Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ব্রাজিল আর্জেন্টিনার অন্ধ সমর্থন যেন সম্পর্কের ফাটল না ধরায়

ফারহানা নীলা
১৮ জুন ২০২৬ ১৮:০৯

ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা; এই দুটি দেশের নাম শুনলেই আমাদের দেশের ফুটবলপ্রেমীদের রক্তে যেন টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। বিশ্বকাপ আসুক কিংবা সাধারণ কোনো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ, চায়ের কাপে ঝড় ওঠা থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ে মোড়ে পতাকা ওড়ানোর ধুম পড়ে যায়। প্রিয় দলের প্রতি এই ভালোবাসা দারুণ এক উদযাপনের অংশ। কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে তখন, যখন এই সুস্থ উন্মাদনা রূপ নেয় চরম শত্রুতায়। কেবল কথার লড়াই বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে করতে একপর্যায়ে তা হাতাহাতি, মারামারি, এমনকি রক্তারক্তি পর্যন্ত গড়ায়। যে খেলা মানুষকে মেলাবার কথা, বিনোদন দেওয়ার কথা, সেই খেলাই যখন প্রাণ কেড়ে নেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন আমাদের লাইফস্টাইল ও মানসিকতায় বড় গলদ প্রকাশ পায়। খেলাকে খেলার জায়গায় রেখে কীভাবে এই উন্মাদনা ধরে রাখা যায়, তা নিয়ে আমাদের কিছু বিষয় দৈনন্দিন অভ্যাসে রাখা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আক্রমণাত্মক আচরণ বর্জন করুন

ফুটবল ম্যাচ দেখার আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে দলবদ্ধভাবে উপভোগ করার মধ্যে। তাই খেলা দেখার সময় বন্ধুদের সঙ্গে সুস্থ আড্ডার পরিবেশ বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের সাপোর্ট করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কিংবা তাদের পরিবার বা জেলা তুলে কটূক্তি করা একেবারেই অনুচিত। সমর্থন যেন কোনোভাবেই অন্ধত্বে রূপ না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খেলা সাময়িক, কিন্তু বন্ধু বা প্রতিবেশীর সঙ্গে সামাজিক সম্পর্কটা চিরন্তন। মাঠের লড়াই মাঠেই শেষ হোক, আমাদের যাপিত জীবনে তার আঁচ লেগে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

মজা আর ব্যঙ্গাত্মক আচরণের পার্থক্য বুঝুন

তর্ক-বিতর্ক যদি করতেই হয়, তবে তা যেন নিছক হাস্যরসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সুস্থ রসিকতা ও মজা করা ভালো, কিন্তু কাউকে ছোট করে ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করা ঠিক নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা সামনাসামনি এমন কোনো ট্রল বা ব্যঙ্গচিত্র শেয়ার করা উচিত নয় যা কাউকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত করে বা উত্তেজিত করে তোলে। প্রতিপক্ষের ভালো কোনো গোল বা ড্রিবলিং দেখলে তা খোলামনে স্বীকার করা এবং বাহবা দেওয়া একজন প্রকৃত ক্রীড়ামোদী মানুষের পরিচয়। দল হেরে যাওয়ার পর ক্ষোভের বশে রাস্তাঘাটে ভাঙচুর, অন্যের বাড়ির পতাকা নামিয়ে ফেলা কিংবা কোনো ধরনের শারীরিক সংঘর্ষে জড়ানো শুধু অপরাধই নয়, বরং নিজের ব্যক্তিত্বকেও ছোট করে।

সুস্থ ক্রীড়াসুলভ মানসিকতাই সুন্দর ফুটবলের প্রাণ

খেলাধুলা মূলত বিনোদন এবং দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করার একটি চমৎকার মাধ্যম। কোনো বন্ধু যদি প্রিয় দলের হেরে যাওয়া নিয়ে বেশি আবেগপ্রবণ বা মন খারাপ করে থাকে, তবে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং খেলায় হার-জিত থাকবেই—এই সহজ সত্যটি মেনে নেওয়াই বুদ্ধির পরিচয়। দিনশেষে মনে রাখা দরকার, মাঠের ফুটবলাররা ম্যাচ শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন, তাই গ্যালারি বা ড্রয়িংরুমে বসে আমাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। পরমতসহিষ্ণুতা এবং সুস্থ ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে খেলা উপভোগ করলেই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠবে আমাদের যাপনে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১৭

আরো