Monday 11 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

এসআইবিএলের প্রশাসকের বদলি নিয়ে নানা গুঞ্জন


১১ মে ২০২৬ ২১:৫৭

– ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) প্রশাসক সালাহ উদ্দিন সরিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসার‌কে ব্যাংকটির নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সালাহ উদ্দিনকে বদলি করে রংপুর অফিসে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সালাহ উদ্দিনের সহযোগী হিসেবে নিয়োগ দেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল ইসলামকেও এসআইবিএল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সিএসডিতে বদলি করা হয়েছে ।

সোমবার(১১ মে) আলাদা দুইটি সার্কুলারের মাধ্যমে তাদের বদলি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সালাহ উদ্দিনকে এসআইবিএলের প্রশাসক ও রাশেদুল ইসলামকে তার সহযোগী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ৬ মাসের মাথায় তাদের বদলি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কী কারণে তাদেরকে বদলি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে হঠাৎ করে তাদের বদলি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নানা গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে কর্মকর্তারাও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এছাড়া বদলির আদেশ নিয়েও দেখা দিয়েছে আইনী বিতর্ক। কয়েকটি বড় গ্রুপকে সুবিধা দিতেই একজন ডেপুটি গভর্নর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ইডির ইচ্ছাতে এ বদলির আদেশ হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ সুদ মওকুফ, নিয়মের বাইরে গিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল ও নীতি সহায়তা সুবিধার জন্য কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ প্রশাসকের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। কিন্তু প্রশাসক কোনোভাবেই তাদেরকে অনৈতিক সুবিধা দিচ্ছিলেন না। এরপর থেকেই এই গ্রুপগুলো প্রশাসকের উপর ক্ষুব্ধ হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকটাকে ঠিক করার জন্যই প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ব্যাংকটাকে দাঁড় করানোর জন্য তার কাজ করছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অদৃশ্য ইশারায় তাদেরকে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে, এইচআরডির বদলি আদেশ নিয়ে দেখা দিয়েছে আইনী বিতর্কও। কারণ সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ দিয়ে। এটার জন্য আলাদা আইনও রয়েছে। তাই একজন প্রশাসককে এইচআরডি বদলির আদেশ দিতে পারেনি কিনা এমন প্রশ্নও তুলছেন কিছু কর্মকর্তা।

“ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬”-এর ধারা ১৯ (প্রশাসক নিয়োগ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অধীন অথবা ধারা ১৪ অনুযায়ী রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংকের জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের “পক্ষে ও নির্দেশনায়” কাজ করবেন। আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অধীন নিযুক্ত প্রশাসকের মেয়াদ হবে নিয়োগের তারিখ থেকে অনধিক ১২ (বারো) মাস; এবং রেজল্যুশনের ক্ষেত্রে মেয়াদ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হবে।
ধারা ২৩ (প্রশাসকের অবসান)** অনুযায়ী, নিম্নবর্ণিত কারণে প্রশাসকের কার্যক্রমের অবসান হবে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসককে অব্যাহতির নির্দেশ প্রদান করতে পারবে:
ক) ধারা ১৯(২)-তে উল্লিখিত নির্দিষ্ট মেয়াদ সমাপ্ত হলে, (খ) প্রশাসক মৃত্যুবরণ করলে বা কার্যসম্পাদনে অক্ষম হলে, (গ) পদত্যাগপত্র দাখিল করলে, (ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, প্রশাসক তাঁর কোনো ক্ষমতা, দায়িত্ব বা কার্যাবলি প্রয়োগ, পালন বা সম্পাদন করতে “ব্যর্থ হলে” অথবা এই আইনের অধীন আরোপিত শর্তাবলি ও নিয়মাবলি পরিপালনে ব্যর্থ হলে, (ঙ) অন্য কোনো কারণে উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকবার জন্য “অযোগ্য হলে”; অথবা, (চ) বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত প্রশাসকের মেয়াদ সমাপ্ত করিবার “সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে”।
আর আইনের “ধারা ৬ (রেজল্যুশন সংক্রান্ত বিভাগ)” বলা হয়েছে- “এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, রেজল্যুশন সংক্রান্ত ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং কার্যাবলি প্রয়োগ, পালন ও সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের “একটি বিভাগ” থাকিবে।”

এ বিষয়ে তাদের যুক্তি হল- এই আইনের আওতায় যেখানেই “বাংলাদেশ ব্যাংক” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে প্রশাসক নিয়োগ, অবসান বা নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে তার অর্থ হলো “ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ”। এই বিভাগই রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ। সালাহ উদ্দিনকে সরিয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগের আদেশটি জারি করেছে “হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ (এইচআরডি-১)” যা একটি প্রশাসনিক বিভাগ, রেজল্যুশন বিভাগ নয়। আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী রেজল্যুশন প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকের প্রশাসক পরিবর্তনের ক্ষমতা একচেটিয়াভাবে “ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ”। এইচআরডি-১ থেকে এই আদেশ জারি করার বিষয়টি “আইনসম্মত প্রক্রিয়ায়” হয়েছে কি না- এমন প্রশ্ন ওঠেছে।

এছাড়া ধারা ২৩(চ)-এ স্পষ্টভাবে “বাংলাদেশ ব্যাংক” (অর্থাৎ ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ) প্রশাসকের মেয়াদ সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে উল্লেখ থাকলেও সেই সিদ্ধান্তটি “কোন বিভাগ নিল, কোন প্রক্রিয়ায় নিল” এবং তার যৌক্তিক ভিত্তি কী ছিল, তা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করেনি।

আইনী জটিলতা বিষয়ে জানতে চাইলে এইচআরডি’র একজন কর্মকর্তা বলেন, এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত একটা বিভাগ।

কারো চাপে পড়ে প্রশাসক এবং তার সহযোগীকে বদলি করা হয়েছে কিনা এবং এইচআরডি’র বদলির আদেশে কোনো আইনী জটিলতা আছে কিনা জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানতে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ হয়নি।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর