মঙ্গলবার ২১ আগস্ট, ২০১৮, ৬ ভাদ্র, ১৪২৫, ৯ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

৪২ বছর বয়সেও খেলে যাচ্ছেন মুসা!

এপ্রিল ১৮, ২০১৮ | ৬:৩০ অপরাহ্ণ

জাহিদ-ই-হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

বয়স প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি কখনও। হকির জন্য অদম্য মানসিক শক্তি বারবার ফিরিয়ে এনেছে তাকে। তাইতো ৪২ বছর বয়সেও দমে যাননি। খেলে যাচ্ছেন দেশের হকির অন্যতম সেরা ক্লাব ঢাকা আবাহনীতে।

বলছি বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক মুসা মিয়ার ব্যাপারে। জাতীয় দলের লাল-সবুজ জার্সিতে চার চারটি এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া এই ফরিদপুরের খেলোয়াড় এখনও খেলে যাচ্ছেন। তাও আবার ঘরোয়া বড় টুর্নামেন্টে। পেশাদার হকি লিগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। খাজা রহমত উল্ল্যাহ ক্লাব কাপ হকি টুর্নামেন্টে।

২০১৬ সালে সবশেষ হকির প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন ওয়ারী ক্লাবের হয়ে। এবারতো মাঠে নামার চিন্তাই ছিল না তার। তবুও অনুরোধ ফেলতে পারেননি। ফিরেছেন ‘সেরা’ ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপিয়েই। সবশেষ ক্লাব কাপের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা আবাহনী। আকাশী-নীল জার্সি পড়েই ইতোমধ্যে দুটি ম্যাচও খেলে ফেলেছেন তিনি।

এই বয়সে যখন স্টিক রেখে বিকল্প চিন্তা করে খেলোয়াড়রা তখন কিভাবে খেলে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে জানালেন, ‘এখনও ভালো লাগে খেলতে। তাছাড়া আবাহনীতে খেলোয়াড় কম। সামনে প্রিমিয়ার লিগ আছে। বিদেশি খেলোয়াড় দেখছে ক্লাব কর্মকর্তারা। তারা চলে আসলে হয়তো নামব না।’

২৮ বছর ধরে ঢাকার শীর্ষ লিগে খেলছেন। জাতীয় দলের জার্সি পরেছেন ১৯৯৪-২০০৯ পর্যন্ত। হকির আলোচিত তিন ভাইয়ের বড়জন জাতীয় দলের অধিনায়কত্বও করেছেন। তিন ভাই ঈসা-মুসা-ইয়ামিন। তিন ভাই খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে।

কিভাবে এসেছেন হকিতে। মুসা মিয়া জানালেন, ‘১৯৮৫ সালে ঢাকায় ঝড় তোলা সেই এশিয়া কাপ টিভিতে দেখেছিলাম। আমার নয়-দশ বছরের কিশোর মনে হকির বীজ রোপিত হয় তখনই। হকির তখন জোয়ার, তার ওপর হকির উর্বর ভূমি ফরিদপুরে আমার জন্ম। বাসার সামনেই হকির সূতিকাগার হালিমা গার্লস স্কুলের মাঠে হারুন ভাইদের খেলা দেখতাম। তখন বল, স্টিক ছিল কম। একটা বল পাওয়াই যে কী আনন্দে ভাসিয়ে দিত! সেই আমি দ্রুত উঠে এলাম। ১৯৯০ সালে ঢাকার শীর্ষ হকি লিগে খেলা শুরু। দেখতে দেখতে ২৮ বছর কেটে গেল। আমি মুসা মিয়া খেলাটার সঙ্গে আজও আছি। আমার এক বছর পর শুরু করা ঈসা মিয়া মানে আমার ছোট ভাই এখনো খেলে। সমকালীন অন্য সবাই খেলা ছেড়েছে সেই কবেই। এমনকি আমাদের আরেক ভাই ইয়ামিনও হকিকে বিদায় বলেছে অনেক দিন হলো। আমরা তিন ভাই একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলেছি। কত স্মৃতি!’

সেই স্মৃতি নিয়ে থাকতে চান। সঙ্গে হকির সঙ্গে থাকতে চান ভবিষ্যতে। আপাতত ব্যবসা করছেন। ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা জানালেন মুসা, ‘আপাতত ব্যবসা করছি। চালিয়ে যেতে চাই ব্যবসা। তবে হকিতে থাকতে চাই যেকোন উপায়ে। ফেডারেশন চাইলে পাশে থাকতে চাই।’

এভাবেই বলতে বলতে স্টেডিয়াম প্রস্থান করলেন মুসা। তবে ফিরতে চান। সেটা ভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে হলেও।

সারাবাংলা/জেএইচ/এমআরপি

৪২ বছর বয়সেও খেলে যাচ্ছেন মুসা!
৪২ বছর বয়সেও খেলে যাচ্ছেন মুসা!