রবিবার ১৯ আগস্ট, ২০১৮, ৪ ভাদ্র, ১৪২৫, ৭ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

শেষ হলো জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: উৎসাহ, উদ্দীপনা ও নতুন নতুন কৃষি যন্ত্রপাতির সঙ্গে সাধারণ জনগণকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা-২০১৮। তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজকরা বলছেন, প্রথম বারের মতো এই মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কৃষক, সেবাদাতা, যন্ত্র প্রস্তুতকারী ও আমদানিকারকরদের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। খোলামেলা আলোচনায় উঠে এসেছে প্রতিবন্ধকতাগুলোও। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের গতিকে এগিয়ে নিতে সমস্যাগুলোকেও চিহ্নিত করতে পেরেছে উপর মহলের কর্তারা।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর থ্রি ডি হলে সোমবার বিকালে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসনে এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মকবুল হোসেন বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের সময় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ছিল। তখনো খাবারের অভাব ছিল। এখন ১৭ কোটি মানুষ হলেও পেট ভরে খেতে পাচ্ছে।’

কৃষির সফলতা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের জমি কমছে। শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে। এ জন্য আমাদেরকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিককে যেতে হবে। কৃষকের জন্য সহজলভ্য, ছোট কৃষি যন্ত্রপাতি প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বাড়তি জনসংখ্যার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা ঠিক রাখতে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

মেলায় নিজেদের প্রযুক্তি উপস্থাপন, যন্ত্রের সংখ্যা ও সাজসজ্জার মানের ওপর ভিত্তি করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ৮টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। দ্বিতীয় হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এদিকে, বেসরকারি পর্যায়ে প্রথম হয়েছে এসিআই মটরস লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে দি মেটাল (প্রা.) লিমিটেড, আলিম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও তৃতীয় হয়েছে জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং। পুরস্কার হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. মোশারফ হোসেন, ডিএই-এর হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক মিজানুর রহমান।

প্রথমবারের এই মেলায় ২১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দেশের শীর্ষ স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতির প্রতিষ্ঠানসহ সিমিটের মতো প্রতিষ্ঠানও অংশ নিয়েছিল। ‘কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে, অর্থ-শ্রম-সময় বাঁচবে’ প্রতিপাদ্যে এই মেলা শুরু হয়েছিল ১০ ফেব্রুয়ারি।

সারাবাংলা/ইএইচটি/আইজেকে

শেষ হলো জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা
শেষ হলো জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা