মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

হুমায়ূন আহমেদ : যে জাদু ছড়িয়ে আছে সবখানে

জুলাই ১৯, ২০১৮ | ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

।। এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

হুমায়ূন আহমেদ। অসম্ভব রকমের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার। কিন্তু সবাই বলেন তিনি কথার জাদুকর। তার লেখায় তিনি এমন যাদু ছড়িয়েছেন যে, এখনও সেই যাদুমন্ত্রে বিহ্বল পাঠক। উপন্যাস, গান, সিনেমা- যেখানেই হাত দিয়েছেন, কথা-ছন্দ-দৃশ্যের জাদুতে একখানে হয়ে গেছেন দেশের পাঠক ও শ্রোতা-দর্শক।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই মারা যান জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিক। তার মরদেহ দেশে আনা হলে, বিষন্ন হয়ে গিয়েছিল প্রকৃতিও। পুরোটা দিন বৃষ্টি হয়েছিল। তবে কোন বাধাই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিরত রাখতে পারেনি ভক্ত ও সাধারণ মানুষদের। সব শ্রেণীর, সব বয়সের মানুষেরা সেদিন দাড়িয়েছিল শ্রদ্ধা জানানোর কাতারে।

এত প্রিয় সাহিত্যিককে কাছ থেকে দেখা হয়নি অনেকেরই। কেমন তিনি? কেমন করে কথা বলতেন? কেমন করে পাঠকদের অদৃশ্য রশিতে বেঁধে ফেলে তার লেখা, তার গান, তার সিনেমা? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে এখনো কোটি মন উদগ্রিব। হুমায়ূন আহমেদের সহচার্য যারা পেয়েছেন, তাদের কথা শুনতে ও পড়তে চায় তার ভক্তরা।

হুমায়ূন আহমেদের নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় অনেক অভিনয়শিল্পী। তাদের মধ্যে চিত্রনায়ক রিয়াজ অন্যতম। যার চলচ্চিত্র জীবনের তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মধ্যে দুটিতে জড়িয়ে আছেন হুয়ায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘দুই দুয়ারি’ সিনেমার জন্য রিয়াজ সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রথমবার পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। একই বিভাগে দ্বিতীয়বার তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ‘দ্বারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমার জন্য। এই সিনেমা চিত্রনাট্য করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ।

‘হুমায়ূন স্যার আমার চলচ্চিত্র জীবনকে চোখের পলকেই কেমন সম্মৃদ্ধ করে দিলেন। তার ছবিতে অভিনয় করেই আমি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম। কিন্তু সেসময় অনেকেই আমাকে ছবিটি করতে মানা করেছিল। সেই ছবিতে আমি একজন রহস্যমানব। কিন্তু আমার কাছে হুমায়ূন স্যারই একজন রহস্যমানব। একেক সময় একেক রকম মনে হতো তাকে। একবছর আগেই তার উপন্যাস ‘‘কৃষ্ণপক্ষ’’ অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে অভিনয় করেছি। কিন্তু সব জায়গার কেমন যেন হুমায়ূন স্যারের ছায়া খুঁজে বেরিয়েছি। তার সেই নির্দেশনা, কথা বলা-এইসব।’ ব্যস্ত সময়ের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বললেন চিত্রনায়ক রিয়াজ।

বৃহস্পতিবার হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এইদিনে হুমায়ূনের প্রিয় নুহাশ পল্লীতে যাবার ইচ্ছে আছে রিয়াজের। নিশ্চিত করে না বললেও জানালেন সেখানে যাওয়ার খুব ইচ্ছা আছে ‘কৃষ্ণপক্ষ’র হিমুর।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত সিনেমার সংখ্যা ৮টি। এই আটটিসহ মোট ১৫টি সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন তিনি।

টিভি নাটকে দেশের যা ঐতিহ্য, সেখানেও উজ্জ্বল হয়ে আছেন হুমায়ূন আহমেদ। নাম ধরে বলতে গেলে এইসব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, অয়োময়, আজ রবিবার নাটকগুলো মনে পরে যায় সবার আগে। আর এই নাটকগুলোই গৌরবের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে দেশের টিভি নাটক ইতিহাসে।

নাটকেও তিনি ছিলেন জাদুকরের মতো। তুমুল মনখারপকে এক নিমিসে ভালো করে দেয়ার ক্ষমতা রাখতো হুমায়ূনের নাটকের সংলাপ, দৃশ্য এবং তার পরিচালনার মুন্সিয়ানা।

নাটকের সেটে হুমায়ূন আহমেদ কেমন ছিলেন? ‘তিনি পরশ পাথরের মতো। নিজে একজন জাদুকর। আমি যখন তার সান্নিধ্য পেয়েছি, তখন আমার জীবনেও জাদুকরি ঘটনাই ঘটেছে। অন্তত আমার জীবনে তো তাই ঘটেছে।’ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বললেন অভিনেতা ডাক্তার এজাজুল ইসলাম।

‘আমি তখন ডাক্তারি পেশার সঙ্গে যুক্ত, সেখানেই কাজ করি। আমার শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে। হুমায়ূন স্যার বলেছিলেন তুমি তো গাজীপুরে থাকো, আমাকে নাটকের কাজে সাহায্য করতে এসো। আমি তো আনন্দে আত্মহারা। রংপুরে আমার বাড়ি। সেখানে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। হুমায়ূন স্যারের সঙ্গে নাটকের সেটে কথা বলতে বলতে প্রকাশ করলাম আমার অভিনয় করার ইচ্ছার কথা। তিনি সব শুনে খাবার টেবিলে ঘোষণা দিলেন এজাজ আমাদের সঙ্গে কাজ করবে। আমার আর তখন বলার কিছু ছিল না। এভাবে তার সংস্পর্শে এসে জীবনের সুপ্ত ইচ্ছাটাও পূরণ হলো।’ অদেখা ভুবন নাটকে কীভাবে যুক্ত হলেন, সেই ঘটনা বললেন ডাক্তার এজাজুল ইসলাম।

এমন হাজার হাজার ঘটনায় বেঁচে আছেন হুমায়ূন তার চারপাশের মানুষের মধ্যে। আর সাহিত্য, নাটক, সিনেমার মাধ্যমে তিনি কোটি মানুষের মনে জড়িয়ে আছেন।

ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রিয় নুহাশ পল্লীতে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন সবাই। কারণ তার প্রিয় সেই জায়গাতেই চির নিদ্রায় শুয়ে আছেন কথার যাদুকর। হুমায়ূনের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন জানান, বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই নুহাশ পল্লীর আশেপাশে যেসব এতিমখানা আছে, সেখান থেকে ছোট ছোট বাচ্চারা কোরআন খতম দেবে। দুপুরে এতিম বাচ্চাদের খাওয়ানো হবে। আর মেহের আফরোজ শাওনসহ তার পরিবারের সদস্যরা হুমায়ূনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন বাদ জোহর। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা জানাতে নুহাশ পল্লী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সারাবাংলা/পিএ/পিএম

Tags: ,

হুমায়ূন আহমেদ : যে জাদু ছড়িয়ে আছে সবখানে
হুমায়ূন আহমেদ : যে জাদু ছড়িয়ে আছে সবখানে
হুমায়ূন আহমেদ : যে জাদু ছড়িয়ে আছে সবখানে