বৃহস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

সংসদসহ সব নির্বাচনে অভিন্ন প্রতীক হতে যাচ্ছে!

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ | ১০:০৬ অপরাহ্ণ

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় সংসদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অভিন্ন প্রতীক রাখার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। আর এইক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গঠিত একটি কমিটি। শিগ্‌গিরই এই কমিটি অভিন্ন প্রতীক করার প্রস্তাব কমিশনে জমা দিতে যাচ্ছে। কমিটির সুপারিশের আলোকে কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

ওই সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে পছন্দ-অপছন্দের প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এ ইস্যুতে রীতিমত গলধঘর্ম রিটার্নিং কর্মকর্তারা। অনেক সময় দেখা যায়, প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের তোপেরমুখে পড়তে হয় ইসি কর্মকর্তাদের। বিশেষ করে ব্যালট মুদ্রণের সময় কমিশনের নির্ধারিত প্রতীকের বাইরে ব্যালটে ভিন্ন প্রতীক প্রার্থীর অনুকূলে ছাপানোর বিধান নেই। যদি ভুল করে একটি নির্বাচনের প্রতীক অন্য নির্বাচনে ঢুকে যায়, তাহলে পুরো মুদ্রিত ব্যালট বাতিল করে পুনরায় তা ছাপতে হয়। সম্প্রতি নোয়াখালীর একটি পৌরসভা নির্বাচনে এ ধরনের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে অন্যত্রে বদলি করেছে। এই ধরনের উটকো ঝামেলা এড়াতে অভিন্ন প্রতীকের চিন্তা করছে কমিশন।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম সারাবাংলাকে বলেন, ‘ইসির সংলাপে এ ধরনের প্রস্তাবনা এসেছিল। আমরা আমলে নিয়ে কাজ করছি,  দেখি কী করা যায়! তবে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সংসদ নির্বাচনের জন প্রতীক নিদিষ্ট করা আছে। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর (জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) জন্যও আলাদা আলাদা প্রতীক বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু কোন নির্বাচনের জন্য নিদিষ্ট কী প্রতীক রয়েছে, অনেক সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের নির্বাচনের নানামুখী প্রস্তুতির কারণে প্রতীক বরাদ্দ দিতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেন। সম্প্রতি একটি নির্বাচনে নীতি-বহির্ভূত এক প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে বিব্রতকর ঘটনা ঘটিয়েছে মাঠ পর্যায়ের এক রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে পরিস্থিতি সামলাতে তাকে বরখাস্ত করে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ইসির মাঠ প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে স্থানীয় সরকারের প্রত্যেকটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়। জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন তারা। সম্প্রতি ইসির এক কর্মকর্তাকে স্থানীয় নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়। ২০০৫ সালে থানা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। তিনি নোয়াখালীতে একটি পৌরসভা নির্বাচনে ইসির রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে সেখানে পৌরসভার নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে পছন্দের প্রতীক দেওয়ায়, পুরো নির্বাচনটি ভণ্ডুল হওয়ার উপক্রম হয়। কারণ প্রার্থীর চাহিদানুযায়ী দেওয়া প্রতীকটি পৌরসভা নির্বাচনের জন্য নিদিষ্ট প্রতীক তালিকাতে ছিল না। এ নিয়ে ব্যালট ছাপানোসহ নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় কমিশনকে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে ন্যস্ত করেছে কমিশন।

ওই সূত্র মতে, নোয়াখালীর পৌরসভা নির্বাচনে ভুল প্রতীক প্রার্থীকে দেওয়ার পর অভিন্ন প্রতীকে জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচন আগামীতে অনুষ্ঠানের তাগিদ অনুভব করে কমিশন। পরে একটি সাব-কমিটি গঠন করে অভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনের বিষয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। গঠিক কমিটি অভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন করাতে কোনো জটিলতা নেই, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনকে প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে আগামীতে সব নির্বাচন হবে অভিন্ন প্রতীকের আলোকে। এর ফলে প্রার্থীদের পছন্দ-অপছন্দ থাকলেও প্রতীক নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে না বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতীকের বিবরণ: এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদের জন্য প্রতীক নির্ধারিত আছে ৬৪টি, যার মধ্যে নিবন্ধিত দলকে দেওয়া হয়েছে ৩৯টি প্রতীক। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন পাওয়া দলগুলোকে সংরক্ষিত ওই প্রতীক থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবার নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে ৭৬ দল; সবগুলো নিবন্ধিত হলে প্রতীক সংকটে পড়তে হবে কমিশনকে।

একইভাবে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩৪ প্রতীকের মধ্যে চেয়ারম্যান পদের ১২টি, সংরক্ষিত মহিলা পদের ১০ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ১২টি। আর সিটি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদের জন্য ৩৯টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১২টি, সংরক্ষিত ও সাধারণ পদে যথাক্রমে ১০টি ও ১২টি। উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য ৩৯টি করে এবং চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১৪টি। পৌরসভা ও ইউপিতে একই ধরনের প্রতীক রয়েছে।

সারাবাংলা/জিএস/আইজেকে

সংসদসহ সব নির্বাচনে অভিন্ন প্রতীক হতে যাচ্ছে!
সংসদসহ সব নির্বাচনে অভিন্ন প্রতীক হতে যাচ্ছে!
সংসদসহ সব নির্বাচনে অভিন্ন প্রতীক হতে যাচ্ছে!