মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৮ ফাল্গুন, ১৪২৪, ২ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

‘সাকিবের তিনে উঠে আসা বাকিদের জন্য সুযোগ’

জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ | ৬:২১ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেটি ছিল দুঃস্বপ্ন, প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং অন্তত চিন্তার কারণ হয়নি। তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান অনেককে প্যাড পরারই সুযোগ দেননি। সাকিব তিনে নেমে ৩৭ রানের ইনিংসে জানান দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের আরও অনেক চ্যালেঞ্জের মতো এটাও নিতে প্রস্তুত। আজ যেমন মাশরাফি বিন মুর্তজা মনে করিয়ে দিলেন, সাকিবের তিনে উঠে আসা বাকিদের জন্য একটা সুযোগ।

ক্যারিয়ারে এর আগে দুইবার তিনে ব্যাট করলেও সাকিবকে নামতে হয়েছে পরিস্থিতির কারণে। এবার পাকাপাকিভাবেই সেই জায়গায় চিন্তা করা হচ্ছে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ককে।

মাশরাফি নিশ্চিত, সাকিব এই পজিশনের সঙ্গে আগে-পরে মানিয়ে নেবেনই, ‘সাকিবকে তিনে ব্যাটিং করানোর পিছে আমার যুক্তি এটাই যে গত তিন-চার বছরে অনেক খেলোয়াড়কেই বদল করা হয়েছে। সাকিব গত ১০/১২ বছর ধরে পারফরম্যান্স করেছে সে যদি একটা দুইটা তিনটা ম্যাচে রান নাও পায় আমি নিশ্চিত ওই একমাত্র খেলোয়াড় যে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। আমার কাছে মনে হয় ওর সেই সামর্থ্য আছে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তার চেয়ে বেশি চিন্তিত আর কেউ হবে না।’

সাকিব উপরে উঠে যাওয়ায় সাব্বির নেমে যাচ্ছেন ছয়ে। মাশরাফির মতে, এই জায়গাটাই সাব্বিরের জন্য আদর্শ, ‘সাব্বিরকে দিয়ে নাম্বার তিনের জন্য অনেক দিন চেষ্টা করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে ওর জন্য এই জায়গাটা (ছয়-সাত) সবসময় বেটার। কারণ ওর এখন আর্লি ক্যারিয়ার। সে স্ট্রোক খেলতে পছন্দ করে। সে যদি আট-দশ-বার-১৪ ওভার পায় তাহলে ক্যালকুলেশন করা সহজ। আমার মনে হয় সাব্বির এখন তার বেস্ট পজিশনে আছে।’

কিন্তু সাকিব ওপরে উঠে আসায় নিচের দিকে দ্রুত রান তোলার একটা কি শুন্যতা হয়ে গেল না? মাশরাফি আগেও যেমন বলেছেন, আজও স্বীকার করলেন, সাত-আটে একজন হার্ড হিটারের শুন্যতা এখনো ভালোমতোই টের পাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, দলে এখন যারা আছেন সেই কাজটা কিছুটা হলেও করতে পারছেন।

‘এখন যেমন আবুল হাসান রাজু আছে, সাইফ উদ্দিন আছে, মিরাজও দলে এসেছে বেশি দিন হয়নি। এদের দায়িত্ব এখানে কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবে, শট খেলার সামর্থ্য সেটা ঠিক করা। এদের সবার বোলিং খুব ভালো, কিন্তু ব্যাটিং নিয়ে উন্নতি কীভাবে করছে সেটা ওদের ওপর নির্ভর করছে। সাকিব তিনে যাওয়ায় এদের জন্য কিন্তু বড় একটা সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশের হয়ে তাদের অবদান এত বেশি বাড়াতে পারে যে চাইলে তারা ম্যাচ উইনারও হতে পারে। এখন এটা কীভাবে নেবে সেটা ওদের ব্যাপার।’

‘আমি জানি, টপ ফাইভ জানে ওদের কাজটা। ব্যাড ডে ছাড়া ওরা ক্লিক করবে, আর ব্যাড ডে যে কারো হতে পারে। এখন ছয়-সাত-আটকে ঠিক করতে হবে আন্তর্জাতিকে বা বাংলাদেশের পক্ষে তারা তাদের ক্যারিয়ার কীভাবে ঠিক করবে।’ যোগ করেন মাশরাফি।

মাশরাফির চিন্তাটা অবশ্য পুরোপুরি অমূলক নয়। বিশেষ করে সাত নম্বরে গত দুই বছরে বাংলাদেশের ওয়ানডেতে চল্লিশের বেশি ইনিংস আছে মাত্র চারটি। সেই তিনটি আবার যাদের, সেই মোসাদ্দেক হোসেন আর নুরুল হাসান দলেই নেই এবার। সাত বা আটে নাসির বা অন্য কেউ সেই শুন্যতা পূরণ করতে পারবেন কি না, এখন তারই অপেক্ষা।

সারাবাংলা/এএম/এমআরপি