বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ , ১২ বৈশাখ, ১৪২৫, ৮ শাবান, ১৪৩৯

২০১৭: অ্যাপে এগিয়েছে বাংলাদেশ

জানুয়ারি ৩, ২০১৮ | ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশের সদস্য সংখ্যা ৯। পরিষদের ওয়েবসাইটে এরই মধ্যে ৬ জনের মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ আছে। চেয়াম্যানের ফোন নম্বরটিও এখানে সবার জন্যে উন্মুক্ত। স্বাধীনতার পর থেকে এই ইউনিয়নটিতে যারা চেয়ারম্যান ও সদস্য ছিলেন, উল্লেখ রয়েছে তাদের নামসহ মেয়াদকালও। আর ইউনিয়নটির নামকরণের সঙ্গে মোঘল আমলের যে ইতিহাস জড়িয়ে আছে, সাইটটিতে বর্ণনা রয়েছে তারও।

বানিহালা এই প্রতিবেদনে দেশের আরও অগুনতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি মাত্র। আরও অনেক ইউপি’র রয়েছে একই রকম ওয়েবসাইট। তাতে ইউনিয়ন সংক্রান্ত নানা তথ্য মিলছে।

পরিসংখ্যানগত তথ্য ছাড়াও চলমান প্রকল্পের তথ্য রয়েছে। ফলে সরকারের বড় কর্তার নম্বরটিও এখন সেবাগ্রহীতাদের হাতে। নাগালেই রয়েছে মন্ত্রী-এমপির নম্বরও। আর এভাবেই ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চেয়ারম্যান থেকে শুরু হয়ে মন্ত্রী পর্যন্ত এখন সবার হাতের নাগালে।

সম্প্রতি খবর হয়েছে ডিসেম্বর মাসের বেতন পরিশোধে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। অ্যাপভিত্তিক একটি সল্যুশনে এই বেতন-বিল পরিশোধের আগে তার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ছে অনলাইনে। যাতে ছিলো না কোনও কাগজের ব্যবহার। বিল তৈরি পাস ও পরিশোধ তিনটিই সম্পন্ন হয়েছে অনলাইনে।

এভাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সচিবালয় পর্যন্ত আমরা অ্যাপের ব্যবহারেই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে দেখি।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাত্রাও হয়ে উঠছে অ্যাপ নির্ভর। গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন আর কেউ সিএনজি ডাকেন না। বরং স্মার্টফোনে আঙ্গুল চেপে ক্লিক করে ‘অর্ডার এ রাইড’। আর অর্ডার করলেই ঘরে চলে আসছে গাড়ি। একা চড়তে নির্দিষ্ট স্থানে এসে হাজির হচ্ছে মোটরবাইক। নেই কোনো দরকষাকষির ঝামেলা। এমনকি যানজট এড়ানোও যাচ্ছে কিছুটা। চালক ও যাত্রী লাইভ ট্র্যাকিংয়ের আওতায় থাকায় উভয়ই থাকছেন নিরাপদ। ফলে নানা কারণেই জনপ্রিয় হয়েছে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা।

সময়ের ঘূর্ণিতে অ্যাপই এখন বলে দিচ্ছে নিজের অবস্থান। অচেনা কোন স্থানে যেতে পথের দিকনির্দেশক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে গুগল ম্যাপ। আবার যানজটের তীব্রতা বুঝে এই অ্যাপই বলে দিচ্ছে সেই রাস্তা এড়িয়ে চলার কথা। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাও নেয়া যাচ্ছে অ্যাপ ব্যবহার করে।

‘আরএক্স৭১ হেলথ’ নামক অ্যাপটি ব্যবহার করে ধারণা পাওয়া যাবে সম্ভাব্য রোগের। কোন ঔষধ সম্পর্কে জানতে রোগী থেকে শুরু করে ডাক্তার পর্যন্ত ব্যবহার করছেন ‘ডিআইএমএস’ অ্যাপটি।

