বুধবার ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

‘সড়ক দুর্ঘটনার সমাধান তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্কের মতো’

আগস্ট ৪, ২০১৮ | ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ

।। মাকসুদা আজীজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর ।।

ঢাকা: সারাদেশ উত্তাল সড়ক দুর্ঘটনার বিচারের দাবিতে। নগরে হরহামেশাই বাস দুর্ঘটনা হয়। জীবনও নাশ হয়। কিন্তু এবারের চিত্র কিছু ভিন্নই। শহরজুড়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে। এ শহরে জীবনের নিরাপত্তা চায় তারা।

বিশ্বের সব দেশের মানুষের আয়ুষ্কাল নিয়ে তৈরি ডাটাবেজ ওয়ার্ল্ড লাইফ এক্সপেক্টেন্সি’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর যত মানুষ মারা যায় তার ২ দশমিক ৬২ শতাংশের জন্য দায়ী সড়ক দুর্ঘটনা। এদিকে, যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৮৬০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ২৬ জন। এর মধ্যে এ বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় দ্বিতীয় তিন মাসে দুর্ঘটনা বেড়েছে ১ হাজার ৪৩১টি, নিহতের সংখ্যাও বেড়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, এ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশ বছরে মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশ হারিয়েছে।

বাংলাদেশের দুর্ঘটনা, এর কারণ, সমাধান, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন— এসব নিয়ে সারাবাংলা কথা বলে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম তালুকদারের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সারাবাংলা’র অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর মাকসুদা আজীজ।

সারাবাংলা: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। গত বছরও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। এ নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

ড. তালুকদার: আপনি যেটা বললেন, সেটা যাত্রী কল্যাণ সমিতির ডাটা। আমরা আরও কিছু সোর্স থেকে ডাটা সংগ্রহ করে থাকি। সব ডাটা এখনও হাতে এসে পৌঁছেনি, হিসাব করাও বাকি আছে। তবে এটা অবশ্যই বোঝা যাচ্ছে, এ বছর শেষে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ গত বছরের চেয়ে বেশি হতে পারে।

সারাবাংলা: প্রতিবছর এতগুলো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তাও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হয় না কেন?

ড.তালুকদার: সত্যি বলতে এই সমস্যার সমাধান বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্কের মতো। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, আবার নেমে যায়, আবার উন্নতি হয়। এভাবেই চলছে।

সারাবাংলা: তাহলে সমস্যা কি নীতি নির্ধারণে?

ড. তালুকদার: যদি আইন থেকে শুরু করতে হয়, তাহলে বলা যায়, আমাদের আইনটি একটি সংক্ষিপ্ত আইন। এখানে পুরো সমস্যাটাকে আলোকপাত করাই হয়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের প্রতিবেশী ভারতের কথা। সেখানে আইনটি বেশ বড় ও গোছানো, প্রায় ছয়শ পাতার আইন। সেই আইনে অনেক বিষয় উল্লেখ আছে, ব্যাখ্যা আছে। এরকম কোনো বিষয় আমাদের আইনে নেই।

সারাবাংলা: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের সংস্কার তবে আবশ্যক মনে করছেন?

ড. তালুকদার: আইন সংস্কার করার বিষয়টি একটি ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ চিন্তা-ভাবনা হয়ে যায়। আইন করার আগে জানতে হবে, আমাদের মানুষ কতটা আইন মানছে। আশপাশের দেশে কেমন আইন আছে। হুট করে আমরা কাল যদি উন্নত দেশের আইন এনে এখানে বসিয়ে দিই, সেই আইনের অবস্থা হবে পরীক্ষার আগের রাতের বিশাল সিলেবাসের মতো। সিলেবাস বড়, কঠিন, ফেল অনিবার্য; কাজেই পড়া বাদ দাও

আমরা যদি আইন ঠিক করতে চাই, তাহলে প্রথম কাজ হচ্ছে প্রচলিত আইন বলবৎ করা, যেটা মোটেই আমাদের দেশে হচ্ছে না। আবার আলোটা যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দিক থেকে মানুষের দিকে নেই, তবে দেখবেন আইন মানার অভ্যাস-প্রবণতা আমাদের কারও মধ্যে নেই। এই আইনের শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মধ্যে থাকতে হবে। মানার মানসিকতা তৈরির পরিকল্পনা করতে হবে। তারপর গিয়ে আমরা বলতে পারি, আচ্ছা এবার আইন উন্নত করো।

আবার দেখা গেল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইন মানাতে বাধ্য করা শুরু করলো, ওদিকে পথচারীর জন্য ফুটপাথ খোলা নেই, হেলমেট ছাড়া চলার বাধা নেই। পরিবহন মালিকরা যাচ্ছেতাই নিয়মে গাড়ি চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন আইন দিয়ে আমরা করব কী?

সারাবাংলা: তাহলে পথে নেমে শিক্ষার্থীরা আইন শেখাচ্ছে এতে কোনো কাজ হবে?

