Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিজয়ের দিনলিপি / ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১—নিয়াজিকে আত্মসমর্পণের বার্তা, বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বাঙালি

সারাবাংলা ডেস্ক
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:০০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বাঙালি। যৌথবাহিনীর আক্রমণে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনীর অনেক ইউনিট। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ঘিরে ফেলে রাজধানী ঢাকাকে। টার্গেট একটাই— হানাদার বাহিনীর সর্বশেষ অবস্থান ঢাকা জয়।

প্রচণ্ড যুদ্ধের পর এ দিন হানাদার মুক্ত হয় সিলেটের খাদিমনগর। আর চট্টগ্রামের কুমিরায় পাকিস্তানি ঘাঁটিতে তীব্র আক্রমণ চালায় মুক্তিযোদ্ধারা। পাকিস্তানি সৈন্যরা পালিয়ে যায় ফৌজদারহাটের দিকে। সেখানেও আক্রমণ চালায় অমিত তেজ বীর বাঙালি। মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযানে হাটহাজারীতেও পাকিস্তানি সেনারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশ ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জরুরি বার্তা পাঠান জেনারেল নিয়াজির কাছে। বার্তায় তিনি বলেন, ‘আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির জন্য ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১৬ ডিসেম্বর ৯টা পর্যন্ত বিমান হামলা বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে প্রচণ্ড বিমান হামলা শুরু হবে।’

ভারতীয় সেনাপ্রধানের বার্তার পর ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে পাকিস্তানি অবস্থানের ওপর বোমা বর্ষণ বন্ধ করে মিত্রবাহিনী। চারদিক থেকে পরাজিত হতে হতে পাকস্তানি সেনাবাহিনী বুঝে ফেলে, এই যুদ্ধে তাদের জন্য আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। এ দিন দেশের অধিকাংশ রণাঙ্গনে চলে মুক্তিকামী জনতার বিজয়োল্লাস। বস্তুত যুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে গেছে। বিজয়ের ঘোষণা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

এদিন যৌথবাহিনী চারদিক থেকে ঢাকা শহর ঘেরাও করে ফেলে। অবরুদ্ধ ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু ভারত তা প্রত্যখ্যান করে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের দাবি জানায়।

আত্মসমর্পণের খবরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে। বৈঠকে উত্থাপিত সবগুলো প্রস্তাব ছিঁড়ে ফেলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। সদলবলে বেরিয়ে যান অধিবেশন থেকে। বেরিয়ে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘এটাই বোধ হয় আমার শেষ বক্তৃতা। এখানে আত্মসমর্পণ করতে আসিনি।’

জাতিসংঘকে জালিয়াতি ও ধোঁকাবাজির পীঠস্থান আখ্যায়িত করে ভুট্টো বলেন, ‘ফ্রান্স ও ব্রিটেন স্পষ্টভাবে কোনো পক্ষ না নেওয়ায় পাক-ভারত যুদ্ধবিরতি বিষয়ে কোনো চুক্তি হতে পারল না।’

মার্কিন সপ্তম নৌ বহরকে মোকাবিলা করবার জন্য এ দিন বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সোভিয়েত রণতরীর ২০টি জাহাজ ভারত মহাসাগরে অবস্থান নেয়। এরপর মার্কিন রণতরী সপ্তম নৌবহর যুদ্ধে অংশ নেওয়া থেকে নিজেদের গুটিয়ে ফেলে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের মনে যুদ্ধে সাহায্য পাওয়ার যেটুকু আশা ছিল, সেটিও শেষ হয়ে যায়। পরাজয়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ না করায় মিত্রবাহিনী চূড়ান্ত আঘাতের পরিকল্পনা করে।

১৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে পাকিস্তানের তখনকার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় জেনারেল নিয়াজিকে নির্দেশ দেন, ‘ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের জন্য যেসব শর্ত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য তা মেনে নেওয়া যেতে পারে।’

আত্মসমর্পণের এ নির্দেশ পেয়ে সেনানিবাসে নিজের কক্ষে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কথিত পরাক্রমশালী পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে রাত ২টার মধ্যে বাংলাদেশের সব জায়গায় অবস্থানরত হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে তারবার্তা পাঠান।

দিনটি মূলত দখলদার বাহিনীর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের দিনক্ষণ নির্ধারণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও আকাশবাণী থেকে মানেকশর আত্মসমর্পণের আহ্বান প্রচার করা হয়। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যৌথবাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে উপস্থিত হতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এ দিন সস্ত্রীক ঢাকায় এলে তাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে খান নিয়াজি।

একাত্তরের এই দিনে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দির জাহাঙ্গীর শহিদ হন। গেরিলাদের সঙ্গে অপারেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দখলের যুদ্ধে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। মহানন্দা নদী পেরিয়ে তিনি একের পর এক শত্রু বাংকার দখল করে যখন প্রবল বিপদ উপেক্ষা করে এগুচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ মাথায় গুলি লাগে তার। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বাতাস আজ 'সহনীয়'
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৯

আরো

সম্পর্কিত খবর