মঙ্গলবার ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

৩শ থেকে ৪শ কোটি টাকা বাঁচাবে বিএসএমএমইউ স্পেশালাইজড হাসপাতাল

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ | ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

।। জাকিয়া আহমেদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: প্রতি বছর দেশের বাইরে চলে যাওয়া ৩শ’ থেকে ৪শ’ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। বিএসএমএমই’র অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটির মাধ্যমে দেশেই সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসবার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এই হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মানুষ এখানে সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা পাবেন। হাসপাতালে কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধা থাকবে। উন্নতমানের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে ৮০ জন চিকিৎসক, ৩০ জন সেবিকা ও ১০ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। কোরিয়াতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এখানে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দিগন্ত প্রসারিত হবে। এছাড়া হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে বাংলাদেশে প্রথম সেন্টার বেইজড সুপার স্পেশালাইজড ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের পেছনে নিজস্ব ৩ দশমিক ৮২ একর জমিতে দেশের প্রথম এই সেন্টার বেইজড সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক এই হাসপাতালে মোট ১১টি সেন্টার থাকবে। সেগুলো হচ্ছে, কার্ডিও ও সেরিব্রো ভাসকুলার সেন্টার, স্পেশালাইজড অটিজম সেন্টারসহ ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি, এক্সিডেন্টাল ইর্মাজেন্সি, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, অনকোলজি, রেসপিরেটরি মেডিসিন। এসব সেন্টারে সংশ্লিষ্ট রোগের যাবতীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরীয় সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড থেকে সহজ শর্তে প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। দশমিক শূন্য ১ শতাংশ সুদে ৪০ বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রথম ১৫ বছর ঋণের কোনো টাকা পরিশোধ করতে হবে না। পরবর্তী ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, কোরিয়ার সরকার প্রথমে ৭শ’ শয্যা সরবরাহ করতে চাইলে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৩শ’ শয্যা যোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৩ তলা বিশিষ্ট এ ভবনের ১১ তলা কোরিয়ার সরকারের অর্থায়নে এবং বাকি দুই তলা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হবে। হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৩০ মাস (২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত)।

এদিকে ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোরিয়ান পরামর্শক নিয়োগ উপলক্ষে আয়োজিত এক কনসালটেন্সি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত আন সং-ডু বলেছিলেন, কোরিয়াতে এ ধরনের স্পেশালাইজড হাসপাতালের আগেও নির্মাণ করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা এখানেও কাজে লাগানো হবে। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ যে রকমটা ভাবছে, তার চেয়ে আরও বেশি উন্নতমানের হাসপাতাল তারা নির্মাণ করবেন।

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এই হাসপাতালে ইনফরমেশন ডেস্ক, রোগীর সেবা ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতাল পরিচালনা করা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

সারাবাংলা/জেএ/জেডএফ/এটি

৩শ থেকে ৪শ কোটি টাকা বাঁচাবে বিএসএমএমইউ স্পেশালাইজড হাসপাতাল
৩শ থেকে ৪শ কোটি টাকা বাঁচাবে বিএসএমএমইউ স্পেশালাইজড হাসপাতাল
৩শ থেকে ৪শ কোটি টাকা বাঁচাবে বিএসএমএমইউ স্পেশালাইজড হাসপাতাল