বুধবার ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

হেলায় বাড়লো অপেক্ষা, ঘরের মাঠেই দর্শক বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | ১১:২৬ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: সবশেষ ২০০৯ সালে সাফ ফুটবলের সেমি ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। তারপর থেকেই গ্রুপ পর্বে বিদায় লেখা হয়ে যায় লাল-সবুজদের। এবার এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত সাফল্য আর চলমান সাফ ১২ তম আসরে আগত দলগুলোর অবস্থা দেখে এটাই বলা যায়, হেলায় সুযোগ হারালো বাংলাদেশ। তাইতো অপেক্ষার পর্বটা দীর্ঘায়িত হলো আরও দুটি বছর।

তবে, এবারের আসরে ২০০৫ সালের পর সেমি ফাইনাল ডেঙ্গিয়ে এবার ফাইনালে খেলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। চোখে বিস্মিয় জন্ম দিতে পারে ঠিক। তবে, এবারে আগত দলগুলোর বেশিরভাগই খুব একটা প্রস্তুতি নিয়ে আসেনি। ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়েছে। মালদ্বীপে অপেক্ষাকৃত সেমি প্রফেশনাল স্কোয়াড। তারাই এখন ফাইনালে। কিন্তু এ জায়গায় থাকতে পারতো বাংলাদেশের নামও।

প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশের দরকার ছিল একটি ড্র নেপালের সঙ্গে। কোচ জেমি ডের বিচক্ষণতাই পাল্টে দিতে পারতো লাল-সবুজদের ভবিষ্যত। তাই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া দেশের মানুষরাই এখন সাফ ফাইনালে ঘরের মাঠেই দর্শক।

শুরু হোক ভারতকে দিয়ে। এবার সাফে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বেশ কয়েকজন এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের চার ফুটবলারকে নিয়ে ঢাকায় আগমন ভারতীয় দলের নিয়ে এসেছে। তাদের তিন গোল দিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে থাকা মানভীর সিং দুই বছর আগেও ছিলেন ক্লাব শূন্য। খেলতেন রাজ্য লিগে। এই তথ্য দেন দলের কোচ স্টিফেন কনস্টান্টিন। মালদ্বীপ এসেছে তাদের তারকা ফুটবলার আলী আশফাককে ছাড়া।

ভুটান ছিল তারুণ্য নির্ভর দল। তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আসা পাকিস্তানের। লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় শূন্য ছিল শ্রীলঙ্কা। যাদের ১০ বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয়ের দেখা বাংলাদেশের বিপক্ষে নীলফামারীর মাঠে। এই শ্রীলঙ্কা এবারের সাফে দুই ম্যাচের একটিতেও গোল করতে পারেনি। মালদ্বীপতো জয় এবং গোলশূন্য থেকে সেমি ফাইনালে উঠেছিল। অবশ্য পরে সেমিতে নেপালের বিপক্ষে জ্বলে উঠে ৩-০তে জয় নিয়ে এখন শিরোপা লড়াইয়ে। অথচ সেমিতে আসতে তাদের আশ্রয় নিতে হয় টস ভাগ্যের।

সুতরাং বাংলাদেশ যদি সেমিতে যেতে পারত তাহলে তাদের সুযোগ থাকত ফাইনালে যাওয়ার। জাতীয় দলের সাবেক কোচ সাইফুল বারী টিটুর মতে, ‘বাংলাদেশ দল সেমিতে গেলে পেত। মালদ্বীপকে তাহলে তা ভালোই হতো। তাদের সেমিফাইনলে যাওয়ার সুযোগ ছিল।’ তবে তার মতে, ‘সব দলই এবার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকায় এসেছে। প্রতি ম্যাচেই তাদের উন্নতির চিত্র দেখা গেছে।’ সাফ সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক হেলালও মনে করেন, এবার লাল-সবুজদের দারুণ সুযোগ ছিল ভালো করার।

কিন্তু সাফ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দেখা গেল পিছিয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ দলের পক্ষে আর গোল পরিশোধ করার ক্ষমতা রাখে না। খেই হারিয়ে ফেলে। পরিকল্পিত আক্রমণের চেয়ে লং পাসে খেলেই দায়িত্ব শেষ ফুটবলাদের। কোচ জেমি ডে ও নির্দেশ দিতে থাকেন লং পাসে খেলতে। ব্যর্থ ছিল তার এই কৌশল। যে কারেণ দুই ম্যাচ জিতেও তাদের ছিটতে পড়তে হলো গ্রুপ পর্ব থেকেই।

অন্য দলগুলো ডে বাই ডে উন্নতি করলেও বাংলাদেশ তা করতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারনোর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে লম্বা থ্রোর কল্যাণে জয়। এরপর নেপালের বিপক্ষে শুরুটা ভালো করলেও গোলরক্ষক সোহেলের ভুলে গোল হজমের পর ছন্দপতন। পরিষ্কার কোনো চান্সই তারা সৃষ্টি করতে পারেনি । অথচ পাকিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর কী চমৎকার গোছানো ফুটবল এবং দৃষ্টিনন্দন আক্রমণ করে সমতা আনে নেপাল। যদিও তাদের সেই ম্যাচে হারতে হয় কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ইনজুরি টাইমের গোলে।

তাহলে এখন প্রশ্ন তাহলে এই ফুটবলাদের এত লম্বা সময় অনুশীলন করে কি লাভ হলো। এত অনুশীলন ম্যাচ খেলেও বা কী উপকার পাওয়া গেল। যারা পিছিয়ে পড়ার পর বাকি ৫০-৬০ মিনিটেও সমতা আনার যুৎসই চেষ্টা করতে পারে না তাহলে খুঁজতেই হবে এর গলদ কোথায়।

এশিয়াডে তাদের ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটা মূলত কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল খেলে। সাফে সবাই সমশক্তির দল। এখানে সমান তালে খেলতে হয়েছে। তাতেই ব্যর্থ বাংলাদেশ দল। তারা দুই ম্যাচে জয় পেলেও খেলায় দর্শকদের মন ভরাতে পারেনি। যার সমাপ্তি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়ে।

সারাবাংলা/জেএইচ

হেলায় বাড়লো অপেক্ষা, ঘরের মাঠেই দর্শক বাংলাদেশ
হেলায় বাড়লো অপেক্ষা, ঘরের মাঠেই দর্শক বাংলাদেশ
হেলায় বাড়লো অপেক্ষা, ঘরের মাঠেই দর্শক বাংলাদেশ