মোবাইল সেটের পেছনেই রয়েছে বাটন। চেপে ধরুন। জেনে নিন পাল্স রেট। পকেটে রেখে হাঁটুন আপনার ফোন সেটই হিসেব রাখবে ক’কদম হাঁটলেন। দিনের পরিসংখ্যান বুঝে হাঁটা বাড়ান কিংবা কমান।

কেবলই কী দৈনন্দিন প্রয়োজন। বিনোদনেও এখন অ্যাপ অনেকের নিত্যসঙ্গী। অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন, পছন্দের সিনেমা, নাটক দেখুন, গান শুনুন নিজের সুযোগ মতো সঠিক অবসরে।

র‌্যাবিটহোল, বায়োস্কোপ এমন সব নামের অ্যাপ এখন বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় যা ডাউনলোড করেছেন লাখ লাখ মানুষ। র‌্যাবিটহোলের রয়েছে আলাদা স্পোর্টস চ্যানেলও। যা থেকে আপনি দেখতে পাবেন লাইভ ক্রিকেট।

এভাবেই প্রতিনিয়ত অ্যাপ হয়ে উঠছে জনজীবনের সঙ্গী।

পছন্দের খাবার খেতে এখন আর যেতে হয় না রেস্টুরেন্টে। নানা স্বাদের বাহারী মেনু অর্ডার করা যাচ্ছে অনলাইনেই। নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই কেনা যাচ্ছে ঘরে বসে। বাস, ট্রেন ও বিমানের টিকেটও মিলছে। ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থানও জানা যাচ্ছে অনলাইনে। ‘টিআর স্পেস ট্রেন নং’ লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে মেসেজ পাঠানো হলে জানা যাবে নির্দিষ্ট ট্রেনটি পরবর্তী কোন স্টেশনে থামবে। এতে ঘরে বসেই ট্রেনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। কত দূর নামের অ্যাপ থেকে জানা যাচ্ছে বিআরটিসি’র বাস কত দূরে।

আকাশে উড়ছে উড়োজাহাজ। প্রিয়জন যাচ্ছে সে প্লেনে। নম্বরটা জেনে নিন। মোবাইল সেটে ডাউনলোড করা অ্যাপ থেকে চোখ রাখুন আপনিই জানবেন, কত ল্যাটিটিউড দিয়ে উড়ছে সে প্লেন। আর ল্যান্ড করার সাথে সাথে জেনে যাবেন নিরাপদে পৌঁছার বার্তা। তা সে প্লেন পৃথিবীর এ পীঠে কিংবা ও পীঠে যেখানেই নামুক।

স্মার্ট ফোনের যুগে কমেছে ভয়েস কলের সংখ্যা। ভিডিও কলেই কথা চলছে বেশি। প্রবাসী সন্তানের সঙ্গে মা কথা বলছেন ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার বা ইমো ব্যবহার করে। মেডিক্যাল পড়ুয়া ডাক্তার ছেলের সঙ্গে গ্রামে বসে বাবা কথা বলছেন একই উপায়ে। দলবেঁধে বন্ধুরা যুক্ত হচ্ছে গ্রুপ ভিডিও চ্যাটে। ফেসবুকে লাইভে এসে যুক্ত করা যাচ্ছে অন্য বন্ধুকেও। দেশ ও রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। মানবতার স্বার্থেও ব্যবহৃত হচ্ছে অনলাইন। রক্ত সংগ্রহ থেকে শুরু করে দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়েও ঝাপিয়ে পড়ছে বন্ধুরা।

দেশের সর্বোচ্চ আসনে বসেও কাজ চলছে অনলাইনে। প্রায়শই ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্ত হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে। ঢাকায় বসে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের সঙ্গেও কথা বলছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি উদ্বোধন করছেন নানা উন্নয়ন প্রকল্পও। বিদেশে বসেও তিনি দেশের কাজ সারছেন। এমনকি কাজের গতি বাড়াতে অনলাইনেই সাইন করছেন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলেও।

একইভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বহু প্রতিষ্ঠানই এখন নিজেদের যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। আঞ্চলিক অফিসগুলোর সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছে প্রধান কার্যালয়। অনলাইনেই দিচ্ছে দিক নির্দেশনা। টেন্ডারও হচ্ছে অনলাইনেই। ই- টেন্ডারিং ও ই-ফাইলিং কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে কাজ চলছে পুরোদমে।

