বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট, ২০১৮, ১ ভাদ্র, ১৪২৫, ৪ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

21st February

২ হাজার পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫৩

মে ২৭, ২০১৮ | ৮:০১ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিএমপির হাজার পুলিশের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ নারীসহ ৫৩ জনকে আটক ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে জানানো হয়নি কী পরিমাণে মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (২৭ মে) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে তেজগাঁও ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ ও ডগ স্কোয়াডসহ ডিবি পুলিশের একাধিক টিম অংশ নেয়।

অভিযান শেষে কারওয়ান বাজার জনতা টাওয়ারের নীচে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন এ তথ্য জানান।

আব্দুল বাতেন জানান, ‘কারওয়ান বাজার রেললাইনের দুপাশে গড়ে ওঠা বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে প্রায় দুই হাজার পুলিশ অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রকার মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।’ তবে কি পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে তা পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানে হাজেরা মমতাজ নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় মমতাজ তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, স্যার আপনি না গত পরশু (২৫ মে) রাতে এসে বলে গেলেন, আমাকে চলে যেতে। আমি কাপড় চোপড় রেডি করে রাখছিলাম। এখনই চলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তার আগেই আপনারা এসে আমাকে ধরে ফেললেন। তার কথার উত্তরে ওসি মাজহার বলেন, হ্যা তোমাকে তো চলে যেতে বলেছিলাম। এখনও আছো কেন? এখন তোমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হবে।’

এ সময় ওসি বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে জানান, এই মহিলা কারওয়ান বাজার এলাকার সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ী।

হাজেরাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে হাজেরা বলেন, ‘স্যার শুধু আমি না, এখানে প্রত্যেক ঘরে মাদকের ব্যবসা হয়। তাদের নাম বললে তারা আমার ছেলেদের ট্রেনের নিচে ফালায় মারবো। আপনারা তাদের ধরেন। দিনে তো ওরা কেউ নাই। এখন তো ওদের পাবেন না।’

নাজমা আক্তার নামে এক নারী বলেন, ‘আমার ছেলে সাব্বির দোকানে কাজ করে। দুপুরের পর ঘরে শুয়ে ছিল। তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার ছেলে সিগারেটও খায় না। যারা মাদক বেঁচে তাদের কাউকে পায় না অথচ আমার নির্দোষ ছেলেটাকে নিয়ে গেল।’

অভিযোগ উঠেছে মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে, মাদক ব্যবসায়ীদের অভিযানের ব্যাপারে পুলিশ আগেই সতর্ক করছেন; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কি বোকা যে, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আগে থেকে জানিয়ে অভিযানে যাবো। আর যারা বলছেন, পুলিশ আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন, এটা অসৎ উদ্দেশ্যে বলছে।’

তবে কারওয়ান বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এবারের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পুলিশ আগেই এসে মহড়া দিচ্ছিল। মহড়া দেখে কোনো মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করবে এমনটা মনে করা ভুল। তা ছাড়া এর আগে এই জায়গায় যতবার অভিযান হয়েছে ততবারই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তারা।

ইউসুফ বেকারীর মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, অভিযানের তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে পুলিশ এসে মহড়া দিচ্ছিলেন। তা দেখে হয়তো প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেছে। এখানে দিনের বেলায় গাঁজার বস্তা নিয়ে যেভাবে মাদক বিক্রি হতো সেই অনুযায়ী তো কিছুই উদ্ধার হলো না। পুলিশ ইচ্ছা করলে আরও সতর্ক হতে পারতো।

সারাবাংলা/ইউজে/এমআই

২ হাজার পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫৩
২ হাজার পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫৩