গাইবান্ধা: গত কয়েকদিন ধরে উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট কাটিয়ে গাইবান্ধা অংশে যমুনা নদী আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বন্ধ হয়ে থাকা নৌ-ঘাটগুলো পুনরায় চালু হওয়ায় নদী তীরবর্তী জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি।
এ ছাড়া, নদীর পানির রঙেও পরিবর্তন দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের স্থির ও কম পানির কারণে কালচে বা নীলাভ রঙ ধারণ করা যমুনা এখন প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে মাটির স্বাভাবিক মেটে রঙে ফিরে এসেছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে যমুনার পানি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মাঝে সামান্য কমলেও মে মাসের শুরু থেকেই আবারও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে নদীর পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসছে।
পানি বাড়ার ফলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরগুলো আবার ডুবে যেতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন শুকিয়ে থাকা খাল-বিল ও শাখা নদীগুলোতে নতুন করে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে চরাঞ্চলের মানুষ নৌপথে সহজে যাতায়াত করতে পারছেন, যা আগে অনেকটাই ব্যাহত ছিল।
নাব্যতা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া গাইবান্ধার বিভিন্ন খেয়াঘাট, বিশেষ করে ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একাধিক নৌঘাট আবার চালু হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব ঘাটে এখন যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নৌকার ইঞ্জিনের শব্দে নদীপথগুলো আবারও মুখর হয়ে উঠেছে।
ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাটের মাঝি রিপন মিয়া বলেন, ‘নদীতে পানি না থাকায় দীর্ঘদিন ঘাট বন্ধ ছিল, আয়-রোজগার একেবারেই কমে গিয়েছিল। এখন পানি বাড়ায় আবার ঘাট চালু হয়েছে, কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছি।’
মমিন উদ্দিন নামের আরেক নৌকা চালক বলেন, ‘বছরে প্রায় পাঁচ মাস নদী শুকিয়ে যেতে থাকে। তখন যাতায়াত করতে সময় ও তেল দু’টোই বেশি লাগে। বর্তমানে নদীতে পানি বাড়ায় খুব ভালো লাগছে।’
মানিক কর চরের সোহেল রানা বলেন, ‘আগে যেখানে হেঁটে বা বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হতো, এখন নৌপথ চালু হওয়ায় সময় ও কষ্ট দু’টোই কমেছে।’
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সায়েম শফিউল ইসলাম বলেন, ‘উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যমুনায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশ কিছুদিন পানি এরকম বাড়া-কমার মধ্যেই থাকবে। তবে খুব শিগগিরই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার কোনোও সম্ভাবনা নেই।’