বাংলাদেশ পুলিশ ফোনবুক নামের অ্যাপ থেকে দেশের সকল পুলিশ স্টেশনকে আপনি পেয়ে যাবেন সামান্য প্রচেষ্টায়। সম্প্রতি চালু হয়েছে ৯৯৯ কলের অ্যাপ। যার মাধ্যমে যে কোনও মূহূর্তে মিলছে পুলিশের সেবা।

ঘরে বসেই আয় করছে তরুণ-তরুণী। ফ্রিল্যান্সিং কাজে যুক্ত হয়ে ইলেক্ট্রনিক ওয়ালেটে ঢুকিয়ে নিচ্ছে টাকা। এর সবচেয়ে উন্নত ধাপ অ্যাফিলিয়েটেড মার্কেটিংও এখন তরুণ প্রজন্মের রপ্ত। ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করেই তাদের আয় হচ্ছে হাজার ডলারের বেশি। রফতানি হচ্ছে সফটওয়্যারও। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম তবে বাড়ছে।

সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বসেই কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দক্ষরা গড়ে তুলছে স্টার্ট আপ কোম্পানি। উপস্থাপন করছে নিজেদের আইডিয়া। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় চেষ্টা চলছে তা বাস্তবায়নের।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে কৃষিতেও। প্রচলিত কৃষি পরিণত হচ্ছে ই-কৃষিতে। মাঠের ফসল কোন রোগে আক্রান্ত হলে ‘কৃষকের জানালা’ নামক অ্যাপ ব্যবহার করে করণীয় সম্পর্কে জানতে পারেন কৃষক। কোন জমিতে কোন ধরণের বীজ বপন করতে হবে ‘কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা’ নামক অ্যাপ ব্যবহার করে জানা যায় তা। ‘ই-বালাইনাশক প্রেসক্রিপশন’ নামক অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানতে পারেন বালাইনাশক ব্যবহারের সব তথ্য। আর ই-ভিলেজ নামক একটি প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকরা ঘরে বসেই জানতে পারছেন তার মাঠ ফসলের সব তথ্য। করণীয় সম্পর্কেও নির্দেশনা আসে ওই অ্যাপটিতে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থাও পাল্টেছে আমূল। চালু রয়েছে অন লাইন ব্যাংকিং সিস্টেম। প্রযুক্তির কল্যাণে বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন। আর ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে ওয়ের্স্টান ইউনিয়নের মতো সেবা ব্যবহার করে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে আরও সহজ।

পূঁজিবাজারেও পড়েছে প্রভাব। প্রাইমারি শেয়ারের টাকা জমা দিতে এখন আর ব্যাংকের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকার বিড়ম্বনা নেই। অনলাইন সেবার ফলে বিও অ্যাকাউন্টের বিপরীতেই হচ্ছে তা। লেনদেনও হয়েছে সহজ। চালু রয়েছে ডিএসই মোবাইল অ্যাপসও।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভিরও এখন রয়েছে নিজস্ব ফেসবুক পেইজ। এই চ্যানেলটি সম্প্রতি প্রবেশ করেছে ইউটিউব যুগে। বর্তমানে ‘বিটিভি ইউটিউব’ নামে তাদের নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে। এতে লাইভ স্ট্রিমিং ছাড়াও আপলোড করা হয়েছে গানের ভিডিও। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও তাদের ওয়েবসাইট অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে গিয়ে কোন কোন টেলিভিশন সরাসরি নিজেদের খবরও প্রচার করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী দর্শকদেরও এতে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। স্ক্রল দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চ্যানেলগুলো তা তাদের ফেসবুকেও প্রচার করছে। সেই সঙ্গে চ্যানেলগুলো শুরু করেছে অনলাইন মিডিয়ার কাজও। কোন কোন চ্যানেলে রয়েছে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভার্সনেই খবর পড়ার সুযোগ। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ছোট হয়ে আসছে দেশের প্রিন্ট মিডিয়াও। সার্কুলেশন কমছে পত্রিকার। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রিন্ট মিডিয়াগুলোও হয়ে উঠছে অনলাইন নির্ভর। অধিকাংশ প্রিন্ট মিডিয়াতেই এখন আলাদা করে অনলাইন বিভাগ রয়েছে।