ড. তালুকদার: শিক্ষার্থীরা অবশ্যই আমাদের একটা আলো দেখিয়েছে। এই শহরে কোনো উন্নতি হবে না; তা আমরা এক অর্থে মেনেই নিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এটা শুরু করে দিয়ে দেখানো চেষ্টা করলো। এখন, সারাজীবন তো আর তারা পথে নেমে থাকতে পারে না। তাদের ফিরতে হবে। কিন্তু সাধারণের মধ্যে এই অভ্যাস তৈরির দায়িত্বটা নিতে হবে সরকারকে অথবা সরকারের কোনো সংস্থাকে; সড়করা নিরাপদ রাখা আসলেই যাদের দায়িত্ব।

সারাবাংলা: সরকারের সংস্থাগুলো তো এতদিন ধরে দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। কোনো পরিবর্তন তো আমরা দেখিনি।

ড. তালুকদার: সরকারি সংস্থার নিজস্ব সীমাবদ্ধতা হচ্ছে— তারা কখনও ‘বটম-আপ’ সমাধান খোঁজে না। সব সমাধান আসে টপ-ডাউন। আপনাকে জানতে হবে, শেকড়ের মাটি সরে গেলে ওপরে পানি দিয়ে লাভ নেই। আপনি শুনলে অবাক হবেন, আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনা বন্ধে কোনো গবেষণা হয়নি। এক একটা সমাধান ভাবলেই সেটা প্রয়োগ করা যায় না। বৈজ্ঞানিক নিয়ম হচ্ছে— ল্যাবে তৈরি সমাধান ছোট ছোট পাইলট সার্ভে করতে হবে। সেগুলো সফল হলে তা বড় পরিসরে প্রয়োগ করতে হবে।

এও সব নয়। এক জায়গার সমাধান অন্য জায়গায় প্রয়োগ করা যায় না। প্রতিটা এলাকার সমস্যার ধরন আলাদা, সমাধান আলাদা। এগুলোর জন্য প্রতিটি সমস্যাকে আলাদা গুরুত্ব দিতে হবে।

আমাদের দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাও শক্তিশালী নয়। তা যদি হতো, প্রতিটি এলাকার সমাধান নিজ এলাকা থেকে বের হতো।

সারাবাংলা: কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ তো অদক্ষ শ্রমিক-চালক। বাসচালকরা শিক্ষিত নয়, প্রাপ্তবয়স্ক নয়, তাদের কোনো আইনি ছাড়পত্র নেই। তারপরেও তারা দিব্যি বাস চালাচ্ছে। এই বিষয়ে আপনার মত কী?

ড. তালুকদার: সারাবিশ্বের কোনো আইনে লেখা নেই চালককে অমুক ক্লাস পর্যন্ত শিক্ষিত হবে। কিন্তু এটা অবশ্যই লেখা আছে, চালককে দক্ষ হতে হবে। যেমন— সারা পৃথিবীতে ট্রাফিক সাইনগুলো ছবি দিয়ে প্রকাশিত হয়। একজন বড় মানুষ একটা ব্যাগ কাঁধে বাচ্চাকে ধরে রেখেছে; অর্থাৎ সামনে স্কুল। একটা মাইকের ছবি ওপর একটা দাগ কাটা; মানে হর্ন দেওয়া নিষেধ। রেলের লাইন আঁকা মানে সামনে রেল ক্রসিং। এটা মানার প্রবণতা ক’জনের আছে বা না মানলে কী বিধান?

ছোটরা গাড়ি চালাচ্ছে— এটা আপনি আমি যেমন দেখতে পাই, ট্রাফিকও পায়। দায়টা তাহলে শুধু পরিবহণ শ্রমিকদের না। আবার আইনে লেখা আছে, একটা বাসে তিন জন চালক থাকবে। বাস মালিকরা বাস কন্ট্রাক্টে দিয়ে দিন শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা গুনে নেন। শ্রমিকরা মুনাফা বাড়াতে এক হাতেই কাজ সারে। তাহলে দায় কীভাবে একা শ্রমিকের হয়?

আমাদের পরিবহণ খাতটায় দারুন বিশৃংখলা। কোন বাস কোথায় যাবে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। কোন রুটে কয়টা বাস লাগবে বা কত যাত্রী চলাচল করে তার কোনো সঠিক হিসাব করা হয় না, বাস নামিয়ে দেওয়া হয়। সরল চোখে দেখে যে কেউ বলতে পারবে না যে কোন বাস কোন রুটে চলে। অথবা কোনো বাস যদি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অন্য রুটে যায় এটাও সহজে বোঝার উপায় নেই।

আমরা অনেকদিন ধরে প্রস্তাব করছি রুট ভাগ করে বাসের রঙ নির্ধারণ করে দেওয়া। এক রুটের সব বাস এক রঙের। এই নিয়মটা প্রতিষ্ঠা করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক কাজ শুরু করেছিলেন। তার মৃত্যুর পরে এই উদ্যোগ আবার বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থবির ঢাকা

সারাবাংলা: জাতিসংঘ ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কে নিরাপদ সড়ক দশক ঘোষণা করেছিল। তারা চারটি স্তম্ভ বেঁধে দিয়েছিল অবকাঠামো উন্নয়ন; সব ধরনের যানবাহনের জন্য পথ নির্ধারণ করা ও সেগুলো নিয়মিত তত্ত্বাবধায়ন করা; নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা এবং নিরাপদ সড়কের জন্য আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা। ২০১০ সালে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমে আসবে। এটা ২০১৮ সাল। এই ঘোষণার আলোকে আপনি বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে পাচ্ছেন?

