ঢাকা: দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংলাপ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এতে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চারজন করে শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে ‘পারস্পরিক মতবিনিময়: সুপ্রিম কোর্ট এবং আইন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংলাপ’ শিরোনামে এ আয়োজন করা হয়।
আয়োজিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. আজিজ আহমদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহা. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চারজন করে শিক্ষার্থী (জেন্ডার সমতার ভিত্তিতে মনোনীত) নিয়ে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশের আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরেকটি সংলাপ আয়োজন করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সাংবিধানিক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতি ও সারাদেশের জেলা আদালতে কর্মরত বিচারকদের সামনে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। সে রোডম্যাপ বাস্তবায়নে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সভা-সেমিনার ও কর্মশালা অব্যাহত রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
এছাড়া, বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজভাবে সেবার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এরই মধ্যে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এরই অংশ হিসেবে আইনাঙ্গনের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে দৃঢ় সংযোগ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সংলাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন বলে বিশ্বাস করেন সুপ্রিম কোর্ট। যা আইনাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আর সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই আজকের এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।