বদলে যেতে শুরু করেছে প্রচলিত অনলাইন মিডিয়ার ধারণাও। ভিজ্যুয়াল হয়ে উঠার চেষ্টা করছে প্রতিটি অনলাইনই। বহু আগে থেকেও ভিডিও যুক্ত হলেও বর্তমানে সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অডিও ভয়েস। প্রতি ঘন্টার খবর ছাড়াও যুক্ত হচ্ছে বিশেষ বুলেটিন। এতে অনেকটাই টেলিভিশন হয়ে উঠার চেষ্টা করছে অনলাইন মিডিয়া।

আবার ইংরেজি দৈনিকও কখনও সখনও হয়ে উঠার চেষ্টা করছে বাংলা পত্রিকা। নিজেদের খবরগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলায়।

বর্তমানে ডিজিটাল গণমাধ্যমগুলো গুগল অ্যাড সেন্স ছাড়াও ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছে। দেশের প্রথম সারির একটি পত্রিকা তাদের আয়ের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম থেকে উপার্জন করছে, এমনটাই শোনা যায়। এছাড়া প্রযুক্তি বান্ধব অধিকাংশ গণমাধ্যমই টুইটার, গুগল প্লাস, ইনস্ট্রাগ্রাম, সাউন্ডক্লাউডে নিজেদের অস্তিত্ব গড়ার চেষ্টা করছে। রয়েছে এলেক্সা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার তীব্র প্রতিযোগিতাও।

আর বছরটিতে আইসিটি খাতে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’। বিশ্বের প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া যন্ত্রমানবী সোফিয়ার আগমনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে অন্যরকমের উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। লেটস টক উইথ সোফিয়া পোগ্রামে অংশ নিয়ে এই রোবটকে এক নজর দেখতে মানুষ অপেক্ষা করেছিল দীর্ঘ লাইনেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন বিশ্বের প্রথম এই রোবট দেখে কোন কোন শিশু জানিয়েছিল নিজেও রোবট তৈরির ইচ্ছের কথা।

আইসিটি বিভাগের তথ্যমতে ২০১৭ সালের উল্লেখযোগ্য অর্জন:

১) বছরটিতে ঢাকার বাইরে দেশের প্রথম সরকারি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়। যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পার্কটিতে এরইমধ্যে ৪১টি কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
২) হার্ডওয়্যার সংযোজন বা উৎপাদনে ব্যবহৃত ৯৪ ধরণের কাঁচামালের ওপর ইমপোর্ট ডিউটি কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। যা আগে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।
৩) চলতি বছর থেকেই আইটি/আইসিটি খাতের পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।
৪) বছরটির উল্লেখযোগ্য অর্জন গুগল মার্চেন্ট একাউন্ট চালু। এর ফলে অ্যাপ ও গেইম ডেভেলপাররা উপকৃত হচ্ছে দারুণভাবে
৫) ৯০০টি নতুন শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল ল্যাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯০১টি।
৬) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস-৯৯৯। পরীক্ষামূলকভাবে সেবাটি চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬ লাখ কল রিসিভ করা হয়েছে।
৭) লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীরা এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে বলে জানিয়েছে আইসিটি বিভাগ।
৮) বছরটিতে দেশে প্রথমবারের আইসিটি দিবস (আইসিটি ডে) উপযাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর মন্ত্রীসভা দিবসটি পালনের অনুমোদন দেয়।
৯) ইনফো সরকার-৩ এর কর্মকান্ড শুরু হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে ২৬০০ ইউনিয়নকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের আওতায় আনা হবে। দেশের আইসিটি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে এছাড়াও চলমান রয়েছে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প।

সারবাংলা/ইএইচটি/এমএম

আরও পড়ুন