সোমবার ১৮ জুন, ২০১৮, ৪ আষাঢ়, ১৪২৫, ২ শাওয়াল, ১৪৩৯

হাঁটলেই সুস্থ!

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮ | ২:০১ অপরাহ্ণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

যন্ত্রযুগে আমরা খুব কম সময়ই নিজেদের দিতে পারি। খুব কম সময়ই আমরা ব্যায়াম করি বা অনেক সময় করিও না। এমনকি স্বাভাবিক হাঁটাচলাও কম হয় আমাদের। ফলে শরীরে সহজেই বাসা বাধে নানান রোগ।

এক্ষেত্রে ব্যয়ামের বিকল্প হিসেবে হাঁটা আমাদের সুস্থ রাখবে। নিয়মিত একটু সময় করে হাঁটলেই আপনি কর্মক্ষম থাকবেন অনেক বেশি আর মনটাও হবে ফুরফুরে।

নিয়মিত হাঁটা শরীরের কী উপকার করে?

নিয়মিত হাঁটা আপনার শরীরকে করবে চাঙ্গা। কারণ এটি কার্ডিওভ্যাসকুলার ব্যায়ামের কাজ করে, যা আপনার ফুসফুসকে শক্তিশালী করে। হাঁটার অভ্যাস সব কাজের জন্য পুরোপুরি ফিট করে তোলে। পাশাপাশি কমবে ওজন। আর আপনার পেশিকে আরো বেশি মজবুত ও শক্তিশালী করবে।

ইক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ক্রায়াগ উইলিয়ামস ফিট থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটার উপর বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, ‘এটি দেহের পেশীর সহ্যক্ষমতা বাড়ায় বিশেষ করে শরীরের নিচের অংশের। জগিং বা দৌড়ানোর মতোই এটি সমান ক্যালরি ক্ষয় করে। তবে হাঁটার মধ্যে তেমন আহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই যেমনটা আছে জগিং এ।’

লন্ডনের অস্টিওপ্যাথির চিকিৎসক মার্কাস ডেভিস বলেন, ‘হাঁটা শরীরের মধ্যে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং ছোট ছোট পেশীর কর্মক্ষমতা ধরে রেখে শিরা বর্ধনে বাঁধা দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাঁটার মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ ঠিক থাকে যা শরীরের টিস্যু বা কলা থেকে ক্ষতিকর কিছু অপসারণ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া অনেক মানুষ দৌড়ানো থেকে হাঁটতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এটি শরীরের টিস্যু পরিস্কার রাখে। বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ বছর বা তারো বেশি, তাদের জন্য হাঁটা অনেক সহজ।’

আমরা অনেক সময় কাজ করতেই থাকি, সারাক্ষণ দৌড়াতে থাকি, সামান্য বসারও সুযোগ ঘটে না। এটি অবশ্যই আমাদের শরীরের উপর বিশেষ করে স্পাইনাল কর্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

লন্ডনের থার্ড স্পেস মেডিকেল সেন্টারের  শল্যবিদ ডেভিড গয়সেট বলেন, ‘নিয়মিত হাঁটার ফলে সবচেয়ে উপকার হয় আমাদের পায়ের। যা আমরা অনেক সময়ই ভালো ভাবে  নিইনা। আমাদের পা তো হাঁটার জন্যই এবং এটিই করা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিয়মিত হাঁটা পায়ের ব্যাথা দূর করার পাশাপাশি এটি পেশী এবং লিগামেন্টের উপকার করে।’

কতক্ষণ হাঁটা উচিত?

১.    প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হলেও হাঁটুন।

২.    সপ্তাহে ৫ দিন তবে সম্ভব হলে প্রতিদিন হাঁটুন।

৩.    লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামার চেষ্টা করুন।

৪.    লাঞ্চ ব্রেকেও হাঁটতে পারেন।

নিয়মিত হাঁটা নির্ভর করে আপনার উপর। তাই নিয়ম করে হাঁটুন, সুস্থ থাকুন।

 

সারাবাংলা/এসএস

 

হাঁটলেই সুস্থ!
হাঁটলেই সুস্থ!