Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষায় ১০ দফা দাবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৬ মে ২০২৬ ১৭:১০

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা, আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে তিন বেসরকারি সংস্থা- আশার আলো সোসাইটি, নারী মৈত্রী ও সহায়।

বুধবার (৬ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

সমাবেশে বক্তারা গৃহশ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে বলেন, দেশে গৃহকর্মীদের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ২০১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ, যার বড় একটি অংশই নারী। জলবায়ু পরিবর্তন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক দরিদ্র নারী শহরে এসে গৃহকর্মকে জীবিকা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠী গৃহের অভ্যন্তরে শ্রম দিলেও তারা শ্রম আইনের বাইরে রয়ে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

নারী মৈত্রীর প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ প্রণয়ন করলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। নীতিমালা অনুযায়ী হেল্পলাইন বা মনিটরিং সেলের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো গৃহশ্রমিকদের দক্ষতা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করলেও তাদের উন্নয়নের মূলধারায় আনতে সরকারি তদারকি জরুরি।

গৃহশ্রমিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১০ দফা দাবিগুলো হলো, শ্রম আইনে গৃহশ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। গৃহকর্মীদের কাজের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, বিশ্রাম, বিনোদন, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সরকারের মনিটরিং সেল থেকে গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ও তথ্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং শহরে কাজে আসার আগে নিজ ইউনিয়ন ও থানায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়া, কর্মস্থলে অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার শিকার হলে নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সরকারি উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির দাবি জানানো হয়।

দাবিনামায় আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল গৃহকর্মীদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা করা, গৃহশ্রমিকদের ওপর সহিংসতামূলক মামলাগুলো নিয়মিত তদারকি করা এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জাতীয় পেনশন স্কিম ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা গৃহশ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বক্তারা মনে করেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং গৃহশ্রমিকরা একটি সম্মানজনক জীবনের অধিকার পাবেন।