ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেছেন, দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে যারা লুটপাট ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, আইনের দীর্ঘ হাত ব্যবহার করে সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরে এনে বিচার সুনিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানান, আজ সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলে ইতালীয় পুলিশের কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আমি নিজে বাঁধনের সঙ্গে কথা বলে সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছি।
মঙ্গলবার ( ৮ সেপ্টেম্বর ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবীর এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইতালির ভেনিস শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, তার স্বামী ও তাঁদের চার বছরের শিশু সন্তান পার্কে হাঁটার সময় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত ও সন্ত্রাসী ক্যাডাররা কাপুরুষোচিত উপায়ে এই হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতালির ভেনিস পুলিশ ঘটনার পরপরই দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সব ধরনের কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। হামলায় আক্রান্ত অভিনেত্রী স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন ।
তিনি বলেন, পুলিশি অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী উপায়ে বিষয়টি উত্থাপন করবে।
সংসদে নিজের সূচনার স্মরণীয় মুহূর্তে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ মূলত এ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরই এক সরাসরি আক্রমণ। বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অর্জন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর কখনোই কারও গোলামি বা তোষামোদি করবে না, বরং নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বিশ্বশান্তি ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ঐতিহাসিক অবদান রাখবে।