Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

অর্থবছরের ৯ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২০ বিলিয়ন ডলার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ মে ২০২৬ ২১:৪৯

– ছবি : প্রতীকী

ঢ‌াকা: মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্য আমদানিতে। এ কারণে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। এর সাথে বেড়েছে পণ্য আমদানিও। বিপরীতে কমেছে পণ্য রফতানি। ফলে ধারাবাহিক বাড়ছে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন বা ২২৫ কোটি ডলার। আর আগে ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-এর (বিওপি) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৩ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাড়িঁয়েছে ১ হাজার ৯১৭ কোটি ৩ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে (মার্চ) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২২৫ কোটি বা ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ২৩৮ কোটি ৩ লাখ ডলারের। আর অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ১৫৫ কোটি ৬ লাখ ডলারের। এই সময়ে রফতানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেশি হয়েছে ১ হাজার ৯১৭ কোটি ৩ লাখ ডলার।

চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে

এদিকে, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও দেশের চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি কমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ১০০ কোটি ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৭ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতি কমেছে ৬১ কোটি ডলার।
চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট হলো একটি দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের (বিওপি) অন্যতম প্রধান উপাদান। পণ্য ও সেবার নিট বাণিজ্য, বিদেশ থেকে আসা আয় ও রেমিট্যান্সের মতো চলতি হস্তান্তর এর অন্তর্ভুক্ত।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের আর্থিক হিসাবে উদ্ধৃত্ত ছিল ৪০৮ কোটি ৩ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের আর্থিক হিসাবে উদ্ধৃত্ত কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮১ কোটি ২ লাখ ডলার।

ট্রেড ক্রেডিটে উদ্ধৃত্ত বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ট্রেড ক্রেডিটে ২৫৬ কোটি ২ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। আর অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ট্রেড ক্রেডিটে উদ্ধৃত্ত দাড়িয়েছে৩২৩ কোটি ৫ লাখ ডলার।

ট্রেড ক্রেডিট হচ্ছে পণ্য বা পরিষেবা যা এখনই গ্রহণ করা হলেও মূল্য পরে পরিশোধ করা হয়। একে ব্যালান্স অভ পেমেন্টের (বিওপি) স্বল্পমেয়াদি মূলধন প্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এটি সরাসরি পণ্য আমদানির সঙ্গে অর্থায়নের সম্পর্ক স্থাপন করে।

আলোচ্য সময়ে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৩৪২ কোটি ৭ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। আর অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে উদ্ধৃত্ত দাড়িয়েছে ৩৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর