রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৮ আশ্বিন, ১৪২৫, ১২ মুহররম, ১৪৪০

সেরেনা হেরে গেছেন, জিতে গেছেন মায়েরা

জুলাই ১৫, ২০১৮ | ১:৫০ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক।। 

সেরেনা উইলিয়ামস কাঁদছেন। সেন্টার কোর্টে দাঁড়িয়ে তাঁর চোখ বেয়ে গড়ে পড়ছে অশ্রু। না, দুই বছর পর উইম্বলডনে ফিরেও ফাইনালে হেরে যাওয়ায় কাঁদেননি। ২৪তম গ্র্যান্ড স্লাম না পাওয়ার বেদনাটা ছাপিয়ে গেছে আরেকটা প্রাপ্তির আনন্দে। সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড় সেরেনা প্রমাণ করেছেন, মা হয়েও টেনিসের মতো খেলায় অজেয়কে জয় করা সম্ভব। জীবনসংগ্রামে যেসব মায়েরা লড়ছেন, তাদের কথা বলতে গিয়েই আবেগটা বাঁধ মানেনি সেরেনার। এই কান্না তাই হেরে যাওয়ার নয়, বরং হার না মানার।

উইম্বলডনের ফাইনালে পা রেখেই কাল একটা ইতিহাস গড়ে ফেলেছিলেন সেরেনা। ৩৮ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো মা খেলছেন ইতিহাসের সবচেয়ে অভিজাত গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে। এই মা হওয়ার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, এরপর এমন কিছু অবিশ্বাস্যই। গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের সময় তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এর পরেই জানিয়েছিলেন, লম্বা সময়ের জন্য চলে যাচ্ছেন কোর্টের বাইরে। অবশেষে গত সেপ্টেম্বরে অ্যালেক্সিস ওহানিয়ান ও সেরেনার ঘর আলো করে এসেছে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। ডিসেম্বরে আবার র‍্যাকেট হাতে নেন, তবে গ্র্যান্ড স্লামে ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এই বছর পর্যন্ত।

 

                                                   শিশুকন্যার সঙ্গে  সেরেনা উইলিয়ামস

 

ফ্রেঞ্চ ওপেনে বেশি দূর যাওয়া হয়নি, চতুর্থ রাউন্ডের আগেই চোটের জন্য নাম প্রত্যাহার নিতে হয়েছে তাঁকে। উইম্বলডনেও ভাগ্য ভালো ছিল না, অনেক দিন না খেলার কারণে ২৫তম বাছাই হিসেবে শুরু করতে হয়েছিল। কঠিন প্রতিপক্ষদের পেয়ে গিয়েছিলেন শুরুতেই, পথটা ছিল বেশ কঠিন। কিন্তু সেরেনা সব বাধা পেরিয়ে চলে গিয়েছিলেন ফাইনালে। সেখানে শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে হয় জার্মানির অ্যাঞ্জেলিক কেরবারের কাছে।

তবে সেরেনা জানেন, মা হওয়ার জন্য তাঁকে কতটা সংগ্রাম করতে হয়েছে। বয়স হয়ে গেছে প্রায় ৩৭, এই বয়সে টেনিস খেলাটাই প্রায় অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার। তার ওপর মাতৃত্বকালীন ধকল সামলে সেরেনা কতটা কী করতে পারবেন সেটা নিয়ে যাদের সংশয় ছিল, সেরেনা উত্তরটা দিয়েছেন কোর্টেই। ম্যাচটা হেরে গেলেও সেরেনা শেষ পর্যন্ত আবেগঘন গলায় বলেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টে খেলাটাই আমার জন্য ছিল বিস্ময়কর একটা ব্যাপার। এই পর্যন্ত আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। হ্যাঁ, হেরে যাওয়ায় হতাশ তো লাগছে বটেই, কিন্তু আমার সামনে এতোটা পথ পড়ে আছে হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই আমার।’ এবারের উইম্বলডন উৎসর্গ করেছেন সব মায়েদের জন্য, ‘আমি আজ সব মায়েদের জন্য খেলতে নেমেছিলাম। দুর্ভাগ্য, অ্যাঞ্জেলিক আজ আমার চেয়ে বেশি ভালো খেলেছে। আশা করি, সামনে আমি আপনাদের আনন্দ দিতে পারব।’

সেরেনাকে সমর্থন দিতে কাল কোর্টে ছিলেন বিরিটিশ রাজপরিবারের দুই বধূ কেট মিডলটন ও মেগান মার্কল। প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মার্কল অনেক দিন ধরেই সেরেনার ঘনিষ্ঠ, বন্ধুকে সমর্থন দিতে এসেছিলেন কোর্টে। শেষ পর্যন্ত বন্ধু হেরে গেলেও তারা হাততালি দিয়েই উৎসাহ দিয়েছেন।

সেরেনা কাল হেরে গেলেও জিতে গেছেন সব মায়েরাই।

সারাবাংলা/ এএম

সেরেনা হেরে গেছেন, জিতে গেছেন মায়েরা
সেরেনা হেরে গেছেন, জিতে গেছেন মায়েরা