Monday 11 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে ইউনিলিভার, চসিক ও ইপসা সমঝোতা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ মে ২০২৬ ২১:১৩

সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)।

সোমবার (১১মে) নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

নতুন চুক্তির আওতায় আগামী আরও দুই বছর যৌথভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ ও কমিউনিকেশন পরিচালক শামিমা আক্তার।

বিজ্ঞাপন

২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভ্যালু চেইন উন্নয়নে কাজ করছে এ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্ক্র্যাপ ক্রেতা ও রিসাইক্লারদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

একইসঙ্গে প্রণোদনাভিত্তিক মডেলের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

উদ্যোগটির আওতায় এখনও পর্যন্ত ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে চালু করা গ্রুপ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সুবিধার আওতায় ১ হাজার ৮২৭ জন কর্মী অক্ষমতা বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষার আওতায় এসেছেন।

এ ছাড়াও, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার এবং বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক। অংশগ্রহণকারী স্ক্র্যাপ ক্রেতাদের অর্ধেক এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং সবার সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গঠনে সহায়ক হবে।’

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।’

তিনি জানান, সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তুলতে ইউনিলিভার গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল নিয়ে কাজ করছে।

ইপসার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় আনছে, যা তাদের আয়, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্বীকৃতি বাড়াতে সহায়তা করছে।’

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক এবং দুইজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর