Saturday 24 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট: ডা. জাহেদ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৩৪ | আপডেট: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৮

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ডা. জাহেদ।

ঢাকা: ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো কৌশলগত দ্বিমত নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন অথবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক—প্রত্যর্পণের দাবি শক্ত।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় না, বরং ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের কথা বলা হচ্ছে’—কেউ কেউ এমন ধারণা বা স্পেকুলেশন করছেন। বিষয়টি আসলে এমন নয়। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যাওয়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে একজন আসামি, পলাতক আসামি এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরও জানিয়েছেন, তার আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে দেশে ফিরে এসে বিচার পুনর্বিবেচনার যে সুযোগের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।’

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সম্প্রতি তিনি ভারতের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। বিষয়টি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ আশা করেছিল বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘তিনি পলাতক অবস্থায় আছেন। তার বর্তমান স্ট্যাটাসে তিনি এসব অধিকার ভোগ করতে পারেন কিনা, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্টতা নেই। আমি মনে করি, এটা তাদের (ভারত সরকারের) দিক থেকে সঠিক হচ্ছে না।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক যে জায়গায় চলে গিয়েছিল, সেখান থেকে উন্নতির জন্য ভারত সরকার তাৎক্ষণিকভাবেই একটি পদক্ষেপ নিতে পারে। শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা তার মধ্যে একটি হতে পারে।’

ভারতের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাকে শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবেদনশীলতার বিষয়টি জানানো এবং প্রশ্ন করা উচিত—তার এ ধরনের গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক কোনো বার্তা দিচ্ছে কিনা।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন আগে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, তখন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশের বিশ্বাস করতে হবে যে ভারত সরকার সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত হতে চায়।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হবে, অন্যদিকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের মতো এমন কিছু ঘটবে যা সেই ইতিবাচকতাকে নষ্ট করে দেবে—এটি কাঙ্ক্ষিত নয়।’

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে সেখানে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছে এবং আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।