Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নীলতিমির গান কেন থমকে যাচ্ছে?

ফারহানা নীলা
১৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নীলতিমি কেবল পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাণীই নয়, তারা সমুদ্রের এক রহস্যময় গায়কও বটে। অত্যন্ত নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দের মাধ্যমে এরা শত শত কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেয়। এই গান বা শব্দ কেবল বিনোদন নয়, বরং তাদের জীবনধারণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নেভিগেশন, নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা এবং সঙ্গী খোঁজার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তারা এই শব্দের সাহায্যেই সেরে নেয়।

গবেষণায় উঠে আসা আশঙ্কাজনক তথ্য

ক্যালিফোর্নিয়া কারেন্ট ইকোসিস্টেম অঞ্চলে ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সমুদ্রের নিচে স্থাপিত বিশেষ শ্রবণযন্ত্রের মাধ্যমে এক দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালানো হয়। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে এক উদ্বেগজনক চিত্র—বিগত বছরগুলোতে নীলতিমির গানের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে ওঠানামা করছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরের ভয়াবহ সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ, যা ‘দ্য ব্লব’ (The Blob) নামে পরিচিত, তার পরবর্তী সময়ে তিমির গানে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

খাদ্যসংকট ও শক্তির অপচয়

বিজ্ঞানীদের মতে, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ সমুদ্রের তলদেশের খাদ্যজালকে তছনছ করে দিয়েছে। নীলতিমির প্রধান আহার হলো ক্ষুদ্রাকার ক্রিল। তাপপ্রবাহের কারণে ক্রিলের ঝাঁক কমে যাওয়ায় তিমিদের খাদ্যের সন্ধানে অনেক বেশি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এবং প্রচুর শক্তি ব্যয় করতে হচ্ছে। বেঁচে থাকার তাগিদে খাদ্যের পেছনে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে গিয়ে তারা গান গাওয়ার মতো শক্তি বা সময় আর সঞ্চয় করতে পারছে না।

মানুষের সৃষ্ট বাধা ও পরিবেশের সংকেত

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি মানুষের তৈরি শব্দদূষণ নীলতিমিদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল এবং শিল্পকারখানার বিকট আওয়াজ তাদের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। নীলতিমির গানের এই নীরবতা আসলে একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত। এটি প্রমাণ করে যে, সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যা পুরো সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্য এক অশনিসংকেত।

শেষ কথা

নীলতিমির এই স্তব্ধতা কেবল একটি প্রজাতির নীরব হয়ে যাওয়া নয়, বরং এটি সমুদ্রের গভীর থেকে আসা এক আর্তনাদ। প্রকৃতির বিশালতম এই সৃষ্টি যখন গান থামিয়ে দেয়, তখন বুঝতে হবে আমাদের নীল গ্রহের ভারসাম্য আজ খাদের কিনারায়। সমুদ্রের এই নীল কণ্ঠস্বরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা মানেই হলো পৃথিবীর বাস্তুসংস্থানকে রক্ষা করা। তাই এখনই সময় সমুদ্রের দূষণ রোধে সচেতন হওয়ার, যাতে অতলান্তিকের বুকে আবারও ফিরে আসে সেই চেনা সুর, যা লক্ষ কোটি বছর ধরে এই জলরাশিকে প্রাণবন্ত করে রেখেছে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন