বুধবার ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে বাসা থেকে বের করেন স্ত্রীর লাশ

সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

।। ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

মানিকগঞ্জ : সাভারের মজিবপুরের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন আয়শা আক্তার-সেলিম মন্ডল দম্পতি। গত ২ আগস্ট রাতে বাসায় ঢুকে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্ত্রী আয়েশার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন সেলিম। এর একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধর করে হত্যা করেন তিনি। এরপর তার সহযোগীদের সহায়তায় লাশটি চাদর ও বিছানায় মুড়িয়ে ফেলা হয়। রাতেই লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের ব্যবহৃত গাড়ি প্রস্তত করে রাখেন সেলিম। এমনকি লাশ নিয়ে বের হওয়ার আগে বাড়ির যেখানে যেখানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা আছে সেগুলো সব বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর গভীর রাতে লাশ নিয়ে চলে যান মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের রুপপুর এলাকায়।  সেখানে পেট্রোল ঢেলে লাশের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন।

এভাবেই বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্ত্রীকে হত্যার বিবরণ ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে জানিয়েছেন সেলিম মন্ডল।

পরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

মানিকগঞ্জ ও সাভারের আলোচিত নাম সেলিম মন্ডল। তিনি ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ও সাভার উপজেলা যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি। নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যা করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন এই নেতা। ৫ সেপ্টেম্বর ইতালি পালিয়ে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমেগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বুধবার মানিকগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক নিভানা খায়ের জেসির কাছে ১৬৪টি ধারায় জবানবন্দিতে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার বকুল (২৫) হত্যার দায় স্বীকার করেছেন সেলিম।

বিকেলে পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানান, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৩ আগস্ট সিংগাইর উপজেলার বায়রা গ্রাম থেকে আগুনে ৯০ শতাংশ ঝলসানো এক নারীর লাশ উদ্ধার করে সিংগাইর থানা পুলিশ। পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশটি মানিকগঞ্জ পৌরসভা কবরস্থানে দাফন করা হয়। সিংগাইর থানা পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে।

পরে লাশের ছবি দেখে স্বজনরা আয়েশা আক্তার বকুলকে শনাক্ত করেন। আয়শার বড় ভাই উজ্জল হোসেন এ ঘটনায় সেলিম মণ্ডলকে প্রধান আসামি করে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সেলিম মণ্ডল বেশ কিছুদিন পালিয়ে থেকে গত ২৮ আগস্ট উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাকে অস্থায়ী জামিন দেন। অস্থায়ী জামিনে থাকা অবস্থায় সেলিম মন্ডল গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশ থেকে পালিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিমানবন্দরের ইমেগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সিংগাইর থানা পুলিশের কাছে আটক সেলিম মণ্ডলকে হস্তান্তর করা হয়।

গত ৬ সেস্টেম্বর আদালতে সেলিম মন্ডলকে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় সিংগাইর পুলিশ। পরবর্তিতে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই বুধবার সেলিম মন্ডল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সারাবাংলা/এসএমএন

Tags: , ,

সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে বাসা থেকে বের করেন স্ত্রীর লাশ
সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে বাসা থেকে বের করেন স্ত্রীর লাশ
সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে বাসা থেকে বের করেন স্ত্রীর লাশ