গাজীপুর: বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তি এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
গ্রেফতার সিফাত আব্দুল্লাহ (২০) ওরফে বিল্লাল, গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাইলকৈর টিনের মসজিদ এলাকার বাসিন্দা সিকান্দার আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।
গত ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে ৪ জুনের একটি পুরোনো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সিফাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে ৪,০০০ টাকা এবং আগের মাসে ৫,০০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এই ক্ষোভ থেকে তিনি সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিস বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে ভিন্ন এবং প্রকৃত চিত্র উঠে আসে।
সিফাতদের দোতলা ভবনটিতে সিফাতের পরিবার ছাড়াও আরও দুটি ভাড়াটিয়া পরিবার বসবাস করে। পুরো ভবনটিতে পল্লী বিদ্যুতের ৩টি আবাসিক মিটার সচল রয়েছে।
সিফাত তার ভিডিওতে মোট ১০ হাজার টাকা বিলের কথা বললেও তিনি মূলত মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৪ মাসের ৩টি মিটারের সম্মিলিত বিলের কথা বলেছিলেন। জুলাই ও আগস্ট মাসে এই ৩টি মিটারে মোট বিল এসেছিল ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।
তদন্তকারী দল সিফাতদের বাসায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির তালিকা করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পল্লী বিদ্যুতের মতে, গ্রাহকের বিল প্রস্তুতিতে কোনো প্রকার ভুতুড়ে বা ত্রুটিপূর্ণ বিল করা হয়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আসামি সিফাত আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য ভিডিওতে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছে। বিজ্ঞ বিচারক সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সওয়াল-জবাব শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম রবি বলেন, আমরা আদালতে সিফাতের জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। সিফাত আব্দুল্লাহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, সেটি সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা। মূল মামলার এজাহারে তার এই বক্তব্যের কোনো উল্লেখ বা বিষয় যুক্ত নেই। তাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ৪ জুনের একটি পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যার সাথে তার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে সেশন কোর্টে (দায়রা জজ আদালত) আপিল করব।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (বোর্ড বাজার জোনাল অফিস) ডিজিএম মো. আহসান কবীর বলেছেন, গ্রাহক সিফাত আব্দুল্লাহর অতিরিক্ত বা ভুতুড়ে বিলের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের তদন্ত দল সিফাতের বাড়ীতে গিয়ে মিটারের রিডিং এবং বিলের কাগজ যাচাই করেছে। সেখানে ৩টি ভিন্ন মিটারের ২ মাসের মোট বিলকে তিনি একটি মিটারের বিল হিসেবে দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের বিদ্যুৎ বিল একদম সঠিক ও নির্ভুল ছিল।