Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

কুঠিবাড়িকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ মে ২০২৬ ০৯:০৯

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

কুষ্টিয়া: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে রবীন্দ্রপ্রেমী, দর্শনার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণ।

শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির মূলমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘রবীন্দ্র কুঠিবাড়িকে একটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন দর্শনীয় স্থানগুলোকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।’

পরে বিশ্বকবি রচিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন দেশবরেণ্য ও স্থানীয় শিল্পীরা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, জমিদারি তদারকির কাজে ১৮৯১ সালে প্রথম শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর বারবার তিনি ফিরে এসেছেন পদ্মাপাড়ের এই নিভৃত প্রাকৃতিক পরিবেশে। কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের অসংখ্য কালজয়ী কবিতা, গান ও গল্প। এখানেই রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ তাকে এনে দেয় নোবেল পুরস্কার ও বিশ্বকবির মর্যাদা। এছাড়াও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতসহ বহু অমর সাহিত্যকর্মের সৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির নাম।

আজও কুঠিবাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা স্মৃতিচিহ্ন, যা দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর