কক্সবাজার: মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা ১ জন।
নাফনদীর শূন্যরেখায় শনিবার জেলেদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বিজিবির অব্যাহত প্রচেষ্টা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক তৎপরতার মাধ্যমে আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জন জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারের উদ্দেশে যাওয়ার সময় বেশকিছু বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে মায়ানমার আরাকান আর্মি তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের মংডু এলাকায় নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়।
ফেরত আসা মহেশখালীর জেলে মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, ‘সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় আমাদের ট্রলারের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা আমাদের ধরে নিয়ে মংডুর একটি জেলে আটকে রাখে। প্রায় ৪ মাস পর আজকে আমাদের ছেড়ে দিয়েছে।’
শনিবার দুপুর থেকেই টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে বিজিবির একটি দল অবস্থান নেয়। পরে ফেরত আসা জেলেদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
দেশে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেন মুক্ত জেলেরা। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমেই আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।