Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

হাতিয়ায় নদীগর্ভে মাদরাসা, খোলা উঠানেই চলছে পাঠদান

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৩৬
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

নোয়াখালী: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় একটি মাদরাসা নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৬ মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে আম গাছের ছায়াতলে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ইসলামপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ইসলামপুর দাখিল মাদরাসার প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদের বাড়ির উঠান পরিণত হয়েছে এক খোলা আকাশের নিচের শ্রেণিকক্ষে।

এখানে স্থায়ী কোনো অবকাঠামো নেই। আকাশের নিচে পাতা ১০-১২টি পুরনো বেঞ্চে বসেই মনোযোগ দিয়ে পাঠ নিচ্ছে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। রোদ হোক বা বৃষ্টির ছাট, কিংবা হুট করে আসা ঝোড়ো বাতাস— এভাবেই চলছে পাঠদান। মাত্র দুজন শিক্ষক সেই খোলা প্রাঙ্গণেই পাঠদানে ব্যস্ত।

বিজ্ঞাপন

মাদরাসার সহকারী শিক্ষক এ টি এম আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে এক সময় ৩০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করত। তীর ভাঙনের ফলে অনেক পরিবারই অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী অস্থায়ীভাবে এখানে পাঠ গ্রহণ করছে। রোদে বেশি সময় থাকা যায় না, বৃষ্টি এলেই ক্লাস বন্ধ করতে হয়। বেতন-ভাতাও কেউ দেয় না, তবুও মানবিক দায়িত্ববোধে আমরা শিশুদের পড়াচ্ছি।’

ইসলামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল খালেক বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ২০০১ সালে ১৫০ শতক জমির ওপর ইসলামপুর দাখিল মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দুটি বড় টিনসেড ঘরেই পাঠদান হতো। কিন্তু ভাঙনের কবলে সবকিছু নদী গর্ভে তলিয়ে যায়।‘

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১০ বছরে চানন্দী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক মসজিদ, মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে।’

মাদরাসার প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদ বলেন, ‘নদী একেবারে মাদরাসার পাশে চলে আসায় দুই মাস আগে পাঠদান বন্ধ করতে হয়। তখনও ২৮৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। এরপর ঘরের টিন, বেড়া খুলে নিতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। কেউ কেউ অন্য পেশায় চলে গেছে।‘

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে বাড়ির উঠানে গাছতলায় পাঠদানের ব্যবস্থা করেছি। সাতজন শিক্ষকের মধ্যে এখন শুধু দুজন আছেন। প্রতিদিন ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী আসে। কষ্ট হলেও চেষ্টা করছি তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী বলেন, ‘হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন অনেক দিন ধরেই চলছে। ইসলামপুর মাদরাসাসহ এর আশপাশে বসতঘর-সড়ক কিছুই নেই। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভাঙনরোধ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর