সোমবার ২৮ মে, ২০১৮ , ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫, ১১ রমযান, ১৪৩৯

স্মার্ট ঘরে স্মার্ট ফার্নিচার!

ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৮ | ৩:০৯ অপরাহ্ণ

আফরোজ ন্যান্সি।।

ঘর গোছানোর অতি প্রয়োজনীয় এবং সৌখিন উপকরণ হলো নানা ধরনের ফার্নিচার। প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি ঘরের সাজে নতুন মাত্রা যোগ করতে ফ্যাশনেবল ফার্নিচারের বিকল্প নেই।

আধুনিক জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যবহার্য সব কিছুর পাশাপাশি গৃহসজ্জা এবং আসবাবপত্রেও লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। বেশ কয়েক বছর আগেও ফার্নিচারের ডিজাইনে বড় অলংকরন, ভারি কারুকাজ প্রাধান্য পেত। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের রুচি, চাহিদা, পছন্দের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে অনেক বেশি কারুকাজ করা আসবাব, ভারি কাঠের আলমারি, লোহার সিন্দুকের চল ছিল, এখন এই জায়গা দখল করে নিয়েছে একেবারে সহজ, সরল হালকা ডিজাইনের আধুনিক ফার্নিচার।

এ সময়ের ফার্নিচারের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এতে কোনো অপ্রয়োজনীয় ব্যাপার থাকেনা অর্থাৎ এ সময়ের ফার্নিচার বাহুল্যবর্জিত। গৃহসজ্জায় নতুন লুক আনতে এসব আধুনিক ফার্নিচারের জুড়ি নেই। ফলে স্বভাবতই হালের সেসব ফার্নিচারকে বাতিল করে মানুষ আধুনিক স্মার্ট ফার্নিচারের দিকে ঝুঁকেছে।

স্মার্ট ফার্নিচারের ব্যান্ড হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ ব্র্যান্ড “হাতিল” এর ট্যাগ লাইনই হচ্ছে “স্লিম ইজ স্মার্ট”। আধুনিক ফার্নিচারের ধরন, ক্রেতাদের চাহিদা, বাজারদর ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, এসময়ে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে কাঠের তৈরি ফার্নিচার। এসব ফার্নিচারে ব্যবহৃত মেটেরিয়ালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রসেসড উড, ইঞ্জিনিয়ারিং উড, প্লাইউড, সলিড উড ইত্যাদি।

 

 

ফার্নিচারের এই মেটেরিয়ালগুলো মূলত দেশের বাইরে বিশেষত মালয়শিয়া থেকে আমদানি করা হয়। কাঁচামাল দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হলেও ফার্নিচার তৈরির যাবতীয় কাজ দেশেই করা হয়। এছাড়া দেশি কাঠের মধ্যে সেগুন, মেহগনি ইত্যাদির তৈরি ফার্নিচারের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। দেশি কাঠগুলো আনা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বার্মা থেকে। কাঠ ছাড়াও লেমিনেশন বোর্ড, মেলামাইন বোর্ডের ফার্নিচারের চাহিদা বেশ ভালোই। অল্প কিছু ক্ষেত্রে কাঠের পাশাপাশি নানা ধরনের মেটাল এবং স্টিলও ফার্নিচার তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ফার্নিচারের আরেক সুপরিচিত ব্র্যান্ড অটবির সাথে কথা বলে জানা যায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই থাকে বার্মিজ সেগুন কাঠের তৈরি ফার্নিচার। চাহিদার আধিক্যের কারনে দামের দিক থেকেও সলিড উড এবং সেগুন কাঠের ফার্নিচারগুলোই বেশি দামে বিক্রি হয়।

ঘরের সাজে ফার্নিচারের রঙ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেয়ালের রঙের সাথে মানিয়ে যায় এমন রঙের ফার্নিচারের ব্যবহার গৃহসজ্জায় নতুন মাত্রা এনে দেয়।  সেদিক বিবেচনায় এন্টিক কালার, ক্রিমি ওয়ালনাট, চেস্ট নাট, ওক, মেহগনি কালার ইত্যাদি ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে অবস্থান করছে।

সারাবছরই ফার্নিচারের বেচাকেনা থাকলেও শীতকালে, বিশেষত জানুয়ারীতে বেচাকেনার হার থাকে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ঈদ, পূজো ইত্যাদি উৎসবের দিন সামনে রেখেও ফার্নিচারের শোরুমগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে দেখা যায়।

পূর্বের তুলনায় কাঠের ফার্নিচারের প্রতি সাধারন মানুষের ঝোঁক বাড়লেও পন্যের বাজারমূল্য তুলনামূলক খুব বেশী বৃদ্ধি পায়নি বলেই জানান বিক্রেতারা।

আধুনিক সময়ে এসে ফার্নিচার সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঘরের জায়গা ও ডেকোরেশনের কথা মাথায় রেখে ডিজাইনের বিষয়টি  বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। হালকা কারুকাজের স্মার্ট এসব ফার্নিচার শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না বরং ঘরের অনেকটা জায়গাও বাঁচিয়ে দেয়। এগুলো দেখতেও মার্জিত, দৃষ্টিনন্দন আর ব্যবহারের দিক থেকেও আরামদায়ক, মজবুত ও টেকসই।

 

 

 

সারাবাংলা/এসএস

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আরও পড়ুন