বুধবার ১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে পিছিয়ে আছে এসডিজি বাস্তবায়ন

ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ | ৬:০১ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) সম্পর্কে এখনও দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতার তীব্র অভাব রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ এসডিজি সম্পর্কে ধারণা রাখেন। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৪ শতাংশ ব্যক্তি এসডিজি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। জনপ্রশাসনে এর হার আরও কম, মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ কর্মচারী এসডিজি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এসডিজি নিয়ে সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের এই অভাবের কারণেই পিছিয়ে আছে এসডিজি বাস্তবায়ন। ফলে, এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে তোলাসহ আইন ও নীতিমালায় সংস্কার আনা জরুরি।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এক সংলাপে এসব কথা উঠে আসে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম এ আলোচনার আয়োজন করে। সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি এতে বক্তব্য রাখেন।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সকল মন্ত্রণালয় কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী অর্জিত হলে এসডিজি অর্জিত হবে। তবে এসডিজি বাস্তবায়নে জনসচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। গণমাধ্যমের ৭০ ভাগই রাজনৈতিক খবর, সেখানে উন্নয়ন আলোচনা খুবই কম হয়। গণমাধ্যম সচেতনতা তৈরি না করলে তা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করতে হবে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বেশি হওয়ায় বেসরকারিভাবেই বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। সরকার কিছু করছে না— এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

এসডিজি অর্জনে তেমন কোনো সফলতা নেই উল্লেখ করে ডা. শামসুল আরও বলেন, এসডিজির ক্ষেত্রে কথা বেশি কিন্তু কাজ কম। তাই আগামী তিন বছরে কোনো একটি প্রজেক্ট ওয়ার্ক করে দেখান।

প্রবন্ধ উপস্থানের সময় অক্সফামের সিনিয়র পোগ্রাম অফিসার মাহফুজা আক্তারা মালা বলেন, তিন বছর পার হয়ে গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি নিয়ে কোনো জনসচেতনতা গড়ে ওঠেনি। প্রান্তিক পর্যায়ের মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী এসডিজি সম্পর্কে ধারণা রাখেন। স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ এসডিজি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা করেছেন। জনপ্রশাসনে তা আরও অনেক কম, মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ কর্মচারী এসডিজি সম্পর্কে দেশি-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

হাওর ও উপকূলসহ পিছিয়ে থাকা ১৩টি জেলার তথ্য তুলে ধরে সিপিডির তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যখন কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে চিন্তা করি, তখন তারা তাদের স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চায়। কৃষিভিক্তিক অর্থনীতিকে কীভাবে গতিশীল করা যায়, তা নিয়ে তাদের চিন্তা রয়েছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি পণ্য ভিক্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তেলা, অর্থায়ন-শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবনা রয়েছে তাদের। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, উন্নয়নকে এখন আর উন্নয়ন বললে চলবে না, উন্নয়ন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক। তাই স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

Tags: ,

সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে পিছিয়ে আছে এসডিজি বাস্তবায়ন
সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে পিছিয়ে আছে এসডিজি বাস্তবায়ন
সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে পিছিয়ে আছে এসডিজি বাস্তবায়ন