Saturday 09 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

সিট না পেয়ে ইবিতে হল প্রভোস্ট কক্ষের সামনে তিন শিক্ষার্থীর অবস্থান

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৯ মে ২০২৬ ১৯:৪৭

হল প্রভোস্টের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সিট বরাদ্দ পেয়েও কক্ষে উঠতে না পারার অভিযোগে প্রভোস্ট কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তিন শিক্ষার্থী।

শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা প্রভোস্ট কক্ষে তালা দিয়ে সেখানে বিছানা পেতে অবস্থান নেন।

অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোবারক উল্লাহ, একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আবু বকর এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানভীর আরিফ। তারা যথাক্রমে ৩২৫, ২১৫ ও ৩২৭ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও ভাইভায় অংশ নিয়ে মেধার ভিত্তিতে তারা সিট বরাদ্দ পেয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে দেখেন, সেখানে আগে থেকেই অন্য শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। ফলে তাদের অতিরিক্ত হিসেবে সিট দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের সমস্যা আরও কয়েকটি কক্ষেও রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, হলের কিছু কক্ষে আসন ফাঁকা থাকলেও সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, ‘৩২৫ নম্বর রুমে সিট বরাদ্দ পেয়েছি। হলে সিট পেয়ে গতমাস থেকেই আমি ম্যাচের সিট ছেড়ে দিয়েছি। এখন হলে উঠতে না পেরে আর থাকার জায়গা পাচ্ছি না। এদিকে, বর্তমান প্রভোস্টের মেয়াদ মাত্র ছয়দিন আছে। তিনি চলে গেলে পরবর্তী প্রভোস্ট সিট দেবে কি না, আমি জানি না।’

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আরিফ বলেন, ‘আবেদনের পর আমাকে বৈধভাবে রুম নম্বর দেওয়া হলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায় দুই সিটের রুমে এরইমধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে সেখানে থাকার কোনো পরিবেশ নেই। হলের অনেক রুমেই এভাবে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে বৈধ সিট দেওয়া হয়েছে, অথচ অনেক রুমে এক-দু’জন বৈধ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে থাকছেন। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও তারা কেবল ধৈর্য ধরতে বলে আশ্বস্ত করছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এই সমস্যার কোনো দৃশ্যমান সমাধান না হওয়ায় আমরা আজ এ পথ বেছে নিয়েছি।’

এ বিষয়ে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘আমাকে হলের স্টাফরা যে তথ্য দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দিয়েছি। কিন্তু সেই তথ্যে গড়মিল ছিল। ফলে বর্তমানে সিট বরাদ্দের গড়মিল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি। এ ছাড়া, বর্তমানে আমি ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় চলে এসেছি। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।’