইফাই সহজলভ্য হওয়াতে এর বিস্তার বেড়েছে অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, জানালেন বাংলাদেশে ১৮ বছরের পরে যে কেউ পর্ণ দেখতে পারে যদি না সে কোন পাবলিক নুইসেন্স বা প্রকাশ্য উৎপাত না করে। কিন্তু শিশু কিশোরদের জন্য পর্ণ দেখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ না হলেও সেটার ফলে সামাজিকভাবে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

শিশু কিশোররা পর্ণ দেখলে সমস্যা কি তাই নিয়ে জানার আগে একটি কেস স্টাডির কথা বলা যায়। মিসেস শায়লা একটি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা। ওনাকে সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখে। একদিন পরীক্ষার হলে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রকে উনি বকা দেন অসদুপায় অবলম্বন করায়। এ ঘটনা উনি ভুলেই যেতেন। দু’দিন পরে শিক্ষিকাদের বাথরুমের বাইরের দেয়ালে খুবই আপত্তিকর এক ছবি আঁকা দেখতে পান আর সেই ছবির নারী পুরুষের জায়গায় ওনার আর এক জুনিয়র শিক্ষকের নাম লেখা। এই ঘটনায় উনি খুবই মর্মাহত হন আর ভেঙে পড়েন। তদন্তে বেরিয়ে পড়ে কাজটি সেই ছাত্রের করা আর এই দুজন শিক্ষক তাকে আরেকজনের খাতা দেখে লেখায় বকা দিয়েছিল। তাই সে প্রতিশোধ নিতে এমন কাজ করেছে। একটা শিশুর ভাবনার অস্বাভাবিকতা উঠে আসে এ ধরণের ঘটনায়।

শিশু কিশোর উন্নয়ন ও মনো-সামাজিক সংস্থা প্রেরণার সাধারণ সম্পাদক সাইকো থেরাপিস্ট এস জেড রেজিনা পারভীন বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে প্রত্যেক শিশুকেই সুস্থ আর স্বাভাবিক যৌনতা সম্পর্কে জানা উচিৎ। যদি না জানে তার ফলে দেখা যায় তারা পর্ণ দেখে দেখে যৌন সম্পর্ককে অস্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে তাদের সামজিক আচরণে। এমনকি বড় হওয়ার পরে দাম্পত্য সম্পর্কে এর প্রভাব পড়ছে। অনেকসময়ই অনেক স্বামী পর্ণ মুভিতে দেখা নিয়মে যৌন সম্পর্ক করতে চায় আর স্ত্রী রাজী না হলে শুরু করে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের মামুন জানালেন অস্বাভিক যৌনতার চাহিদার জন্য পরকীয়া, ডিভোর্সের মত ব্যাপার নিয়মিত ঘটছে। এসব ছাড়াও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের সাথে পর্ণ মুভির চরিত্রদের তুলনা করে হীনমন্যতায় ভুগছেন। পর্ণ মুভিতে আধাঘন্টার শ্যুট হয়ত দশ দিনে হয়। আর শুটিং, পরিমার্জন বা এডিটিং ইত্যাদির পরে যা দাঁড়ায় বাস্তব জীবনে সেটা আসলে অস্বাভাবিক। তাই সুস্থ স্বাভাবিক যৌন শিক্ষা না থাকায় আমাদের দেশের শিশু কিশোরদের মনোজগতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি মনে করেন, স্বাভাবিক যৌনতার প্যাটার্ন বা অভ্যাস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এতে করে। বিয়ে ভেঙে যাওয়াসহ একের অধিক যৌন সঙ্গি থাকার অভ্যাস গড়ে উঠছে। আর পর্ণ মুভির চরিত্রদের মত স্থায়িত্ব না থাকায় অনেকেই বিষন্নতায় ভুগে চিকিৎসক এমনকি কবিরাজ বা রাস্তার পাশের ক্যানভাসারদের ওষুধের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

এসব স্বাস্থ্যগত দিক ছাড়াও অল্প বয়স থেকেই পর্ণ মুভি দেখার ফলে নানারকম সামাজিক অবক্ষয়ের দেখা মিলছে আজকাল। মামুন জানালেন ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মাঝে অ্যামেচার পর্ণ বানানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে আজকাল। তিনি বলেন, নানারকম পর্ণ ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়া এই পর্ণ মুভিগুলো মূলত তিনভাবে তৈরি হচ্ছে।

১. প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে মেয়েটিকে বাধ্য করা হচ্ছে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে যেতে, আর মেয়েটির অজ্ঞাতে এসব ভিডিওচিত্র ধারণ করে পরে নানা পর্ণ সাইটে দেওয়া হচ্ছে। অনেকসময়ই এসব ভিডিও দিয়ে পরবর্তীতে মেয়েটিকে ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করা হয় বা আবারও যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়।

২. দুজনের অজ্ঞাতে তৃতীয় পক্ষ ভিডিও করছে ও সেগুলোর অপব্যবহার করছে। এসব ভিডিও দিয়ে ব্লাকমেইল করে টাকা আদায়ের ঘটনাও ঘটে অনেকসময়।

৩. অনেকসময় দেখা যায় দুজনের সম্মতিতে ভিডিও ধারণ করে পরে ভুলে গেছেন বা ডিভাইস চুরি হয়েছে। আবার ডিভাইস ঠিক করার প্রয়োজনও হয় অনেকসময় নষ্ট হলে। পরে এসব ভিডিও মোবাইল সারাইয়ের দোকান থেকে কপি হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে পর্ন সাইটগুলোতে।

এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড ছাড়াও অল্পবয়সে পর্ন মুভি দেখার ফলে অনেকেই অস্বাভাবিক যৌনতাকে স্বাভাবিক বলে ভাবতে শুরু করেছে। সাধারণত সংস্কৃতিগত কারণে দেশে দেশে মানুষের যৌন অভ্যাসে ভিন্নতা দেখা যায়। মামুন জানালেন স্বেচ্ছায় একক বা দলগত যৌনতার ভিডিও ধারণ করে সেগুলো নানা ওয়েবসাইটে দিচ্ছে কেউ কেউ।

সাইকো থেরাপিস্ট রেজিনা বলেন আমাদের দেশে শিশু ধর্ষণ ছাড়াও এত যে ধর্ষণ বেড়েছে এসবের পিছনে অল্প বয়স থেকে পর্ণ দেখার প্রভাব আছে। তিনি আরও বলেন, সন্তান নিয়মিত পর্ণ দেখে সেটা নিয়ে বিচলিত অনেক বাবা মাই আসেন তার কাছে। তিনি জানান, এসব শিশুদের বেশিরভাগই স্কুল থেকে পর্ণ সাইটের সন্ধান পায়। আর আজকাল ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় স্কুলের বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে নানারকম আজেবাজে লিংক শেয়ার করতে পারে সহজেই।

 

পর্ণ মুভি ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। তাই ইন্টারনেটে এগুলো খুবই সহজলভ্য। স্বাভাবিক নানা বিষয়ে সার্চ করলেও পর্ণ মুভির লিংক চলে আসে। আর ইদানীং সবচাইতে ভয়ানক যে ব্যপারটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হল অডিও পর্ণ এর প্রচলন। মামুন বললেন, এটাই এখন সবচাইতে ভয়ানক। কারণ আপনার সন্তান কানে হেডফোন গুঁজে কী শুনছে তা সহজে বোঝা যাবেনা। সামনে বই খুলে বসে অডিও পর্ণ শুনে শুনে আপনার আদরের শিশু বা কিশোর সন্তানটি মানব মানবীর সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত কুৎসিত ধারণা পাচ্ছে। সে তখন নিজের পরিবারের নারী ছাড়া বাকি সব নারীদের নিয়ে বাজে চিন্তা করছে আর এটাকে সে মোটেই খারাপ ভাবছে না। শুনতে শুনতে তার কান ও চোখ একেই স্বাভাবিক বলে ভাবতে শুরু করছে।

শিশুরা কেন পর্ণের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে?

রেজিনা পারভীন ও মামুন উভয়েই বললেন শিশুরা পর্ণ দেখে মূলত কৌতুহল থেকে। আমাদের দেশে নানা কারণে যৌনতা সম্পর্কিত ব্যপারগুলোকে ট্যাবু হিসেবে দেখা হয়। রেজিনা পারভীন বলেন, যৌনতা যে খুব স্বাভাবিক ব্যপার তা বাচ্চাদের শেখানো হয়না। যেহেতু তারা সঠিক যৌন শিক্ষা পায় না ও যৌনতাকে নিষিদ্ধ হিসেবে জানে তাই তারা নিষিদ্ধ বস্তু অর্থাৎ পর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

মুক্তির উপায় কী?

রেজিনা পারভীন জানালেন, বাবা-মায়ের সচেতনতার বিকল্প নাই। সন্তানের হাতে ইচ্ছামত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ তুলে দেওয়া যাবেনা। আর মামুন জানালেন, শিশুদের হাতে এ ধরণের ডিভাইস দিলেও সেটিংস থেকে এডাল্ট কন্টেন্টে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। আঠারো বছরের নীচের শিশুদের কাছে সিম বিক্রি নিষিদ্ধ। কোন বাবা মা যদি সন্তানের জন্য সিম কেনেন তাহলে আমাদের দেশের ডেটা প্রোভাইডার কোম্পানিগুলোর উচিৎ সেসব সিমে এডাল্ট কন্টেন্টে প্রবেশের সুযোগ রেস্ট্রিকটেড করে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, নারী-পুরুষের মাঝে আকর্ষণ ও ভালোবাসা একটি স্বাভাবিক বিষয় আর সেই শিক্ষাটা সন্তানকে দিতে হবে। এতে করে শিশু কিশোররা যৌনতাকে নিষিদ্ধ বস্তু না ভেবে স্বাভাবিক হিসেবে দেখতে শিখবে ও পর্ণের দিকে ঝুঁকবে না।

রেজিনা পারভীন সুস্থ সুন্দর পারিবারিক সম্পর্কের উপর জোর দিয়ে বলেন, বাবা মা যেন সন্তানকে হাজার ব্যস্ততা সত্বেও প্রয়োজনীয় সময় দেয়। এতে করে বয়ঃসন্ধিতে কিশোররা যে সব মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যায় তা সামলানো তাদের জন্য সহজ হবে। আর বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে সঠিক বয়সে যেন যৌনতা বিষয়ক শিক্ষা যোগ করা যায় সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সচেতন উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, বয়ঃসন্ধিতে যৌনতার ব্যপারে আগ্রহ আসা স্বাভাবিক ব্যাপার। এই আগ্রহ মেটাতে পারে শুধুমাত্র বিজ্ঞাননির্ভর যৌনতার জ্ঞান।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারো কোন ক্ষতি না করে পর্ণ দেখা অপরাধ না। কিন্তু কেউ যদি কাউকে যৌন নির্যাতন করে বা সোশাল মিডিয়া বা অন্তর্জালে হয়রানি করে তাহলে তার জন্য আইন বেশ কড়া। ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের অপরাধ বিভাগের জয়েন্ট কমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন কেউ যদি যৌন নির্যাতন বা অনলাইন হয়রানি নিয়ে আইসিটি আইনে অভিযোগ করে তাহলে ডিবি সাথে সাথে একশন নেয়। কেউ চাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনেও মামলা করতে পারে। তিনি আরো বলেন, শিশু কিশোরদের মাঝে পর্ণ আসক্তি ও এই সংক্রান্ত অস্বাভাবিক আচরণের ব্যাপারে বাবা মাকেই সচেতন হতে হবে। অল্পবয়সী বাচ্চাদের হাতে ইন্টারনেট সুবিধা দিলেও বাবা-মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর নিতে হবে।

এদিকে আবদুল্লাহ আল মামুন জানালেন, আমাদের দেশে ২০১২ সালের পর্ণগ্রাফি আইন হলেও তা কার্যকর করা যাচ্ছেনা কারণ, ভুক্তভোগী অভিযোগ করে আইসিটি আইনের আওতায়। পর্ণগ্রাফি আইনের আওতায় মামলা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও জানান, পর্ণগ্রাফি সম্পর্কিত শব্দ দিয়ে যেসব ওয়েবসাইট আছে, সরকারিভাবে সেগুলো বন্ধ করা হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা শব্দ দিয়ে আরও অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে যেগুলো শিশু বা কিশোররা নিজের অজান্তেই খুঁজে পায়।

পর্ণগ্রাফি বা পর্ণ আর দশটা মুভির মতই অভিনেতাদের দিয়ে অভিনয় করিয়ে বানানো হয়। পর্ণ মুভিতে যা দেখায় তা বাস্তবসম্মত না। কিন্তু অল্পবয়সীদের কাছে পর্ণ মুভি সহজলভ্য হওয়ায় তারা সুস্থ স্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের ব্যপারে ভুল ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠছে ও পরবর্তীতে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের শিশুদের জন্য সুন্দর আগামী নিশ্চিত করতে তাই সব মহলের সচেতনতার বিকল্প নাই।

 

সারাবাংলা/আরএফ/এসএস

Tags:

আরও পড়ুন