ড. তালুকদার: কাজ যে একদম হয়নি, তা বলা যায় না। যেমন রাস্তার প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। চার লেন পথও বানানো হয়েছে। কিন্তু উন্নতি হয়নি আচরণে। চার লেন হওয়াতে ওভারটেকিং বেড়েছে, যেটা সড়ক দুর্ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। আবার রং সাইডে আসার প্রবণতা বেড়েছে। সড়ক আইন নিয়ে আমরা এরই মধ্যে আলোচনা করে ফেলেছি। বাকি থাকলো প্রযুক্তির ব্যবহার। সেটা একদমই হয়নি।

মাঝে ঢাকার রাস্তায় একটি প্রযুক্তির ব্যবহার হতো। উল্টো পথে গাড়ি আনলে টায়ার ছিদ্র হয়ে যাবে। এই প্রযুক্তিটা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। কেননা, যেই পথগুলোতে এই প্রযুক্তি বসেছে সেখানে হরহামেশা ভিআইপি গাড়ি উল্টো পথে ঢুকছে। গণমাধ্যমেও এ ঘটনা উঠে এসেছে। আবার এখন প্রযুক্তি এত উন্নত যে গাড়িতে মেশিন বসিয়ে দেওয়া যায় কতটুকু গতি কোথায় উঠবে, আবার কোথায় কে গতির সীমা ভঙ্গ করেছে তা ধরা পড়বে। এই মেশিনগুলো আমাদের দেশে এখনও আনাই হয়নি।

সারাবাংলা: এই বিষয়গুলোর একটা সুরাহা হলে আমরা কি আশা করতে পারি সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে?

ড. তালুকদার: সমাধানগুলো শুনতে যত সহজ মনে হচ্ছে, তত সহজ নয়। শুরুতেই আপনি কিছু ডাটা নিয়ে এসেছেন, দেশে কতগুলো দুর্ঘটনা হয়। আমি বলছি, আপনি দুর্ঘটনার যে পরিমাণ দেখতে পাচ্ছেন প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। অনেক ঘটনাই নথিভুক্ত হয় না। পুলিশের কাছে দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করার একটা ফর্ম থাকে। সেটা পূরণ করার দক্ষতাও অনেক পুলিশ সদস্যের নেই। এই বিষয়টা যে গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে, তার জ্ঞানও অনেকের নেই।

তারপর দুর্নীতির কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আমরা আশা করতে পারি না, একটা আদর্শ পাত্রে সব সমাধান করে ফেলব। আমাদের পথচারীদের হর্ন দিলে তারা সরে না। সড়ক চলাচল কর্তৃপক্ষের কাজ শুধু তত্ত্বাবধায়ন করা। তারা লাইসেন্স দেওয়া থেকে শুরু করে হেন কোনো কাজ নেই, যেটার দায় বয়ে চলছে না। এ সমস্যাগুলো ছোট ছোট ভাগ করে সমাধান না করা হলে কীভাবে এক পাত্রে পুরোটা সমাধান হবে?

সারাবাংলা: তাহলে আসলে সমাধানটা কী?

ড. তালুকদার: ওই যে বললাম, সমস্যাগুলোকে ছোট ছোট ভাগ করতে হবে। একটা গবেষণার আওতায় আনতে হবে। যেমন— অ্যাকসিডেন্টের কথাই বলি। আমাদের আইনে এটা বলা নেই, দুর্ঘটনার পরে উদ্ধারের দায়িত্ব কার? ভারতের আইনে তা বলা আছে। উদ্ধারের পর নথি লিপির দায়িত্বও একজনকে দিয়ে দিতে হবে। আমরা যদি সমস্যাকেই আগে স্বীকার করি, তবেই না সমাধান আসবে। এরপর একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়ে সম্মেলিতভাবে চেষ্টা করলে সমাধান একটা আসবে বলে আশা করা যায়।

সারাবাংলা: সারাবাংলা’র পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. তালুকদার: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সারাবাংলা/এমএ

‘সড়ক দুর্ঘটনার সমাধান তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্কের মতো’
‘সড়ক দুর্ঘটনার সমাধান তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্কের মতো’
‘সড়ক দুর্ঘটনার সমাধান তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্কের মতো’