মঙ্গলবার ১৯ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৫ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

সব কেন্দ্র নিরাপদ থাকবে, নির্ভয়ে ভোট দিতে আসুন: ডিএমপি কমিশনার

ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮ | ৭:২৩ অপরাহ্ণ

।। জামশেদ নাজিম, অতিথি প্রতিবেদক ।।

ঢাকা: আর মাত্র দুই দিন পর ভোট। প্রচার-প্রচারণা শেষ হতে আর বাকি প্রায় ১২ ঘণ্টা। উৎসবের পরিবেশে গোটা দেশ এগিয়ে চলেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিকে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা নেই । তবে জনমনে এক অদৃশ্য আতঙ্ক এখনও রয়েছে। সে আতঙ্ক ভোটের দিন ও তার পূর্বক্ষণকে ঘিরে। সরকার একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে সব প্রক্রিয়া। অন্যদিকে ভোট বানচাল করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গি হামলা, ভোট কেন্দ্র দখল, পেশি শক্তির প্রয়োগসহ বিভিন্ন আশঙ্কার কথা গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। সতর্কও করে আসা হয়েছে সরকারের বিভিন্ন দফতরকে। তাহলে কী ঘটতে পারে ভোটের দিন? ভোটকেন্দ্র কতটুকু নিরাপদ? ভোটাররা ভোট দিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন তো?

সেসব প্রশ্ন নিয়েই সারাবাংলা ডটনেট মুখোমুখি হয়  ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুধু ঢাকা মহানগরী নয়, ঢাকা বিভাগসহ সারাদেশের নিরাপত্তার মনিটরিংয়েও থাকবেন যিনি।

বিজ্ঞাপন

ভোটারদের আতঙ্কের প্রসঙ্গ এককথায় উড়িয়ে দিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানালেন, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই, কেন্দ্র নিরাপদ থাকবে। সারাদেশের ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে যাওয়ারও আহ্বান জানালেন তিনি ।

সারাবাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অন্তত তিন দিন আগেই দেশের সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে । তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ধরে আরও চার মাস আগে থেকে নিরাপত্তার কাজ শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশ। তখন পুলিশ সদর দফতরের ত্রৈমাসিক অপরাধ সভার প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা সামনে রেখে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর জঙ্গি, সন্ত্রাসীসহ নির্বাচনের নিরাপত্তার হুমকি হতে পারে— এমন ব্যক্তিদের গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়। যার মাধ্যমে এরই মধ্যে সন্ত্রাস বা সহিংসতার মূল শক্তিগুলোকে কব্জা করা হয়েছে। পুলিশের এই অভিযান ভোটের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সারাবাংলা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ একটি দলকে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান করছে— বিএনপির নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে আপনারা কী বলবেন?

ডিএমপি কমিশনার: দেশ ও দশের নিরাপত্তা দেওয়াই পুলিশের কাজ। তারা কারও প্রতিপক্ষ নয়। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য যা ভালো তাই করছে ও করবে পুলিশ। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন একটা মনোভাব সবসময় থাকে, যে দলই সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলে থাকে সবাই পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে। বর্তমান সরকারের অনেক এমপি-মন্ত্রী বিরোধী দলে থাকাকালে পুলিশের বিরুদ্ধে সরকারি দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ করছেন। এটা পুলিশ সদস্যদের কাছে কাম্য নয়।

সারাবাংলা: নির্বাচনে সারাদেশ, বিশেষ করে ঢাকার নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

ডিএমপি কমিশনার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য এবার কোনো স্তর রাখা হয়নি। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। তবে নিরাপত্তার সুবিধা ও পুলিশের দায়িত্ব পালনের সুবিধায় এবার তিন ভাগে নির্বাচনি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রচার-প্রচারণা থেকে নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত সময়কে একভাগ, ভোটগ্রহণের ভোর থেকে সন্ধ্যা ও রাত পর্যন্ত দ্বিতীয় ভাগ এবং ফল ঘোষণা থেকে পরদিন ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যাসহ থার্টিফাস্ট নাইট পর্যন্ত তৃতীয় ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তার কৌশল নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি থাকছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও আনসার। এরই মধ্যে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সাথে নিরাপত্তার সমন্বয় বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।

সারাবাংলা: ভোটের দিন কোনো হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি?

ডিএমপি কমিশনার: ভোটের দিন শুধু নয়, দেশে বর্তমান সময়ে কোনো ধরনের হামলার হুমকি নেই। জঙ্গিবাদ নির্মূলে ডিবি, র‌্যাব অনেক কাজ করেছে। নবগঠিত কাউন্টার টেরোরিজমই এখন জঙ্গিবাদের জন্য বড় হুমকি। এ দেশে আর হলি আর্টিজানের মতো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটবে না। তবে দেশের অতীত কালচারে দেখে গেছে, নির্বাচনের সময় ও ভোটের দিন প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে গোলমালের ঘটনা ঘটে। এবারও দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এগুলো সাময়িক ঘটনা, যা নিরপত্তার জন্য হুমকি নয়।

সারাবাংলা: ভোটের দিন কেউ ভোটকেন্দ্র দখল করলে পুলিশের ভূমিকা কী হবে?

ডিএমপি কমিশনার: ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা পেশি শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ পেলে সে যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশসহ সকল সরকারি সংস্থা। এমনকি ভোটাররা যেন অবাধে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া-আসা করতে পারেন, সে বিষয় নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পথে যেন কেউ ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সেজন্য টহল পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

সারাবাংলা: ভোটের দিনে জনগণের জন্য পুলিশের কর্মকর্তা হিসাবে আপনার কী বলার আছে?

ডিএমপি কমিশনার: দেশবাসীর কাছে আমার একটিই প্রত্যাশা, প্রোপাগান্ডায় কেউ কান দেবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একটা গুজব ছড়িয়ে দিলে না জেনে সে বিষয়ে আতঙ্কিত হবেন না। যেকোনো তথ্য দেখে আতঙ্কিত না হয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আর ঘরে বসে যেকোনো তথ্য দিতে বা পেতে পুলিশ সদর দফতরের ৯৯৯-এ কল করুন। মনে রাখবেন, দেশ আপনার-আমার সকলের। আপনার ভোট আপনি দেবেন। সেজন্য পুলিশ আপনার নিরাপত্তা দেবে। ভোটের দিন দেশের সব ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকবে। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে আসুন।

সারাবাংলা/জেডএন/এমএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন