শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭ আশ্বিন, ১৪২৫, ১০ মুহররম, ১৪৪০

সিলেটেও সেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮ | ৮:৪২ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম থেকে মিরপুর, এরপর সিলেট। স্থান বদলাল, সময় বদলাল। শুধু বাংলাদেশের ভাগ্যটাই ঘুরপাক খেতে থাকল একই বৃত্তে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটাও হলো ভুলে যাওয়ার মতো, ৭৫ রানে ম্যাচটা জিতে বাংলাদেশকে ধবলধোলাই-ই করল শ্রীলঙ্কা।

আগের ম্যাচের সাথে আজকের পার্থক্য বলতে গেলে একটাই। মিরপুরের প্রথম ম্যাচে অন্তত ব্যাটিংটা ঠিকঠাক করতে পেরেছিল স্বাগতিকরা। আজ সেটাও ঠিকমতো হলো না, বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই একরকম ঠিক হয়ে গেল ম্যাচের ভাগ্য।

২১০ রান তাড়া করে জিততে হলে এমনিতেই ইতিহাস গড়তে হতো বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ১৯৩ আগের ম্যাচেই গড়েছিল, সেটাও টপকে আরও অনেকদূর যেতে হতো। সিলেটের মাঠে বাংলাদেশের এটা প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ বটে, কিন্তু আগে যে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে, প্রতিবারই জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। শিশির একটা ভূমিকা রাখতে পারে, সেটা আগেই বোঝা যাচ্ছিল। টসে জিতে মাহমুদউল্লাহ তাই বোলিংই নিলেন।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অবস্থা এতই ছন্নছাড়া, শিশিরের সুবিধা-টুবিধার আলোচনা প্রথম কয়েক ওভার শেষেই উড়ে গেল বিলকুল। নিজেরাই যখন এমন আত্মহননে মেতে ওঠেন, তখন শত অনুঘটক এসেও তো কিছু করতে পারবে না। সৌম্য সরকার যেমন প্রথম তিনটি বল ডট দেওয়ার পর এমনই চাপে পড়ে গেলেন, অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের চতুর্থ বল তাড়া করতে গিয়ে তুলে দিলেন ক্যাচ। মুশফিকুর রহিম ভাগ্যগুণে ছয় পেয়েও শর্ট বলে তুলে দিলেন সহজ ক্যাচ। তামিম ডাউন দ্য উইকেটে একবার বেঁচে গেলেন, কিন্তু পরের বার ওই একই শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন। ২৩ বলে তার ২৯ রানের ইনিংস শেষের সঙ্গে সঙ্গেই পুরোপুরিই নিভে গেল বাংলাদেশের আশার প্রদীপ। তার আগেই অবশ্য সৌম্য, মুশফিক, মিঠুন কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে না পেরেই ফিরে গেছেন।

২১০ রানের পাহাড় যে মানসিকভাবেই অনেকটা দিশেহারা করে দিয়েছে, তা বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। শুরু থেকেই প্রতিটা বলেই শট খেলার চেষ্টা করছিলেন ব্যাটসম্যানরা। মাহমুদউল্লাহ-সাইফ উদ্দিন সেই অবিমৃশ্যকারিতার তালিকায় নাম লেখাননি বটে, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। দুজন যখন ধরে খেলার চেষ্টা করেছেন, বাংলাদেশের দরকারি রান রেটও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতো বেড়ে যাচ্ছে তরতর করে। বাংলাদেশ যখন ১০০ ছুঁয়েছে, তখনই প্রতি ওভারে রান দরকার ১৫ এর মতো! মাহমুদউল্লাহ যখন ৩১ বলে ৪১ রান করে আউট হয়েছেন, বাংলাদেশের পরাজয় তখন সময়ের ব্যাপার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারও খেলতে পারল না বাংলাদেশ, ১৮.৪ ওভারে অলআউট হয়ে গেল ১৩৫ রানে।

তবে বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গল্পটা ছিল আগের ম্যাচের মতোই। এক নাজমুল ইসলাম অপু ছাড়া বাকি বোলারদের কেউই ফিল্ড প্লেসিং অনুযায়ী বল করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার শুরুটাও হয়েছিল দুর্দান্ত, দুই ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিস প্রথম ৬ ওভারেই এনে দিয়েছিলেন ৬৩ রান। এর মধ্যেই সুযোগও ছেড়েছে বাংলাদেশ, চতুর্থ ওভারের শেষ বলে তামিম ডান দিকে ডাইভ দিয়েও ধরতে পারেননি গুনাথিলাকার ক্যাচ। ২৯ রানে আবার গুনাথিলাকা দিয়েছিলেন ক্যাচ, এবার লাফটা ঠিকঠাক না হওয়ায় ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।

শেষ পর্যন্ত তার জন্য খুব বড় মাশুল দিতে হয়নি। ৩৭ বলে ৪২ রান করে ফিরে গেছেন তিনি। কিন্তু কুশল মেন্ডিসের সুযোগটার জন্য অনেক বড় মূল্যই দিতে হয়েছে। আরিফুল সরাসরি থ্রোটা লাগাতে পারলে মেন্ডিস আউট হয়ে যেতেন ২৯ রানে। সেই মেন্ডিস শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৭০ রান করে আউট হয়ে গেছেন। তিনে উঠে এসে তার আগেই অবশ্য ১৭ বলে ৩১ রানের ছোটখাট একটা ঝড় তুলে ফিরে গেছেন থিসারা পেরেরা। শ্রীলঙ্কার রান যে ২০০ পর্যন্ত যেতে পারে, সেই ভিত্তিটাও গড়ে দিয়েছিলেন দুজন।

কিন্তু সেই রানটাও শেষ দিকে অমন ছন্নছাড়া বোলিং না করলে এতো হতো না। মোস্তাফিজ, রাহীরা একের পর এক শর্ট বল, হাফভলি দিয়ে গেছেন, আর শেষ ৩ ওভারে ৪৯ রান নিয়ে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। ১১ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত ছিলেন শানাকা, থারাঙ্গা আউট হয়েছেন ১৩ বলে ২৫ রান করে। মোস্তাফিজ, সৌম্য, রাহী ও সাইফ উদ্দিন সবাই উইকেট পেয়েছেন বটে, কিন্তু আজকের রাতটা সবাই ভুলে যেতে চাইবেন।

যেমন বাংলাদেশ ভুলে যেতে চাইবে দুঃস্বপ্নের গত দেড় মাস।

সারাবাংলা/এএম/এমআরপি

সিলেটেও সেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশ
সিলেটেও সেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশ