Friday 02 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভালোবাসার দেয়ালে শেফালিকে নিয়ে পরাগের জীবন গল্প

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
২৬ জুলাই ২০২৫ ১৪:০৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অভিনেতা পরাগ ত্যাগীর কাছে ‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু এমনই এক শূন্যতার নাম। স্ত্রী, সঙ্গিনী, প্রেরণা— এই তিন রূপে যিনি ছিলেন তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে; আজ তিনি নেই।

শুধু তাই নয়, আজ তার উপস্থিতি নেই সংসারের করিডোরে, নেই প্রিয় কুকুর সিম্বাকে আদর করার সেই পরিচিত হাত জোড়া, নেই রান্নাঘরের হাসিমাখা গল্প। অথচ শেফালিকে ভুলে যাওয়াও সম্ভব নয়। তাই হয়তো পরাগ বেছে নিয়েছেন এক অসাধারণ ও আবেগঘন সিদ্ধান্ত— নিজের ঘরের প্রতিটি দেয়াল শেফালির ছবিতে মুড়ে দিয়েছেন। যেন প্রতিটি মুহূর্তে স্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়ে জীবন কাটানো যায়, যেন অন্তত দৃশ্যত হলেও তাঁর অভাব কিছুটা পূরণ হয়।

বিজ্ঞাপন

৪২ বছর বয়সি শেফালির মৃত্যুতে এখনও অনেক কিছুর জবাব মেলেনি। হৃদরোগ? রক্তচাপজনিত জটিলতা? চিকিৎসা রিপোর্ট সুনির্দিষ্ট কিছু বলছে না। কিন্তু এতসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে লাভ কী, যদি সেই মানুষটিই আর ফিরতে না চায়? পরাগের কণ্ঠে ঘন বিষাদের সুর—

“আমি হয়তো তাকে আর ছুঁতে পারব না। কিন্তু আমি চাই, সে যেন আমার চোখের সামনে থাকে সবসময়। আমার হৃদয়ে তো সে আছেই।”

এই শহরের কোনো কোণায় হয়তো আরও অনেক গল্প হারিয়ে যায়, কিন্তু পরাগ ত্যাগীর এই প্রচেষ্টা এক অন্যরকম নিঃশব্দ প্রতিবাদ যেন—প্রিয়জন হারানোর বিরুদ্ধে। তার ছোট্ট সংসার— তিনি, শেফালি আর তাদের প্রিয় পোষ্য সিম্বা—আজ নিঃসঙ্গ। কিন্তু সেই নিঃসঙ্গতা মোকাবিলায় তিনি পরিণত করেছেন ঘরের চার দেয়ালকে ভালোবাসার গ্যালারিতে।

দেয়ালে শুধু ছবি নয়, রয়েছে স্মৃতির আঁচড়— একসাথে দেখা সিনেমার পোস্টার, ভ্রমণের টিকিট, জন্মদিনের হাতে লেখা চিঠি। এই বাড়িটি এখন শুধু ‘বসতবাড়ি’ নয়, এটি একটি জীবন্ত স্মারক— যেখানে শেফালির হাসি প্রতিফলিত হয় প্রতিটি ফ্রেমে।

পরাগের এই মনোজগৎ যেন একটি চলমান শোকসংগীত— নীরব, কিন্তু উচ্চকণ্ঠ। তিনি লিখেছেন তার সামাজিক মাধ্যমে _

“আমার পরী আমার চারপাশেই আছে। আমার প্রতিটি দেহের কোষে তুমি আছো। আমি চেষ্টা করছি এই শূন্যতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে।”

এই বাক্যগুলো পড়ে মনে হয়, কখনো কখনো ভালোবাসা এতটাই গভীর হয় যে, মৃত্যুও তার সামনে অসহায় হয়ে পড়ে।

বলিউডের সম্পর্কগুলো অনেক সময়ই ভঙ্গুর, ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু শেফালি-পরাগ জুটিটি ছিল ব্যতিক্রম। দীর্ঘসময় ধরে তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন, একে অপরের জন্য শক্তি ছিলেন। এই সম্পর্কের সৌন্দর্যটুকু এখন পরাগ বয়ে বেড়াচ্ছেন চিরকালীন স্মৃতির ভারে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি