ঢাকা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার ধ্বজনগর বাতান বাড়ি এলাকার খেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন (২২)। তিনি গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আরেক নিহত ৪০ বছর বয়সি নবীর হোসেনের বাড়ি মধুপুর গ্রামে।
দুইজনের মরদেহ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ২০-২৫ জন চোরাকারবারি রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন ওই সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে মোরছালিন ও নবীর হোসেন নিহত হন।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর খান জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে মরদেহ নিয়ে যায় বলে বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন তিনি।
ধ্বজনগর গ্রামের বাসিন্দা রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি রাতে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল কাঁটাতারের সামনে গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়।’
চন্ডিদ্বার বিওপি কমান্ডার সুবেদার মইন উদ্দিন জানান, মরদেহ দুটি ভারতীয় বিএসফের কাছে আছে। পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ বিজিবির কাছে মরদেহ দুটি হস্থান্তর করা হবে। এ ব্যপারে বিএসএফের কাছে চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।