Saturday 24 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পঞ্চগড়ে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের বলি স্বামী: হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৪

পঞ্চগড় সদর থানা। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে (২৫) গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া এলাকা থেকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

মৌসুমী আক্তার ওই এলাকার নিহত আলম হকের (৩০) স্ত্রী। আলম হক একই এলাকার তসলিম উদ্দীনের ছেলে। মৌসুমী-আলম দম্পতির সাত বছর বয়সি একটি মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সি একটি ছেলে রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলম হকের সঙ্গে মৌসুমী আক্তারের নয় বছর আগে বিয়ে হয়। গত শনিবার রাতে আলমকে ভাত খেতে দেন স্ত্রী মৌসুমী। খাওয়া শেষে তারা শুয়ে পড়েন। পরে হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করেন আলম। একপর্যায়ে তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তিনি বমি করতে শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

পরে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দৌড়ে ছুঁটে যান। তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। এ সময় তারা দেবীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে রাতে মরদেহ বাসায় নিয়ে গেলে খবর পেয়ে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। মরদেহ সুরতহাল করে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ তার নিজ এলাকায় দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোটো ভাই জাকির হোসেন।

এ ঘটনার একদিন পর সোমবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীকে একাধিকবার জিজ্ঞেস করেন ঘটনার সাথে তিনি জড়িত আছেন কিনা। এতেও তিনি সব অস্বীকার করেন। পরে মেসাকসেদুল নামে আলমের এক ভাগনের কাছে সব স্বীকার করেন তিনি। তিনি জানান, একই এলাকার বাবুল হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যক্তির নির্দেশেই তিনি স্বামীকে ‘বিষ’ খাইয়েছিলেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে জড়ো হন স্থানীয়রা। পরে সদর থানা পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে তারা।

অভিযুক্ত মৌসুমী আক্তার এ হত্যার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বাবুল নামের এক ব্যক্তি তাকে প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। তিনি মোবাইলফোনে কল দেওয়ার পাশাপাশি ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে দেখা করার জন্য চাপ দিতেন। মৌসুমী বলেন, ‘আমার স্বামীকে বিষ খাওয়ানোর জন্য ওই বাবুল আমাকে বিষ এনে দিয়েছিল। আমাকে বলেছিল, এটা ঘুমের ওষুধ, কিছু হবে না। বাবুল আমাকে বলেছিল, ওষুধ না খাওয়ালে আমার ছেলে-মেয়েকে সে নিয়ে যাবে, তাই ভয়ে আমি ওষুধ খাওয়াই।’

নিহত আলম হকের বড়ো ভাই আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি আলমের বউকে বলি, তুমি যদি কিছু করে থাকো তাহলে বল। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে তোমাকে বাঁচিয়ে আনবো। তারপরেও সে কিছু বলতে রাজি হয়নি। পরে সে মোকসেদুল নামে আমাদের এক ভাগনেকে বলে যে বাবুলের সাথে তার এক বছর ধরে প্রেম। তারা দু’জনে মিলে পরামর্শ করে আমার ভাইয়ের খাবারে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়। পরে শরবতের সাথেও বিষ মিশিয়ে দেয়। আমার ভাইকে এভাবে বিষ খাইয়ে মারল, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। সে অন্য কারও সঙ্গে চলে যেতে চাইলে চলে যেতে পারত। কিন্তু আমার ভাইকে মেরে ফেলল কেন? আমরা এর বিচার চাই।’

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। রবিবার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছিল। সোমবার বিকেলে স্থানীয়রা ফোন করে জানায়, মৃত আলমের স্ত্রী নাকি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তার নামে নিহতের স্ত্রীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে নিহতের ছোটো ভাই জাকির হোসেনের করা অপমৃত্যু (ইউডি) মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের হবে। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে তোলা হবে। এ ছাড়া অপর অভিযুক্ত বাবুলকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর